হাঁস পালন করে যেভাবে বদলে গেল সম্রাট

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৭ জুলাই ২০১৮ | ১ শ্রাবণ ১৪২৫

হাঁস পালন করে যেভাবে বদলে গেল সম্রাট

বাবুল আখতার রানা, নওগাঁ ১:২১ অপরাহ্ণ, জুন ২৩, ২০১৮

print
হাঁস পালন করে যেভাবে বদলে গেল সম্রাট

উন্মুক্ত বিলে হাঁস পালন করে বেকারত্বকে হার মানিয়ে স্বাবলম্বী হয়েছে এক বেকার যুবক। সম্রাট নামের আত্মপ্রত্যয়ী এই যুবক তার সংসার থেকে অভাবের কালোছায়া দুর করে এনেছেন সুখ আর স্বাচ্ছন্দ। দালানের বাড়ির সঙ্গে হয়েছে গাড়িও।

বাব-মাকে নিয়ে একমাত্র সন্তান সম্রাট অত্যন্ত সুখে দিনাতিপাত করছেন। তার এই সাফল্যের গল্প এলাকার মানুষের মুখে মুখে। অনেকেই তার এই উদ্যোগকে গ্রহণ করে তার মত স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্নে বিভোর।

নওগাঁ সদর উপজেলার ভর অঞ্চল বলে পরিচিত সরিজপুর গ্রাম। এই গ্রামের সিদ্দিক হোসেনের ছেলে সম্রাট। এখন বয়স ২৫ বছর। মা-বাবার একমাত্র সন্তান। ৭ম শ্রেণী পর্যন্ত পড়ে অর্থের অভাবে স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। সংসারের খরচ যোগাতে বাবাকে প্রচণ্ড হিমশিম থেকে দেখেছে সে। বাবার অক্ষমতার কষ্টের বিবর্ণ মুখ তাকে ব্যথিত করেছে। তাই সর্বক্ষণ চিন্তা কিভাবে কি করে তাদের সংসারের অভাব দুর করা যায়।

এক পর্যায়ে হাঁস পালনের চিন্তা তাকে আচ্ছন্ন করে। হিসাব নিকাশ করে লাভজনক ভেবে শুরু এখন থেকে পাঁচ বছর আগে। বাড়ির পাশেই বিশাল এলাকা জুড়ে অবস্থিত বিল মনসুর। এই বিলেই মাত্র ২শ হাঁসের বাচ্চা দিয়ে উন্মুক্তভাবে শুরু করেন হাঁস চাষ।

সকালে হাঁসগুলো বিলে নিয়ে যাওয়া হয়। সারাদিন কখনও পানিতে কখনও ডাঙ্গায় হাঁস চড়াতে থাকে। সম্রাটের সাথে দিনভর হাঁস দেখাশুনা করেন তার বাবা। সন্ধ্যা নেমে আসার সাথে সাথে বিলের এক পাশে জাল দিয়ে ঘেরা এক জায়গায় নিয়ে আসা হয়। সেখানে হাঁসগুলোর রাত্রিবাসের ব্যবস্থা। সকাল হলে আবার বিলে নেওয়া হয়।

এভাবেই দিন যায়। বর্তমানে সম্রাটের এই উন্মুক্ত হাঁস খামারে তিনটি পর্যায়ে হাঁস রয়েছে। এক ধাপে রয়েছে বাচ্চা হাঁস এক হাজারটি। এখন ডিম দিচ্ছে এমন হাঁস রয়েছে একটি পর্যায়ে ৮শ এবং আরেকটি পর্যায়ে ২শ। প্রতিদিন ডিম উৎপাদিত হচ্ছে কমপক্ষে ৮শ। তার এই হাঁস খামারে ৫ জন লোক নিয়মিত কাজ করে। তাদেরও কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে এখানে। তারা প্রতি মাসে আয় করেন ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা। খাওয়া খামার মালিকের।

এদিকে যেহেতু বিলে চড়ানো হচ্ছে বলে হাঁসের খাওয়ার ব্যাপারে তেমন কোনো খরচ নেই। কেবলমাত্র একদিন বয়সের বাচ্চা কেনা, ওষুধপত্র, লোকবলের খরচ। কাজেই তার এই খামার অত্যন্ত লাভজনক।

সম্রাটের খামারের ডিম নওগাঁসহ বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করে থাকেন। আবার খামার থেকেও পাইকাররা এসে ডিম কিনে নিয়ে যান। তার গড়ে প্রতিটি ডিম বিক্রি করেন ৭ টাকায়। প্রতিদিন ৮শ ডিম বিক্রি হয় ৫ হাজার ৬শ টাকায়। সেই হিসেবে মাসে ১ লাখ ৬৮ হাজার টাকা। বছরে ২০ লাখ ১৬ হাজার টাকা।

অপরদিকে বছরে কমপক্ষে এক হাজারটি হাঁস বিক্রি করেন। প্রতিটি ৩শ টাকা হিসেবে সেখান থেকে আসে ৩ লাখ টাকা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সম্রাট জানান, বছরে সব খরচ বাদ দিয়ে তার মোট লভ্যাংশ থাকে ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা। হাঁসের এই খামার তার ভাগ্য বদলে দিয়েছে। বসবাসের জন্য মাটির ছোট্ট ঘরের জায়গায় বানিয়েছে দালান বাড়ি। সার্বক্ষণিক দেখাশুনার জন্য বিভিন্ন স্থানে যাতায়াতের জন্য একটি মোটরসাইকেলও কিনেছেন।

এ বিষয়ে জেলা পানিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. উত্তম কুমার বলেন, বর্তমান সরকার বেকারত্ব দুর করার জন্য নানামুখী কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে যুবকদের উৎসাহিত করছেন। সে ক্ষেত্রে সরিজপুর গ্রামের সম্রাটের হাঁস খামার একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। কেবল সরকারি চাকরির আশায় না ঘুরে এভাবে আত্মপ্রত্যয়ী অনেকেই কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে স্বাবলম্বী হচ্ছেন।

এসএফ

 
.



আলোচিত সংবাদ