গাছগুলো কাটা কি জরুরী ছিল? (ভিডিও)
Back to Top

ঢাকা, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২০ | ২২ চৈত্র ১৪২৬

গাছগুলো কাটা কি জরুরী ছিল? (ভিডিও)

নাটোর প্রতিনিধি ৭:৪৯ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২০

সরকারি কোনো অনুমোদন ছাড়াই নাটোরের গুরুদাসপুরের একটি বিদ্যালয়ের পাঁচটি তাজা মেহগুনি গাছ কেটে ফেলেছে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি। এমন অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

ঘটনাটি ঘটেছে চাপিলা ইউনিয়নের ৪১ নম্বর চাপিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। এভাবে প্রায় ৩৫ বছরের পুরাতন গাছগুলো কেটে ফেলতে দেখছেন নীরবেই।

স্থানীয়রা বলেন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলমগীর কবির ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আব্দুর রহমানের স্বেচ্ছাচারিতাসহ ক্ষমতার দাপটে তারা এই গাছগুলো কাটছেন। তারা মনে করেন বিধি অনুসারে যৌক্তিক কারণ দেখিয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়ে সংশ্লিষ্ট বন কর্মকর্তার মাধ্যমে গাছের মূল্য নির্ধারণ করে টেন্ডার দিয়ে উম্মুক্ত ডাকের মাধ্যমে গাছগুলো কেটে বিক্রি করা দরকার ছিলো।

তবে প্রধান শিক্ষকের দাবি, অনুমতি নিয়েই বিদ্যালয়ের প্রয়োজনেই গাছগুলো কাটা হচ্ছে। আর স্থানীয় প্রশাসন বলছে বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বৃহস্পতিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বিদ্যালয়টির মাঠের পুর্বপাশের সীমানা সড়ক ঘেঁষে বেড়ে ওঠা সারিবদ্ধ পাঁচটি গাছের মধ্যে তিনটি কাটা হয়ে গেছে। আরো দুইটি কাটায় ব্যস্ত রয়েছেন নিযুক্ত শ্রমিকরা। আর পাশেই দাঁড়িয়ে তদারকি করছেন প্রধান শিক্ষক আলমগীর কবীর।

ওই বিদ্যালয়ের প্রাক্তণ ছাত্র শাহজাহান মোল্লা ও অভিভাবক সদস্য রুহুল আমিন বলেন, ৮৫ সালের দিকে তাদের অন্য সহপাঠীদের নিয়ে গাছগুলো পার্শ্ববর্তী মৌখাড়া হাট থেকে কিনে এনে বিদ্যালয় মাঠে রোপন করেছিলেন তারা। সময়ের সাথে সাথে গাছগুলো বেড়ে পরিপক্ক হয়ে ওঠেছে। এতে পরিবেশ ও বিদ্যালয়ের সোন্দর্য্য বৃদ্ধি হয়েছিল। কিন্তু সকালে হঠাৎ করেই প্রধান শিক্ষকের কথায় গাছগুলো কাটতে শুরু করে শ্রমিকরা।

গাছগুলোতে কুঠারের আঘাত পড়ায় এলাকার ওই মানুষগুলোর হৃদয়ে আঘাত পড়ছে বলে মনে করেন তারা।

এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক আলমগীর কবীর দাবি করেন, বিদ্যালয়ের একটি বহুতল ভবন নির্মানের গাছগুলো বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলো। বিদ্যালয়ের উন্নয়নের জন্য গাছগুলো কাটা হয়েছে।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও চাপিলা ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নম্বর ওর্য়াডের মেম্বার (ইউপি সদস্য) আব্দুর রহমান বলেন, বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করে উত্তর দেই।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তমাল হোসেন বলেন, সরকারিবিধি অনুসরণ না করেই বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ গাছগুলো কেটেছেন এমন কথা তিনি শুনেছেন। এ ব্যাপারে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পেলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

বিএল/এএসটি

 

সমগ্রবাংলা: আরও পড়ুন

আরও