বন্যায় রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের সড়কে ভাঙন

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৭ জুলাই ২০১৮ | ২ শ্রাবণ ১৪২৫

বন্যায় রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের সড়কে ভাঙন

এইচ এম আলমগীর কবির, সিরাজগঞ্জ ৯:০২ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ১৩, ২০১৮

print
বন্যায় রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের সড়কে ভাঙন

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলায় বন্যার পানিতে ভেঙে গেছে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণাধীন সড়কটি। উপজেলার রামকান্তপুর মৌজার বাথান এলাকার সিসি ব্লক দিয়ে নির্মাণাধীন প্রায় ১ কিলোমিটার সড়কটি বন্যার পানির চাপে ভেঙে গেছে। উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নে বন্যার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। ফলে গ্রামের অধিকাংশ রাস্তা-ঘাট বন্যার পানিতে ডুবে যাওয়ায় শাহজাদপুর উপজেলা সদরের সাথে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এতে এসব গ্রামের মানুষের সরাসরি সড়ক পথে যাতায়াত করতে পারছে না। তাই বিকল্প হিসাবে এখন একমাত্র ভরসা তাদের নৌকা দিয়ে চলাচলে।

অপর দিকে গ্রামের মাঠ-ঘাট পানিতে ডুবে যাওয়ায় কাঁচা ঘাসের অভাবে কৃষকরা তাদের গবাদি পশু নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছে। ফলে বাজারে গো-খাদ্যের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় সুযোগ নিচ্ছে খইল, ভুষি গো খাদ্য প্যাকেট বিক্রেতারা। বস্তা প্রতি ২শ থেকে ৩শ টাকা করে বাড়িয়ে দিয়েছে। এর ফলে উপজেলার গো-খামার মালিক ও কৃষকেরা চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে।

যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় শাহজাদপুর উপজেলার কৈজুরি, সোনাতুনি, খুকনি ও জালালপুর ইউনিয়নের কমপক্ষে ১৭টি গ্রামে যমুনা নদীর ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে।

ভাঙন কবলিত উপজেলার কৈজুরি ইউনিয়নের ভাটপাড়া, গুদিবাড়ি, জগতলা, ঠুটিয়া ও হাটপাচিল, জালালপুর ইউনিয়নের পাকুরতলা, ভেকা, বাঐখোলা, খুকনি ইউনিয়নের আরকান্দি ও ব্রাহ্মণগ্রাম, সোনাতুনি ইউনিয়নের ধীতপুর, শ্রীপুর, মাকড়া, সোনাতুনি, বড় চানতারা, বারপাখিয়া ও বানতিয়ার। ইতি মধ্যেই এসব গ্রামের অন্তত ২ শতাধিক ঘরবাড়ি, দোকানপাট, মসজিদ, ৫শ বিঘা আবাদি জমি ও ২টি প্রাথমিক বিদ্যালয় নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ফলে এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ভাঙন আতঙ্ক বিরাজ করছে।

ভাঙন কবলিত এলাকাবাসী অভিযোগ করে করেন, বর্ষা মৌসুম শুরুর সাথে সাথে যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধি শুরু হয়েছে। আর এই পানি বৃদ্ধির সাথে পাল্লা দিয়ে উপজেলার এসব গ্রামে ভাঙন শুরু হয়েছে। গত ১ সপ্তাহে ভাটপাড়া এলাকার যমুনা নদীর তীর সংরক্ষণ বাঁধের ৫টি স্থানের অন্তত ১ হাজার ফুট এলাকার সিসি ব্লক ও জিও টেক্সপেপার নদীগর্ভে ধসে গিয়ে বিলীন হয়ে গেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড গত বছরের ভাঙন এলাকা মেরামত না করায় এবং এ বছর এখনো ভাঙন রোধে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না নেয়ায় এই ভাঙন আরো তীব্র আকার ধারণ করেছে।

ভাঙন কবলিত আলমাস হোসেন বলেন, ভাঙনের চিন্তায় রাতে ঘুমাতে পারি না। ৮ বার বাড়ি ভেঙেছে। প্রতিবারই সব কিছু হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছি। আবারও যদি বাড়িঘর যমুনার পেটে চলে যায়, তবে আর ঘুরে দাড়াতে পারব না।

একই এলাকার ভাঙন কবলিত আফসার আলী বলেন, সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড কোনো প্রকার কার্যকরি ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় তারা এবারও ভাঙনের কবলে পড়েছে। এখনও এ ভাঙন রোধে কোনো পদক্ষেপ না নেয়ায় তারা চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।

পোতাজিয়া ইউনিয়নের মেম্বার নজরুল ইসলাম জানান, গত মঙ্গলবার ভোরে এ সড়কটি ভেঙে যাওয়ায় শাহজাদপুর এলজিইডি অফিসের প্রায় পৌনে দুই কোটি টাকা জলে চলে গেছে। এছাড়া উপজেলার পোতাজিয়া, কায়েমপুর, গাড়াদহ ও রূপবাটি ইউনিয়নের ২০টি গ্রামে বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে।

শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. নাজমুল হুসাইন খান বলেন, ভাঙন এলাকার আশপাশে ফাঁকা কোনো স্থান না থাকায় নদী ভাঙনের শিকার এসব মানুষকে দূর-দূরান্তে গিয়ে আশ্রয় নিতে হচ্ছে। তারপরও এসব মানুষের তালিকা তৈরি করে উপজেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।

এনায়েতপুরের ভাঙন কবলিতদের অবস্থা বিবেচনা করে ইতিমধ্যেই সাড়ে তিনশ’ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জি আর বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করেছি। আশা করা যাচ্ছে কয়েক দিনের মধ্যে বরাদ্দ পাওয়া যাবে। বরাদ্দ পেলে ভাঙন কবলিতদের মাঝে বিতরণ করা হবে।

ভাঙন বিষয়ে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম জানান, টাকার সংকুলান না থাকায় আপাতত বাঁধ রক্ষায় কাজ করা যাচ্ছে না। তবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি ভাঙন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে।

এসএফ

 
.



আলোচিত সংবাদ