নওগাঁর ছেলের টানে থাইকন্যা বাংলাদেশে

ঢাকা, সোমবার, ২৯ মে ২০১৭ | ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪

নওগাঁর ছেলের টানে থাইকন্যা বাংলাদেশে

নওগাঁ প্রতিনিধি ৫:০৬ অপরাহ্ণ, মে ১৮, ২০১৭

print
নওগাঁর ছেলের টানে  থাইকন্যা বাংলাদেশে

প্রেম মানে না কোনো মানা। তাইতো প্রেমের টানে সাগর-মহাসাগর পারি দিয়ে থাইল্যান্ড থেকে বাংলাদেশে ছুটে এসেছেন সুপুত্তো ওরফে ওম। ভালবেসে বিয়েও করেছেন বাংলাদেশের মোবাইল মেরামতকারী অনিক খান নামের এক যুবককে।

বুধবার বিকেলে নাটোর আদালত চত্বরে তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। এ সময় আদালত চত্বরে থাইকন্যা ও বাংলাদেশি যুবকের বিবাহ দেখতে ভিড় করেন উৎসুক জনতা। অনিক খানের বাড়ি নওগাঁর আত্রাই উপজেলার শাহাগোলা গ্রামে। অনিক খান শাহাগোলা গ্রামের আমজাদ খানের ছেলে।

বুধবার বিকেলে আদালত চত্বরে হাসিমুখে সুপুত্তো ওরফে ওম বিয়ের পর বলছিলেন, ‘আমাদের সমাজে বহু বিবাহ একটা রীতি হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমি এটা পছন্দ করি না। তাই বিয়ে করছিলাম না। হঠাৎ করে ফেসবুকে বাংলাদেশের অনিকের সাথে পরিচয় হয়। ওর সরলতা আমাকে মুগ্ধ করেছে। ধীরে ধীরে ওর প্রতি আমার আস্থা জন্মেছে। আমি ওকে ভালোবেসে ফেলেছি। ওকে শুধু আমার করে নেওয়ার জন্য বার বার এ দেশে ছুটে এসেছি। এবার সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। আমি এখন দারুণ সুখি।’

ওম জানান, তার বাড়ি থাইল্যান্ডের চো-অম জেলার পিচচোবড়ি এলাকায়। বাবা উইছাই ও মা নট্টাফ্রন। দুজনই আলাদা থাকেন ভিন্ন ভিন্ন দেশে। তিনি পড়ালেখা শেষ করে প্রথমে ব্যাংকে চাকুরী করতেন। বর্তমানে ফাস্টফুডের ব্যবসা করেন। বন্ধুবান্ধবরা সবাই বিয়ে করেছেন। তারা বহুবিবাহে আসক্ত। এটা তার ভালো লাগছিলো না। বয়স প্রায় ৩৬ বছরে দাঁড়িয়েছে। দোকানে বসে ফেসবুক ঘাঁটাঘাঁটি করতে গিয়ে বাংলাদেশের ২২ বছরের তরুণ অনিক খানকে বন্ধুত্বের প্রস্তাব পাঠান। অনিক প্রস্তাব সমর্থন করলে তাদের মধ্যে চেনাজানা শুরু হয়। ফোনে কথাবার্তাও চলতে থাকে। তারা পরস্পরকে ভালোবেসে ফেলেন।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে দেশের সীমানা পেরিয়ে বন্ধুর টানে ছুটে আসেন বাংলাদেশে। বিমানবন্দরে অনিককে দেখে তাকে আরো ভালো লাগে ওমের। অনিকের পরিবারের সাথে দেখা করে সে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। কিন্তু অনিকের পরিবার তাতে সাড়া দেয় না। তবে অনিক ও তার পরিবারের সদস্যদের আদর আপ্যায়নে সে মুগ্ধ হয়। মাত্র পাঁচদিনের ভিসা নিয়ে আসায় তড়িঘড়ি করে পুনরায় দেশে ফিরে যান। বলে যান, ছয় মাস পর আবার আসবেন। কিন্তু ছয় মাস অপেক্ষা করতে পারেননি।

চলতি মাসের প্রথম দিকে তিনি আবারও অনিকের কাছে ছুটে এসেছেন। বিয়ে করার জন্য অনিকের পরিবারের সদস্যদের হাতে-পায়ে ধরেছেন। দিনের পর দিন কান্নাকাটি করেছেন। না খেয়ে অনশন পর্যন্ত করেছেন। অবশেষে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার মাত্র একদিন আগে বুধবার তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। বর্তমানে তার নাম সুফিয়া খাতুন। বর্তমানে তারা লালপুর উপজেলার গোপালপুরের চামটা গ্রামে অনিক খানের এক আত্মীয় বাড়িতে অবস্থান করছেন।

সুফিয়া ওরফে ওম বলেন, ‘মানুষের জীবন একটা। জীবনের সঙ্গীও একটা হওয়া উচিত। যেটা আমার সমাজে নাই। আমি বিশ্বাস করি অনিক আমার জীবনে একমাত্র সঙ্গী হয়ে থাকবে। ওকে পেয়ে আমি দারুণ খুশি হয়েছি।’

এদিকে অনিক খান জানান, তার বাড়ি নওগাঁর আত্রাই উপজেলায়। পড়ালেখা তেমন একটা করেননি। তবে ভাঙ্গা ভাঙ্গা ইংরেজি বলতে ও লিখতে পারেন। সেখানে তার একটা মোবাইল মেরামতের দোকান রয়েছে। দোকানে বসে অলস সময় কাটাতে গিয়ে ফেসবুকে ওমের সাথে তার পরিচয় হয়। এখন তারা এক অপরের সাথে সবসময় যোগাযোগ না রেখে থাকতে পারেন না। ওম তাকে একটা ভালো মোবাইল ফোন সেট উপহার দিয়েছেন। তাদের উভয়ের ফোনে সবসময় ইন্টারনেট সংযোগ থাকে। তারা ভিডিও কল করে দীর্ঘসময় কথা বলেন। এভাবেই তারা পরস্পরকে গভীরভাবে ভালোবেসে ফেলেছেন।

অনিক বলেন, ‘সুফিয়া  আমার জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। আমি ওর সঙ্গে সারাজীবন থাকতে চাই।’

অনিকের বাবা আজাদ হোসেন বলেন, ‘মেয়েটি (সুফিয়া) খুব ভালো। মাত্র কদিনে সে আমাদের আপন করে নিয়েছে। আমরা গরীব মানুষ, শিক্ষিতও না। তাতে ওর কষ্ট নাই। আমাদের ছেড়ে দেশে ফিরে যাওয়ার কথা ভেবে সে সারাক্ষণ মন খারাপ করে আছে। ওর জন্য আমাদেরও কষ্ট হচ্ছে।’

বিএআর/জেআই/এমডি

print
 

আলোচিত সংবাদ