স্বজনদের ফেলে যাওয়া বৃদ্ধার পাশে ‘দি বার্ড সেফটি হাউস’
Back to Top

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২০ | ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

স্বজনদের ফেলে যাওয়া বৃদ্ধার পাশে ‘দি বার্ড সেফটি হাউস’

এইচ এম আলমগীর কবির, সিরাজগঞ্জ ৭:৩০ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২০, ২০২০

স্বজনদের ফেলে যাওয়া বৃদ্ধার পাশে ‘দি বার্ড সেফটি হাউস’

অজ্ঞাতপরিচয় (৬০) বছরের এক বৃদ্ধাকে সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা বাজার নদীর পাশের একটি পরিত্যক্ত স্থানে প্রায় তিন মাস আগে ফেলে রেখে যায় তার স্বজনেরা। রক্তের সম্পর্ক যখন বিশ্বাসঘাতকতা করে ঠিক তখনই সামনে এসে দাঁড়ায় মানবতা। অসহায় এই বৃদ্ধার পাশে এসে দাঁড়ালেন দি বার্ড সেফটি হাউসনামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরা। বৃদ্ধাকে উদ্ধার করে ভর্তি করালেন সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে।

সোমবার ওই বৃদ্ধার শারিরীক অবস্থার উন্নতি হয়েছে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

‘দি বার্ড সেফটি হাউস এর সভাপতি মামুন বিশ্বাস ও তার সহযোগী লোকমান হোসেন গত শনিবার ওই বৃদ্ধাকে উদ্ধারের পর হাসপাতালে ভর্তি করেন। গতকাল রোববার তার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে। চিকিৎসার পাশাপাশি স্বজনদেরও সন্ধানের চেষ্টা করছে সংগঠনটি।

সলঙ্গা অনলাইন প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা জানান, তিন মাস আগে রাতের আঁধারে অসুস্থ এ বৃদ্ধাকে নদীর পাশের একটি পরিত্যক্ত স্থানে ফেলে রেখে যায় তার স্বজনরা। গুরুতর অসুস্থ এই বৃদ্ধা চলাফেরা করতে পারেন না এবং কোনো কথাও বলতে পারছিলেন না। এ কারণে তার নাম-পরিচয় বা স্বজনদের ঠিকানাও জানা যায়নি। এরপর থেকে স্থানীয়রা তাকে খাবার দিয়ে বাঁচিয়ে রেখেছেন। প্রচণ্ড শীতে খোলা জায়গায় কষ্ট পাচ্ছিলেন দেখে এলাকাবাসী একটি পলিথিনের ছাউনি তৈরি করে দেন। কনকনে ঠাণ্ডায় কিছু খড় ও পুরোনো কম্বল মুড়িয়ে পড়েছিলেন এই বৃদ্ধা।

বিষয়টি স্থানীয় ফেসবুক গ্রুপ বর্ণচ্ছটার নজরে আসে। এরপর তারা শাহজাদপুরের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘দি বার্ড সেফটি হাউস’কে অবগত করলে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

‘দি বার্ড সেফটি হাউস’ এর সভাপতি মামুন বিশ্বাস বলেন, স্থানীয় সাংবাদিক সোহেল রানা ও বর্ণচ্ছটা সংগঠনের মাধ্যমে ওই বৃদ্ধার বিষয়টি আমাকে জানানো হয়। খবর পেয়ে শনিবার সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে গোসল করাই। এরপর নতুন পোশাক পরিয়ে অ্যাম্বুলেন্সযোগে তাকে সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. রোকনুজ্জামান বলেন, বয়সের ভারে ন্যুব্জ এ বৃদ্ধা মানসিক বিকারগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। তিনি কথা বলতে পারছেন না এবং ঠিকমতো চলাফেরাও করতে পারছেন না। বেশ কিছু পরীক্ষা দেয়া হয়েছে। পরীক্ষার পর তার শারীরিক কন্ডিশন একটু ভাল মনে হচ্ছে।

এএসটি/ 

 

: আরও পড়ুন

আরও