মুক্তিযোদ্ধার জমিতে আনসারের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র!

ঢাকা, রবিবার, ২৬ জানুয়ারি ২০২০ | ১৩ মাঘ ১৪২৬

মুক্তিযোদ্ধার জমিতে আনসারের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র!

পাবনা প্রতিনিধি ৬:৩০ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ০৭, ২০১৯

মুক্তিযোদ্ধার জমিতে আনসারের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র!

পাবনার ঈশ্বরদীতে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের জমি জোরপূর্বক দখল করে আনসার- ভিডিপির প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী মুক্তিযোদ্ধার দাবী, উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া তার পারিবারিক জমিতে স্থাপনা নির্মাণে আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা অমান্য করে নির্মাণ কাজ শেষ করেছে আনসার- ভিডিপি কর্তৃপক্ষ ।

তিনি প্রধামন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আবেদন জানিয়ে বলেন, আমার জমি ফিরে পেতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

মুক্তিযোদ্ধা আহমদ সরদার জানান, তাঁর পিতা মৃত মনছের সরদার ঈশ্বরদী উপজেলার মানিকনগর গ্রামে ১৯৫১ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর হরেন্দ্রনাথ সরকার নামের এক ব্যক্তির নিকট থেকে জয়নগর মৌজায় ২৬২৫ দাগের ২.৪৯ একর জমি কেনেন। যার দলিল নম্বর ৪৯৮৬। জমি ক্রয়ের পর তিনি এই জমিতে চাষাবাদ করতেন। মুক্তিযোদ্ধার পরিবার ১৯৮১ সাল পর্যন্ত স্থানীয় ভূমি অফিসে জমির খাজনাও দিয়েছেন।

তিনি জানান, পিতা মনছের সরদারের মৃত্যুর পর মুক্তিযোদ্ধা আহমদ সরদারও হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে পক্ষাঘাতগ্রস্থ হয়ে পড়ায় চাষাবাদের অভাবে জমিটি পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে। এই সুযোগে জমিটি আনসার ও ভিডিপি কর্তৃপক্ষ নিজ নামে রেকর্ড করে নেয়।

পরে আহমদ সরদার জমি ফিরে পেতে আদালতের শরনাপন্ন হন। তবে মামলা নিষ্পত্তি হবার আগেই আনসার কর্তৃপক্ষ সীমানা প্রাচীর দিয়ে সেখানে স্থাপনা নির্মাণ শেষ করেছে। এমনকি স্থানীয় আনসার-ভিডিপির পক্ষ থেকে মামলা তুলে নিতে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

আহমদ সরদার আরও জানান, ১৯৬৫ সালে পাক-ভারত যুদ্ধের সময় এই জমিতে আনসাররা বাবার অনুমতি নিয়ে অস্থায়ী প্রশিক্ষণ ক্যাম্প করে। মুক্তিযুদ্ধের পরে মাঝে মাঝে তারা এই জমি প্রশিক্ষণের কাজে ব্যবহার করেছে। তবে কোন আর্থিক চুক্তি ছিল না। মুক্তিযুদ্ধের পরে তিনি অসুস্থ থাকায় এবং পরিবারের সদস্যরা অশিক্ষিত ও নাবালক হওয়ায় জমি জমা সংক্রান্ত বিষয়ে খোঁজ খবর করতে পারেন নি।

শারিরিকভাবে সুস্থ হবার পর আহমদ সরদার ও তার পরিবারের সদস্যরা জমির খাজনা দিতে গেলে জানতে পারেন জমিটি আনসার ও ভিডিপির নামে রেকর্ড হয়েছে।

এদিকে, জমি ফিরে পেতে চলতি বছরের ১৪ মে জেলা জজ আদালতে মামলা দায়ের করেন আহমদ সরদার। সেই মামলা এখনো নিষ্পত্তি হয়নি। এরই মাঝে আনসার কর্তৃপক্ষ জমিটিতে সীমানা নির্মাণ করে একতলা ভবন নির্মাণ করেছে।

পাবনা জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদ বলেন, মুক্তিযোদ্ধা আহমদ সরদারের জমির বিষয়টি আমি মামলা হওয়ার সুত্রে জেনেছি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

আরআরআই/এসএস

 

রাজশাহী: আরও পড়ুন

আরও