অনিয়ম-অব্যবস্থাপনায় ভরপুর আটঘরিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২০ | ১৫ মাঘ ১৪২৬

অনিয়ম-অব্যবস্থাপনায় ভরপুর আটঘরিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

পাবনা প্রতিনিধি ১১:২৯ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১০, ২০১৯

অনিয়ম-অব্যবস্থাপনায় ভরপুর আটঘরিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

প্রায় দুই লাক্ষাধিক মানুষের একমাত্র চিকিৎসা সেবার ভরসা আটঘরিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চলে চরম অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে স্বাস্থ্য সেবা হুমকির মুখে পরেছে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক ও কর্মচারী সংকটে ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসা সেবা।

এমনকি এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেই কোনো ধরনের অপারেশনের ব্যবস্থা, নেই এক্স-রে মেশিন ও রোগীদের রোগ নির্ণয়ে প্রাথমিক সেসব পরীক্ষা অত্যাবশক তার কোনো ব্যবস্থা। যা আছে তাও অপ্রতুল। ফলে চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত উপজেলাবাসী। সেবা নিতে আসা রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ ডাক্তার সময়মত আসেন না। ফলে চিকিৎসা সেবা না পেয়ে হন্য হয়ে হাসপাতাল থেকে ফিরে যাচ্ছে রোগী।

অভিযোগ, এসবের পেছনে রয়েছে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো: রফিকুল ইসলাম।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, আটঘরিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন ধরে চলছে চরম অনিময়, অব্যবস্থাপানা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও এলাকাবাসীকে ধোঁকা দিয়ে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে অনিয়ম করছে হাসপাতালের কর্মরত চিকিৎসকেরা। সকাল থেকে একটা পর্যন্ত ৩ জন এমবিবিএস আর ৬ জন সেকমো দিয়ে চলে আসছে হাসপাতালের স্বাস্থ্য সেবা। এরপরে সেকমো ছাড়া কোনো ডাক্তার থাকে না। ইন্ডোর-আউটডোর চালে সেমকো বা মেডিকেল এ্যাসিসটেন্ট দিয়ে। তবে হাপতালের ইমারজেন্সিতে সেকমোদের সিন্ডিকেট সবসময় কাজ করে থাকে।

অডিট খরচের কথা বলে প্যাথলোজিতে রোগীদের থেকে ২০/৩০ টাকা করে নেওয়া হয়ে বলে রোগীদের অভিযোগ। টেকনোলজিস্ট জিল্লুর রহমান প্যাথলোজিতে প্রাইভেট টাকা নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দেন। হাসপাতালে দির্ঘদিন যাবৎ এক্স-রে, ইসিজি মেশিন অকেজো হয়ে পড়ে রয়েছে। হাসপাতালে ইউজিার ফি চালু না হতেই আলট্রাসনোগ্রাম বাবদ ২২০ টাকা আলট্রা করে ইনকাম করা হয় বলে রোগিদের আরোও অভিযোগ।

অভিযোগ, গত ১৭ নভেম্বর হাসপাতালের স্টাফরাই আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন সরিয়ে রেখে চুরি হওয়ার প্রচার চালিয়ে মানুষ ও প্রশাসনকে তারা বোকা বানানো চেষ্টা চালায়। পরে চাপের মুখে চুরি যাওয়া আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন স্টাফরাই রাতের আধারে হাসপাতালের এ্যাম্বুলেন্সের গাড়িতে এনে রাখার সময় হাতে নাতে গ্রেপ্তার হয় দুইজন।

এবিষয়ে উপজেলা সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার জহুরুল হক জানান, ডাক্তার, যন্ত্রপাতি সংকট থাকার কারণেই স্বাস্থ্য সেবা মারাত্বক আকার ধারন করেছে। কিন্তু বাস্তবে রোগীরা স্বাস্থ্য সেবা পাচ্ছে না।

বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সু-দৃষ্টি দেওয়া দরকার বলে মনে করেন তিনি।

আটঘরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র শহিদুল ইসলাম রতন জানান, প্রতিদিন রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে। হাসপাতালে চিকিৎসক, নার্স যন্ত্রপাতিসহ নানান সংকটের কারণে হাসপাতালটিতে চিকিৎসা সেবা চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা কোনো সেবা না পেয়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছে।

আটঘরিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান তানভীর ইসলাম জানান, প্রায় দুই লাখ মানুষের একমাত্র চিকিৎসা ভরসা আটঘরিয়া হাসপাতাল। একটি পৌরসভা ও পাঁচটি ইউনিয়ন ও পার্শ্ববতী উপজেলা থেকেও রোগিরা সেবা নিতে আসে।

তবে এই হাসপাতালে চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া অতি জরুরি বলে মনে করেন তিনি।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জানান, ১৩৬টি মঞ্জুরিকৃত পদের মধ্যে ৪১টি পদ শূন্য রয়েছে। পুরুষ কর্মরত পদ রয়েছে ৫৮ জন, মহিলা কর্মরত পদ রয়েছে ৩৭ জন, এর মধ্যে ১৫ জন ডাক্তারের মঞ্জুরিকৃত পদ পদের মধ্যে ৪ জন পুরুষ ও ১ জন মহিলা ডাক্তার কর্মরত আছেন।

প্রথম, তৃতীয়, চতৃর্থ শ্রেণির লোকবল নেওয়ার বিষয়টি ঊধর্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। একারণেই সাধারণ রোগীদের সেবা দিতে সমস্যা হচ্ছে। তবে অনতিবিলম্বে এ সমস্যা সমাধান হবে।

 

রাজশাহী: আরও পড়ুন

আরও