ধর্ষণের বিচার চাইতে আসা তরুণীকে চেয়ারম্যানের ধর্ষণ

ঢাকা, শুক্রবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৭ | ১ পৌষ ১৪২৪

ধর্ষণের বিচার চাইতে আসা তরুণীকে চেয়ারম্যানের ধর্ষণ

বগুড়া প্রতিনিধি ৪:৪৩ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৩, ২০১৭

print
ধর্ষণের বিচার চাইতে আসা তরুণীকে চেয়ারম্যানের ধর্ষণ

বগুড়ায় ধর্ষণের বিচার চাইতে আসা এক তরুণীকে (৩০) জেলার ধুনট উপজেলা সদর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান লাল মিয়া ধর্ষণ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ইউপি চেয়ারম্যানসহ চারজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে ভিকটিম বাদী হয়ে বগুড়ার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর আদালতে মামলাটি করেন।

.

আদালত শুনানি শেষে ওই তরুণীর অভিযোগ নিয়মিত মামলা হিসেবে নিতে ধুনট থানা পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ধুনট উপজেলার মাঠপাড়া গ্রামের লিমন হোসেনের (২০) সঙ্গে প্রায় তিন মাস আগে মোবাইল ফোনে টাঙ্গাইলের ওই তরুণীর প্রেমের সম্পর্ক হয়। গত ১৪ আগস্ট তিনি প্রেমের টানে লিমনের কাছে চলে আসেন।

লিমন ওই তরুণীকে শেরপুর উপজেলার সকাল বাজার এলাকার একটি বাসায় নিয়ে যান এবং বিয়ের কথা বলে একাধিকবার ধর্ষণ করেন। পরদিন সকালে লিমন তাকে তার নিজ গ্রাম ধুনট সদর ইউনিয়নের মাঠপাড়ায় নিয়ে যান।

এরপর ওই তরুণীকে লিমন তার গ্রামের দুই বন্ধু ইব্রাহিম হোসেন ও মুকুল হোসেনের হাতে তুলে দিয়ে পালিয়ে যান। ইব্রাহীম ও মুকুল ওই নারীকে অন্য গ্রামের একটি বাড়িতে নিয়ে ধর্ষণ করে পালিয়ে যান।

পরে ওই নারী বিচারের জন্য সন্ধ্যার দিকে সদর ইউপি চেয়ারম্যান লাল মিয়ার বাড়িতে যান। এ সময় লাল মিয়া এ অভিযোগের বিচার করবেন বলে আশ্বাস দিয়ে ওই নারীকে তার বাড়িতে রেখে ধর্ষণ করেন।

ঘটনার পরদিন সকালে ওই নারী ধুনট থানায় গিয়ে মামলা করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। শেষ পর্যন্ত ভিকটিম মঙ্গলবার দুপুরে বগুড়ার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর আদালতে ইউপি চেয়ারম্যানসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনালের ভারপ্রাপ্ত বিচারক ইমদাদুল হক ধুনট থানা পুলিশকে নিয়মিত মামলা হিসেবে নেওয়ার নির্দেশ দেন।

অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান লাল মিয়া বলেন, ‘প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে আমার বিরুদ্ধে এক নারীকে দিয়ে ধর্ষণ মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ মামলার এক নম্বর সাক্ষী ইউসুফ আলীর বিরুদ্ধে হত্যা, ডাকাতি, মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অভিযোগে থানায় ৮-১০টি মামলা রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘মাদকসহ ইউসুফ আলীকে কয়েকবার আটক করে পুলিশের হাতে সোপর্দ করেছি। ওই ইউসুফ আলীই তার ভাড়া করা এক নারীকে দিয়ে এই মিথ্যা মামলা করিয়েছে।’

ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, ধর্ষণের ঘটনায় কোনো নারী থানায় মামলা করতে আসেনি বা পুলিশকেও জানায়নি। তবে আদালত থেকে একটি ধর্ষণ মামলা থানায় এসেছে।

এএইচ/এসএফ/এমএসআই

print
 

আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad