রমজানের শেষ জুমুআ ও শরিয়া ভাবনা

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৪ আগস্ট ২০১৭ | ৯ ভাদ্র ১৪২৪

রমজানের শেষ জুমুআ ও শরিয়া ভাবনা

পরিবর্তন প্রতিবেদক ৪:৩১ অপরাহ্ণ, জুন ১৯, ২০১৭

print
রমজানের শেষ জুমুআ ও শরিয়া ভাবনা

বরকতময় মাস পবিত্র রমজান! আমাদের প্রতি আল্লাহ তাআলার অসীম অনুগ্রহ যে তিনি আমাদের রমজানের মত বরকতময় মাস দান করেছেন। রমজান এমন একটি মাস যে আল্লাহ তাআলার করুণা অঝোরে বর্ষিত হতে থাকে। আল্লাহর দয়া, অনুগ্রহ মানুষের ক্ষমা প্রত্যাশায় ব্যাকুল হয়ে ওঠে। বান্দার ক্ষমার জন্য উপলক্ষ খুজে ফিরে। এ মাসের ছোট ছোট আমলের প্রতিদানে আল্লাহর পক্ষ থেকে অসীম রহমত ও মাগফিরাতের অঙ্গীকার রয়েছে। আল্লাহ তাআলা মেহেরবানি করে আমাদেরকে রমজান মাস দান করেছেন। দিনকয়েক পরই এই বরকতময় মাসের শেষ জুমুআ।

শেষ জুমুআ ও কিছু কাল্পনিক ভাবনা
রমজান মাসের এই সর্বশেষ জুমুআ সম্পর্কে আমাদের মধ্যে কারও কারও মনে কিছু কাল্পনিক ভাবনা ও বিশ্বাস রয়েছে। আমি মনে করি, এগুলোর সংশোধন হওয়া প্রয়োজন। আমাদের সমাজে রমজানের সর্বশেষ জুমুআকে জুমুআতুল বিদা বলা হয়। এটাকে ইসলামের একটি স্বতন্ত্র ও বিশিষ্ট অনুষ্ঠান মনে করা হয়। মনে করা হয়, এরও কিছু বিধি-বিধান রয়েছে। রয়েছে স্বতন্ত্র ইবাদত-বন্দেগি। এটাও মনে করা হয়, হযরত রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজেই আমাদের এসব ইবাদত-বন্দেগির কথা বলে গেছেন। মানুষ এই দিনে ইবাদতের বিভিন্ন পথ ও পদ্ধতি আবিষ্কার করেছে। তারা মনে করে জুমুআতুল বিদার দিনে এতো এতো রাকাত নফল পড়তে হবে এবং অমুক সুরা দিয়ে পড়তে হবে।

জুমুআতুল বিদা বিশেষ কোনো অনুষ্ঠান নয়
একথা খুব ভালোভাবে মনে রাখবেন, এই জাতীয় কোনো নির্দেশনা আমাদেরকে হযরত রাসুলুল্লাহ (সা.) দান করেননি। জুমুআতুল বিদা সে হিসেবে ইসলামের কোনো অনুষ্ঠানও নয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) এর জন্য কোনো বিশেষ বিধি-বিধানও দেননি। এর জন্য কোনো বিশেষ ইবাদত কিংবা কোনো ইবাদত-পদ্ধতিও নির্দেশ করেননি। এই দিনের জন্যে বিশেষ কোনো আমল রয়েছে এমন কথাও হযরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেননি। বরং এটি অন্যান্য জুমুআর মতই একটি জুমুআ।

তবে এটাও অনস্বীকার্য সত্য যে, রমজান মাস একটি অতীব বরকতপূর্ণ মাস। এ মাসের প্রতিটি মুহূর্তই বিশেষ মর্যাদায় ভূষিত। আর রমজানের প্রতিটি জুমুআই অন্য মাসের যে কোনো জুমুআর চাইতে অধিক মর্যাদাপূর্ণ। হাদীস শরীফের ভাষ্য অনুযায়ী রমজান মাস হলো সকল মাসের সেরা মাস। আর শুক্রবার হলো সপ্তাহের সেরা দিন। সুতরাং রমজান মাসে যখন কোনো জুমুআ আসে তখন এমনিতেই তা দ্বিগুণ মর্যাদার অধিকারী হয়ে ওঠে। একদিকে রমজানের মর্যাদা অন্যদিকে জুমুআর মর্যাদা। এজন্যে রমজানের প্রতিটি জুমুআ বছরের অন্য যে কোন জুমুআর চাইতে বেশি মর্যদাপূর্ণ।

রমজানের শেষ জুমুআ: বিশেষ মর্যাদা
রমজানের সর্বশেষ জুমুআটি বিশেষভাবে এই কারণে অধিক তাৎপর্যপূর্ণ যে এই বছরে এই দিনটি আর পুনরায় ফিরে আসবে না। রমজান মাসে আমরা চার-পাঁচটা জুমুআ পেয়ে থাকি। তন্মধ্যে এটা সর্বশেষ জুমুআ। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে অনুগ্রহ করে এই নিয়ামত দান করেছেন। যদি আল্লাহ তাআলা আমাদের হায়াতকে দীর্ঘায়িত করে তাহলে হয়তো আগামী বছর পুনরায় এই নিয়ামত প্রাপ্ত হব। এজন্য মহান এই নিয়ামত হাত থেকে চলে যাচ্ছে যখন, তখন বিশেষভাবে তার কদর করা উচিত। এই বিবেচনায় যত বেশি সম্ভব আমলের মাধ্যমে এই জুমুআকে সাফল্যময় করে তোলা ঈমানের দাবি। মূলত জুমুআতুল বিদার এটাই মূল মর্ম। অন্যথায় ইসলামে জুমুআতুল বিদা নামে কোনো অনুষ্ঠান নেই।

জুমুআতুল বিদার নামে বিশেষ কোনো আমল এবং ইবাদতও নেই।
তবে যখন রমযানের সর্বশেষ জুমুআটি এসে উপস্থিত হয়, তখন মানুষের মনে দুই ধরনের চেতনা নাড়া দিয়ে ওঠে। মুমিনের মনে এই চেতনা এবং আবেদন অবশ্যই সৃষ্টি হওয়া উচিত যে, এটা আমাদের জন্যে একটা আনন্দের এবং কৃতজ্ঞতার বিষয়। কারণ আল্লাহ তাআলা অনুগ্রহ করে আমাদের এই বরকতময় মাস দান করেছেন।

এই মাসে রোজা রাখার তাওফিক দিয়েছেন। তাওফিক দিয়েছেন তারাবিহ পড়ার, কুরআন তিলাওয়াত করার। এটা শুকরিয়ার বিষয় এবং আনন্দের বিষয়। আল্লাহ তাআলার এই নিয়ামতের যতই শুকরিয়া আদায় করব আমরা তা ততই সামান্য। কারণ, আমরা তো জানি না আল্লাহ তাআলার কত বান্দা এমন আছে যারা গত বছর আমাদের সঙ্গে রোজা এবং তারাবিহতে শরিক ছিলেন, অথচ এবছর তারা শায়িত আছেন মাটির নিচে। যারা আমাদেরকে ছেড়ে পরকালের বাসিন্দা হয়েছেন, তাদেরকে যদি জিজ্ঞেস করা হয়- রমজানের একেকটি মুহূর্তের মূল্যের কথা, তখন তারা গভীর আপেক্ষের সঙ্গে একথাই বলবে, আহা! এখন যদি রমজানের কয়েকটি মুহূর্ত ফিরে পেতাম তাহলে নিজের আমলনামায় কিছু সঞ্চয় করতে পারতাম। কিন্তু তাদের সময় শেষ হয়ে গেছে। এখন আক্ষেপ ছাড়া আর কছিুই করার নেই। আল্লাহ তাআলা মেহেরবারি করে আমাদেরকে রমজানের এই বরকতপূর্ণ মুহূর্তগুলোকে দান করেছেন এটা একান্ত তারই অনুগ্রহ।

সুতরাং জুমুআতুল বিদা’র শিক্ষা এটাই- বিগত সময়গুলোর জন্য তওবা ও ইস্তিগফার করা। বর্তমান সময়ে বেশি বেশি নেক আমল করা। আল্লাহ আমাদের সকলকে বুঝতে ও আমল করার তাওফিক দান করুন।

মোহাম্মদ মাহমুদুর রহমান (লেখক, আলোচক ও গবেষক)
শায়খুল হাদিস জামিয়া ইসলামীয়া ইমদাদুল উলুম মাদরাসা, সানারপাড়
খতিব বায়তুল মামুর জামে মসজিদ, শারুলিয়া, ডেমরা

print
 
nilsagor ad

আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad