পাবনায় যুবককে আসামিদের হাতে ছেড়ে পালাল পুলিশ!
Back to Top

ঢাকা, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২০ | ১৬ চৈত্র ১৪২৬

পাবনায় যুবককে আসামিদের হাতে ছেড়ে পালাল পুলিশ!

পাবনা প্রতিনিধি ৬:৩৭ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২১, ২০২০

পাবনায় যুবককে আসামিদের হাতে ছেড়ে পালাল পুলিশ!

এবার ধর্ষণ মামলায় তদন্তে সহায়তা করা যুবককে অভিযুক্ত আসামিদের হাতে তুলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পাবনায় কতিপয় পুলিশের বিরুদ্ধে।

গত শুক্রবার সন্ধ্যায় জেলার মালিগাছা ইউনিয়নের গাছপাড়ায় যুবক আব্দুল আলীম (৩৫)কে আসামিদের দুর্বৃত্তরা লোহার রড ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করে।

ওই যুবক পৌর এলাকার নুরপুর মহল্লার মৃত আয়নুল হকের ছেলে।

হামলার ঘটনায় ফাঁস হওয়া সিসিটিভি ফুটেজে সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) খাইরুল ইসলাম ও একজন সিপাহীকে ঘটনাস্থলে দেখা গেছে। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চেয়েছে ভুক্তভোগীর পরিবার।

উদ্বেগ জানিয়েছেন মানবাধিকার কর্মীরাও।

আহত আব্দুল আলীম জানান, মালিগাছা ইউনিয়নের একটি ধর্ষণ মামলার তদন্তের বিষয়ে কথা বলতে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় তাকে মোবাইল ফোনে ডেকে নেন সদর থানার ওসি তদন্ত খাইরুল ইসলাম। এ সময় সেখানে আগে থেকেই অবস্থান করছিল একদল দুর্বৃত্ত।

তিনি দাবি করে বলেন, কিছুক্ষণ কথোপকথনের পরেই ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি মালিগাছা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম শরিফের ছোট ভাই আরিফুল ইসলামের দুর্বৃত্ত বাহিনী আমার উপর হামলা চালায়। পরে ঘটনাস্থলের পার্শ্ববর্তী একটি দোকানের সিসিটিভির ফুটেজে মারপিটের সময় পুলিশের ওসি তদন্ত খাইরুল ইসলাম ও একজন সিপাহীকে দ্রুত বের হয়ে চলে যেতে দেখা যায়।

আলীম অভিযোগ করেন, হামলার সময় নিরপত্তা বা উদ্ধারে কোন ব্যবস্থা না নিয়েই সাথে থাকা সিপাহীকে নিয়ে পালিয়ে যান পুলিশ কর্মকর্তা খাইরুল।

দুর্বৃত্তরা চলে গেলে স্থানীয়রা আলীমকে উদ্ধার করে পাবনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। অবস্থার অবনতি হলে তাকে শুক্রবার রাতেই রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। অবস্থার কিছুটা উন্নতি হওয়ায় সোমবার রাতে তাকে পুনরায় পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। বর্তমানে আহত আব্দুল আলীম সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এ বিষয়ে আহত আব্দুল আলীমের মা আলেয়া খাতুন কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, আমার ছেলেকে পুলিশ ডেকে নিয়ে সন্ত্রাসীদের হাতে তুলে দেয়। সন্ত্রাসীরা পিটিয়ে জখম করেন। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে বিচার দাবী করছি।

ভুক্তভোগী আলীমের স্ত্রী রুমা খাতুন বলেন, অপরাধীদের হাত থেকে যদি নিরাপত্তাই না দিতে পারে তবে, পুলিশ কেন আলীমকে ডেকে বিপদে ফেলল। পুলিশের সাথে সন্ত্রাসীদের নিশ্চয়ই যোগসাজশ ছিল।

এ ব্যাপারে মানবাধিকারকর্মী মুজতবা আব্দুল আহাদ উদ্বেগ জানিয়ে বলেন, পুলিশের উপস্থিতিতে কোন ব্যক্তির হামলার শিকার হওয়া অপ্রত্যাশিত। এক্ষেত্রে পুলিশ কর্মকর্তা হামলায় ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন। এমন অদক্ষ কিংবা অসৎ কিছু পুলিশ কর্মকর্তার কাজ পুরো বিভাগকে বিতর্কিত করে। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা না নিলে অপরাধীরা আরো উৎসাহিত হবে।

এ ব্যাপারে ওসি তদন্ত খাইরুলের বক্তব্য নিতে তার কার্যালয়ে গেলে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।

তবে পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস হামলার ঘটনাকে আকস্মিক ও অনাকাঙ্খিত দাবি করে বলেন, তদন্তকারী কর্মকর্তার গাফিলতি আছে কি-না বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তিনি জানান, ইতিমধ্যেই অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গোয়েন্দা) শামিমা আকতারকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এদিকে, গত সোমবার রাতে আহত আব্দুল আলীমের স্ত্রী রুমা খাতুন বাদী হয়ে দশ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরো ১০/১৫ জনের বিরুদ্ধে সদর থানায় মামলা দায়ের করলে পুলিশ দুই জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এসবি

 

সমগ্রবাংলা: আরও পড়ুন

আরও