ঠাকুরগাঁওয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কয়েক কোটি টাকার স্থাপনা বেদখল

ঢাকা, সোমবার, ২১ মে ২০১৮ | ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫

ঠাকুরগাঁওয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কয়েক কোটি টাকার স্থাপনা বেদখল

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি ১:৩২ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০১৮

print
ঠাকুরগাঁওয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কয়েক কোটি টাকার স্থাপনা বেদখল

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঠাকুরগাঁওয়ে কোটি কোটি টাকার জমি, আবাসিক ভবনসহ বিভিন্ন স্থাপনা দেখভাল এবং রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। কিছু জমি ও আবাসিক ভবন ইতোমধ্যে বেদখল হয়ে গেছে। মাঠ পর্যায়ের সঠিক অবস্থা, সম্পত্তির অবস্থান ও বতর্মান হাল সম্পর্কে জানা নেই অনেক কর্মকর্তার।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঠাকুরগাঁও পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষন (পওর) সার্কেলের ১৪০টি আবাসিক ভবন, ৪টি রেস্ট হাউস, ১০০টি গার্ড হাউজ-খালসি হাউজ-অপারেটর সেডসহ  ২৪৪টি ভবনের মোট জমির পরিমাণ ৯৪ দশমিক ৮৯ একর। যার মধ্যে বর্তমানে কাগজে কলমে ব্যবহৃত হচ্ছে ১’শ টি ভবন। অবশিষ্ট অব্যবহৃত ১৪৪টি ভবনের বর্তমান হাল সম্পর্কে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের তেমন ধারণা নেই।  

এদিকে অব্যবহৃত সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয় ৫২ দশমিক ৮৭ একর জমি ও ভবনগুলো নিলামের মাধ্যমে অথবা প্রচলিত বিধি মোতাবেক বিক্রি করা যেতে পারে মর্মে একটি প্রস্তাবনা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পেশ করেছেন ঠাকুরগাঁও পওর সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী।

ঠাকুরগাঁও পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী অরুন কুমার সেন জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের অপারেটর সেডগুলো বিভিন্ন এলাকায় অবস্থিত। গভীর নলকুপগুলো বরেন্দ্রর কাছে হস্তান্তর করার পর থেকেই এগুলো পানি উন্নয়ন বোর্ড খোঁজ খবর নেয়না। এগুলোর বেহাল দশার কথা তিনি স্বীকার করেন।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের কয়েকজন শ্রমিক কর্মচারী জানান, অধিকাংশ অপারেটর সেড এখন বেদখল হয়ে আছে। প্রতি গভীর নলকুপের সাথে থাকা এক থেকে দেড় বিঘা পরিমাণ জমি বর্তমানে বেদখল। তারা আরও জানান, জেলার ৮৬১টি গভীর নলকুপের সাথেই সেচ নালার জন্য আছে এক দশমিক ৫ একর জমি। বরেন্দ্র কর্তৃপক্ষ মাটির নিচ দিয়ে পাইপ ব্যবহার করে সেচের পানি সরবরাহ করে বলে সেচ নালাগুলো অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে ছিল। ফলে স্থানীয় লোকজন সেচ নালার জমি সমান করে নিজ জমির সাথে মিলিয়ে নিয়েছে। এখন সেচনালার জমি আলাদা করার কোন সুযোগ নেই। অনেকে সেসব জমিতে বহুতল ভবন নির্মাণ করছেন।

উল্লেখ্য, ঠাকুরগাঁও কলোনি, ভুল্লী কলোনি, আখানগর, বড় খোচাবাড়ি, রুহিয়া, ঠাকুরগাঁও রোড, বালিয়াডাঙ্গী, নেকমরদ, রানীশংকৈল, পীরগঞ্জ এলাকায় পরিত্যক্ত, অব্যবহৃত ভবন ও জমিগুলি আছে। শুধুমাত্র বেদখল হয়ে যাওয়া জমির বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ২০ কোটি টাকা।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাধারণ শ্রমিক কর্মচারী এবং সচেতন মহল মনে করেন অবিলম্বে কোটি কোটি টাকা মূল্যের বেদখল হওয়া জমি ও স্থাপনাগুলো উদ্ধার করে বিধি মোতাবেক বিক্রি অথবা স্বল্প মেয়াদী লিজ দেওয়ার ব্যবস্থা নেয়া উচিত।

বিআইবি/এফবি/আরজি

 
.




আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad