ডিজিটাল পোস্ট অফিসের কার্যক্রম চলছে ফলের দোকানে

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৩০ জানুয়ারি ২০২০ | ১৬ মাঘ ১৪২৬

ডিজিটাল পোস্ট অফিসের কার্যক্রম চলছে ফলের দোকানে

নওগাঁ প্রতিনিধি ৪:৩৮ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ০৫, ২০১৯

ডিজিটাল পোস্ট অফিসের কার্যক্রম চলছে ফলের দোকানে

নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে পরিচিত আবাদপুকুরহাটে ছিল একটি শাখা পোস্ট অফিস। জরাজীর্ন মাটির ঘরে চলছিল পোস্ট অফিসটির কার্যক্রম। কিন্তু সেই মাটির ঘরটি ভেঙ্গে যাওয়ায় পোস্ট অফিসটি বর্তমানে একটি ফলের দোকানে তার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

তিন মাস আগে ঝড়ে মাটির ঘরের পোস্ট অফিসটি ভেঙ্গে পড়ায় গ্রাহক সেবা ব্যহত হচ্ছিল। তাই জরুরী কার্যক্রম চালানোর জন্য একটি সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে বর্তমানে ভাঙা মাটির ঘরের পাশের একটি ফলের দোকানে চলছে এই ডিজিটাল পোস্ট অফিসের কার্যক্রম।

জানা গেছে, পাকিস্তান সরকারের আমলে উপজেলার পূর্বঅঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত বিশাল জনগোষ্ঠীর ডাকবিভাগের সেবার আওতায় আনার লক্ষ্যে তৎকালীন সময়ে আবাদপুকুর একটি সাবপোস্ট অফিস স্থাপন করা হয়। এই অফিসের পার্শ্ববর্তী এলাকায় বসবাসরত গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গের প্রচেষ্টায় কালীগ্রাম মৌজার এক নাম্বর খাস খতিয়ানভূক্ত দুই শতক জমির উপর বাঁশের বেড়া দিয়ে ছোট্ট একটি ঘর তৈরি করে পোস্ট অফিস তার  গ্রাহক সেবার কাজ শুরু করে। ওই দুই শতক জমি এক পর্যায়ে পোস্ট অফিসের নামেই রেকর্ডভূক্ত হয়ে যায়।

বিভিন্ন প্রাকৃতিক দূর্যোগের কারণে এই ঘরটি কয়েক দফা ভেঙ্গে গেলেও স্থানীয় কিছু প্রতিষ্ঠান প্রেমী ব্যক্তির একান্ত প্রচেষ্টায় ডাকবিভাগের সেবার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তার কথা ভেবে কয়েক দফায় আর্থিক সহযোগীতায় বাঁশের ঘর থেকে মাটির দেয়াল দিয়ে ঘরটি তৈরি করা হয়। পোস্টমাস্টার, পোস্টম্যান ও একজন রানার নিরলসভাবে গ্রাহকসেবা দিয়ে প্রতি মাসে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা রাজস্ব আয় করলেও উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে ইট দিয়ে নিজস্ব ভবন তৈরি করতে না পারায় এই পোস্ট অফিসটি রুগ্ন দশা থেকে মুক্ত পাচ্ছে না।

উপজেলার কালীগ্রাম, একডালা ইউনিয়ন, বগুড়ার আদমদিঘী উপজেলার চাপাপুর ইউনিয়নের আংশিকসহ প্রায় ৬০টি গ্রামের বাসিন্দাদের জরুরি ডাকসেবা প্রদান করে যাচ্ছে এই অফিসটি। ইতিমধ্যেই শাখাটি ডিজিটালকরনের লক্ষ্যে একটি ল্যাপটপ, পিন্টারসহ বিভিন্ন উপকরণ সরবরাহ করা হয়েছে। নিরাপত্তার কারণে তথ্যপ্রযুক্তির যুগে আধুনিক জিনিসপত্র ব্যবহার করা যাচ্ছে না। তবে ব্যবহারের সহজলভ্য হওয়ায় ইলেকট্রোনিক ম্যানিঅর্ডার (ইএমও) সার্ভিস গ্রাহদের টাকা-পয়সা লেনদেনের সুবিধার্থে চালু হওয়ায় ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে।

আবাদপুকুর পোস্টঅফিস মাস্টার এমদাদুল আলম বলেন, এই প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব পাকাভবনের জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্যের সুপারিশসহ ২০১২ সালে জমির কেনার জন্য জেলা প্রশাসকের বরাবর আবেদন করলে তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অনুকুলে আর্থিক বরাদ্দের প্রযোজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য আদেশ দিলে ফাইলটি আমি নিজে ডেপুটি পোস্টমাস্টার জেনারেল বগুড়া ডিভিশনে জমা দেই। সেখান থেকে পোস্টমাস্টার জেনারেল উত্তর অঞ্চল রাজশাহীতে প্রেরণ করলে ফাইলটি এখন পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি।

ঝড়ের কারণে গত ৩ মাস আগে মাটির ঘরটি ভেঙ্গে পড়ায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র নষ্ট হলেও গ্রাহকসেবা চালু রাখার লক্ষ্যে আমার এক অফিস স্টাফ নয়নের ফলের দোকানে কার্যক্রম চালিয়ে আসছি।

স্থানীয়  সংসদ সদস্য ইসরাফিল আলম বলেন, উপজেলা পূর্বাঞ্চল আবাদপুকুর বাজারে পোস্ট অফিসটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমি এই পোস্ট অফিসের নতুন ভবনের জন্য জায়গা নির্বাচন করে ক্রয় করার এবং দ্রুত নতুন একটি পোস্ট অফিস নির্মাণের জন্য উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ বরাবর লিখিত আবেদন দিয়েছি। এছাড়াও আমি নতুন করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি আবারো জানাবো। আশা করি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি দ্রুত আমলে নিবেন।

বিএআর/জেডএস

 

রাজশাহী: আরও পড়ুন

আরও