ব্যাংকের সাড়ে তিন কোটি টাকা চুরি করে জুয়া খেললেন কর্মকর্তা

ঢাকা, সোমবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ৪ ফাল্গুন ১৪২৬

ব্যাংকের সাড়ে তিন কোটি টাকা চুরি করে জুয়া খেললেন কর্মকর্তা

রাজশাহী ব্যুরো ৫:১২ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৯, ২০২০

ব্যাংকের সাড়ে তিন কোটি টাকা চুরি করে জুয়া খেললেন কর্মকর্তা

প্রিমিয়ার ব্যাংক রাজশাহী শাখার ক্যাশ ইনচার্জ শামসুল ইসলাম ফয়সাল জুয়া খেলার জন্য ভল্ট থেকে প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা চুরি করেছিলেন।

বুধবার দুপুরে মহানগর মুখ্য হাকিম আদালতে হাজির করা হলে অনলাইনে জুয়া খেলার জন্যই এ টাকা চুরির কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন তিনি।

তিন দিনের রিমান্ড শেষে ফয়সাল স্বীকারোক্তি দিতে রাজি হলে তাকে আদালতে হাজির করা হয়।

মহানগর পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত উপ-কমিশনার গোলাম রুহুল কুদ্দুস বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ফয়সাল ব্যাংকের টাকা দিয়ে নিজের নামে সুবর্ণভূমি আবাসিক এলাকায় প্লট ও বাকি টাকা দুই বন্ধুকে ধার দিয়েছেন বলে প্রথমে জানিয়েছিলেন। কিন্তু পরে রিমান্ডে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেন প্রায় দুই বছর আগে বীট-৩৬৫ অ্যাপসের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক জুয়াড়ী চক্রের সাথে জড়িয়ে ব্যাংকের ভোল্ট থেকে টাকা নিয়ে জুয়া খেলে হেরেছেন।

ব্যাংকের ওই শাখার ভোল্টে সব সময় প্রায় ১৫ কোটি টাকা থাকতো। পেছনের লাইন থেকে টাকাগুলো সরাতেন। এতে করে ব্যাংকের কোনো কর্মকর্তার সন্দেহ হতো না। ক্যাশ ইনচার্জ হিসেবে তিনিই দৈনিক টাকার হিসাব রাখতেন। খাতা-কলমে টাকার কোনো গড়মিল ছিল না। তবে গত ২৩ জানুয়ারি ভোল্টের সমস্ত টাকা গণনার পর ৩ কোটি ৪৫ লাখ টাকা কম পাওয়া যায়। এসময় তিনি টাকা সরানোর কথা স্বীকার করেন। প্রথমে তিনি বলেন, টাকাগুলো তার দুই বন্ধুকে এবং তার ব্যবসার একটি প্রকল্পের কিন্তি দিয়েছেন। টাকাগুলো ফেরত দেয়ার জন্য সময় চান। তবে তার কথায় সন্দেহ হলে ওই রাতেই তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেয় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। পরে প্রিমিয়ার ব্যাংকের জোনাল ম্যানেজার সেলিম রেজা খান বাদি হয়ে বোয়ালিয়া থানায় টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে তার বিরুদ্ধে মামলা করেন।

এদিকে, ফয়সালের টাকা আত্মসাতের ঘটনা তদন্তে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় থেকে উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহ্ আলমের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করেছেন। কমিটির প্রধান সংবাদিকদের জানান, এই টাকা আত্মসাতের ঘটনায় ফয়সাল একাই নাকি ব্যাংকের আরো কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী জড়িত আছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে ভোল্টে টাকা সংরক্ষণ প্রক্রিয়ায় অন্তত দুই জন কর্মকর্তার স্বাক্ষর থাকে। এক্ষেত্রে কী হয়েছে তাও দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

বিএইচ/এএসটি

 

সমগ্রবাংলা: আরও পড়ুন

আরও