পাবনায় প্রশিক্ষণের নামে প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের নাচ-গান! (ভিডিও)
Back to Top

ঢাকা, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২০ | ২৫ চৈত্র ১৪২৬

পাবনায় প্রশিক্ষণের নামে প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের নাচ-গান! (ভিডিও)

পাবনা প্রতিনিধি ৬:২৪ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২০

পাবনার চাটমোহরে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আশরাফুল আলমের বিরুদ্ধে উচ্চস্বরে মাইকে গান বাজনা ও নাচানাচি করে বিশৃংখলা সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে। প্রশিক্ষণের নামে দিনের পর দিন শিক্ষা অফিসারের এমন কাণ্ডে বিরক্ত ও ক্ষুব্ধ হয়ে শাস্তির দাবী করেছে এলাকাবাসী ও পার্শ্ববর্তী স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার দুপুরে সরেজমিনে, পাবনার চাটমোহর পৌর শহরের জিরো পয়েন্ট এলাকায় উপজেলা রিসোর্স সেন্টার (ইউআরসি) ভবনে গিয়ে দেখা যায় সাউন্ডবক্সে উচ্চস্বরে বাজছে হিন্দি গান। সঙ্গে চলছিল নাচানাচিও। একই সময়ে ইউআরসি কার্যালয়ের পাশেই চাটমোহর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান চলছিল। উচ্চস্বরের এমন গানের শব্দে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ব্যাঘাত হলেও কিছু বলার উপায় ছিল না। কারণ সেখানে নাচ-গান করছিলেন খোদ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আশরাফুল ইসলামসহ সহকারী শিক্ষা অফিসারগণ। সাথে নৃত্যে মেতেছিলেন কয়েকজন নারী শিক্ষকও।

তবে হঠাৎই গণমাধ্যম কর্মীদের ওই ভবনে প্রবেশ করতে দেখে সাথে সাথে বন্ধ হয়ে যায় গান-বাজনা ও নাচানাচি।

নাচানাচির কারণ জানতে চাইলে তারা জানালেন, বিষয় ভিত্তিক বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়ের ওপর ৬ দিনের প্রশিক্ষণ চলছে সেখানে। প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবেই গত কয়েক মাস ধরে ইউআরসি ভবনে চলছে গান-বাজনা ও নাচানাচি।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ডিসেম্বর মাস থেকে ইউআরসি ভবনে শুরু হয়েছে বিষয় ভিত্তিক প্রশিক্ষণ। এতে অংশ নিচ্ছেন উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকরা। সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলে এই প্রশিক্ষণ। কিন্তু প্রশিক্ষণ চলাকালীন সেখানে দলবল নিয়ে হাজির হয়ে থাকেন শিক্ষা অফিসার আশরাফুল ইসলাম, সহকারী শিক্ষা অফিসার কামরুল ইসলাম, ফরিদুজ্জামান, আনোয়ার হোসেন এবং সহকারী ইনস্ট্রাকটর কল্যাণ কুমার।

শুধু তারাই নয়, এতে আরো সামিল হন শিক্ষা অফিসারের পছন্দের আরো বেশ কয়েকজন প্রধান শিক্ষক। কোনো নিয়মনীতি না মেনে প্রতিদিনই শুরু হয় উচ্চস্বরে সাউন্ডবক্সে গান। যারা নাচ-গান করতে পারে না তাদের প্রশিক্ষণে নাম দেন না শিক্ষা অফিসার মো. আশরাফুল ইসলাম-এমন অভিযোগ অনেকের। এ নিয়ে আশেপাশের বাসিন্দারাও ক্ষুব্ধ। স্থানীয়রা বেশ কয়েকবার প্রতিবাদ করলেও কোনও লাভ হয়নি।

শিক্ষার্থী এবং স্থানীয়দের অসুবিধার কথা স্বীকার করে সহকারী প্রশিক্ষক কল্যাণ কুমার সরকার বলেন, গান করার নিয়ম আছে। তবে নাচানাচি করার সুযোগ নেই। তাহলে কেন নাচানাচি হয় এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এটা করা ঠিক হয়নি। তবে শিক্ষা অফিসার স্যার থাকেন তো। সেখানে কিছু বলা যায় না।

কর্মকর্তাদের এমন আচরণে ক্ষুব্ধ ইনস্ট্রাকটর মো. মাহমুদুল হাসানও। তিনি প্রতিবাদ করলেও প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের সাথে পেরে ওঠেন না। তিনি বলেন, যারা এসব করে তাদেরকে বহুবার বারণ করা হয়েছে। কিন্তু তারা কেউ শোনেন না।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, গত কয়েকদিন আগে আমার বাবা অসুস্থ ছিলেন। তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত। ইউআরসি ভবন থেকে উচ্চস্বরে গানের আওয়াজ আসায় অসুস্থ বাবার সমস্যা হচ্ছিল। এছাড়া পাশের স্কুলের শিক্ষার্থীদেরও পড়াশোনায় ব্যাঘাত হয়। তাই বারণ করতে গিয়ে নানা কথা শুনতে হয়েছে। যা সত্যিই দুঃখজনক। একজন প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার হয়ে কীভাবে এমন করেন তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, ট্রেনিংয়ের কার্যক্রম হিসেবে গান করা হয়। আর গানের তালে তো একটু নাচানাচি হয়ই। তবে ইউআরসি ভবন এবং স্কুলটি একসাথে হওয়ার কারণে শিক্ষার্থীদের কিছু সমস্যা হয়। তাই বলে তো আর ট্রেনিং বন্ধ করা যায় না। তবে এরপর থেকে বিষয়গুলো মেনে চলা হবে।

আরজে/এএসটি

 

সমগ্রবাংলা: আরও পড়ুন

আরও