তৃণমূলের মানুষকে সেবা দিতে পাবনা জেলা প্রশাসকের ব্যাতিক্রমী উদ্যোগ

ঢাকা, বুধবার, ২৯ জানুয়ারি ২০২০ | ১৬ মাঘ ১৪২৬

তৃণমূলের মানুষকে সেবা দিতে পাবনা জেলা প্রশাসকের ব্যাতিক্রমী উদ্যোগ

পাবনা প্রতিনিধি ১০:৩৯ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ১১, ২০১৯

তৃণমূলের মানুষকে সেবা দিতে পাবনা জেলা প্রশাসকের ব্যাতিক্রমী উদ্যোগ

কারো জমি আছে ঘর নেই, কারো প্রয়োজন বয়স্ক কিংবা বিধবা ভাতা, কেউবা দূর্ঘটনায় পোড়া ঘর মেরামতে চান সরকারী সহযোগীতা। এমন নানা অভাব অভিযোগ নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের  ডিজিটাল সেন্টার থেকে পাবনার প্রত্যন্ত গ্রামের মানুষেরা ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হচ্ছেন জেলা প্রশাসকের সঙ্গে। বিপরীত প্রান্তে জেলা প্রশাসকের চেষ্টা থাকছে সমস্যা সমাধানের।

তৃণমূলের প্রত্যন্ত এলাকার মানুষকে সরাসরি সেবা দেয়ার ব্যতিক্রমী কর্মসূচী হাতে নিয়েছে পাবনা জেলা প্রশাসন। পাবনা জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদের পরিকল্পনায় তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহারে প্রতি বুধবার সকালে কানেকটিং এভ্রিওয়ান নামের এই কর্মসূচিতে জেলা প্রশাসক যুক্ত হচ্ছেন প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের সাথে, শুনছেন অভাব, অভিযোগ, দিচ্ছেন সমাধানও।

উদ্যোক্তারা জানালেন, সাধারণ মানুষের অভাব অভিযোগ শুনতে প্রতি বুধবার গণশুনানিতে জেলা প্রশাসক সাক্ষাৎ দিলেও, তাতে প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের অংশ নেয়া ছিল কষ্টসাধ্য। সদরের বাইরের মানুষের জন্য তা ব্যয়বহুলও বটে। এমন বাস্তবতায় তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় জেলা প্রশাসকের সাথে সরাসরি যোগাযোগে প্রশাসনের এমন উদ্যোগে খুশি তৃণমূলের সেবা প্রার্থীরাও।

পাবনা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জয়নাল আবেদীন জানান, কানেকটিং এভ্রিওয়ান কর্মসূচিতে ইউনিয়ন পরিষদের ডিজিটাল সেন্টারের মাধ্যমে জেলার যে কোন প্রান্তের মানুষ জেলা প্রশাসকের কাছে তার অভাব, অভিযোগ, সমস্যার কথা তুলে ধরতে পারছে। আমরা ইতোমধ্যেই এই কার্যক্রম শুরু করেছি, জনগণের দারুন সাড়াও পাওয়া যাচ্ছে।

এই প্রক্রিয়ায় গণশুনানিতে জেলা প্রশাসকের উপস্থিতিতে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, ইউপি চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষ উপস্থিত থাকছেন, ফলে সমস্যার দ্রুত সমাধান হচ্ছে। জবাবদিহিতাও নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে।

পাবনা আতাইকুলা ইউপির ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তা শরিফুল ইসলাম জানান, ভিডিও কনফারেন্সে জেলা প্রশাসক স্যার গনশুনানি শুরু করার পর, প্রতি বুধবারেই নানা সমস্যা নিয়ে হাজির হচ্ছে। বিশেষ করে বয়স্ক এবং নারীরা এসে সরাসরি সমস্যার কথা তুলে ধরেছেন যাদের পক্ষে কখনোই জেলা প্রশাসক স্যারের সাথে শহরে গিয়ে কথা বলা সম্ভব নয়।

সরেজমিনে বুধবার আতাইকুলা ইউনিয়ন পরিষদের ডিজিটাল সেন্টারে গিয়ে দেখা যায় নারী পুরুষ মিলিয়ে ২৮ জন এসেছেন জেলা প্রশাসকের সাথে ভিডিও কনফারেন্সে কথা বলতে। কুচিয়ামোরা গ্রামের ৭৫ বছর বয়সী বৃদ্ধ আব্দুল মান্নান এসেছেন, জমি আছে ঘর নাই প্রকল্প থেকে একটি ঘর নির্মানের অনুরোধ নিয়ে। তার আবদার শুনে তাৎক্ষণিক জেলা প্রশাসক ঘর নির্মাণের নির্দেশনা দেয়ায় খুশিতে কেঁদে ফেলেন তিনি।

ধর্মগ্রাম থেকে আসা রহিমা বেগম চাইলেন বিধবা ভাতা কার্ড। উপস্থিত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে ভিডিও কনফারেন্সেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিলেন। পুড়ে যাওয়া ঘর পুননির্মানে টিন চাইলেন আবু হুমায়রা। নাম ঠিকানা লিখে রেখে জেলা প্রশাসক তাকে নিজ কার্যালয়ে দেখা করতে বললেন ।

এ প্রসঙ্গে পাবনা জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদ বলেন, একজন সেবা প্রত্যাশী পাবনার প্রত্যন্ত এলাকা থেকে আমার সাথে দেখা করতে আসলে তার কমপক্ষে আটশ থেকে এক হাজার টাকা খরচ হয়ে যায়। সেই সাথে তার কর্মদিবসও নষ্ট হয়। অনেক সময় এতদূর এসেও সমস্যার সমাধান হয় না। এই ভোগান্তি দূর করতেই আমাদের কানেকটিং এভ্রিওয়ান। বর্তমানে আমাদের ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারগুলোতে যথেষ্ট শক্তিশালী ইন্টারনেট সংযোগ আছে। সেখান থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রাথমিক ভাবে সদর উপজেলায় এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে ছড়িয়ে দেয়া হবে সকল উপজেলায়।

জেলা প্রশাসক আরো বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশের বাস্তবতায় কানেকটিং এভ্রিওয়ানের মডেল সারাদেশে ছড়িয়ে দেয়া গেলে প্রশাসন হবে জনমুখী, জনবান্ধব। সরকারের কল্যাণমুখী উদ্যোগের সুফল পাবে প্রত্যন্ত গ্রামের মানুষ।

আরআরই/এফএ

 

রাজশাহী: আরও পড়ুন

আরও