বগুড়ার টিউবওয়েল যাচ্ছে সারা দেশে

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৭ জুলাই ২০১৮ | ১ শ্রাবণ ১৪২৫

বগুড়ার টিউবওয়েল যাচ্ছে সারা দেশে

তোফাজ্জল হোসেন, বগুড়া ৮:১৬ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ২১, ২০১৮

print
বগুড়ার টিউবওয়েল যাচ্ছে সারা দেশে

বগুড়ার উৎপাদিত হচ্ছে উন্নত মানের টিউবওয়েল। সরবরাহ হচ্ছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। পারিবারিক প্রয়োজন ছাড়াও কৃষি কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে এসব টিউবওয়েল। কিন্তু টিউবওয়ল উৎপাদনের জন্য মৌলিক উপকরণের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে বেড়ে গেছে টিউবওয়েল উৎপাদন খরচ। যার প্রভাব পড়বে বলে খুরচা বাজারে। এ তথ্য মেটাল ও ইন্ডাস্ট্রির মালিকরা জানিয়েছেন। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বগুড়া বিসিক শিল্পনগরী ছাড়াও বগুড়া শহর, শহরতলীসহ উপজেলা পর্যায়ে গড়ে উঠেছে নানা পণ্য উৎপাদনের ক্ষুদ্র, মাঝারি ও কুটির শিল্প।

 

এরমধ্যে বিসিকেই রয়েছে ৯২টি শিল্প ইউনিট। প্রকৌশল শিল্প, টেক্সটাইল শিল্প, খাদ্য ও সহায়ক শিল্প, কেমিক্যালস ও ফার্মাসিউটিক্যাল, পেপার বোর্ড-মুদ্রণ শিল্প, ও গ্যাস সিরামিক শিল্প অন্যতম। এসব শিল্পের মধ্যে এগিয়েছে গেছে কৃষি ও হালকা প্রকৌশল শিল্প। যার কারণে বিসিকে জায়গা শেষ হওয়া পর শিল্পদ্যোক্তারা বসে থাকেননি। তারা ব্যক্তি উদ্যোগে বিভিন্নস্থানে গড়ে তুলেছেন শিল্প কারখানা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বগুড়ায় টিউবওয়েলসহ অন্য কৃষিযন্ত্রাংশ তৈরির মেটাল ইন্ডাস্ট্রিটিতে প্রতিদিন তৈরি হচ্ছে প্রায় সাত থেকে আট হাজার পিস টিউবওয়েল। সেগুলো ফিনিশিং এর পর চলে যাচ্ছে দেশের ৪০ থেকে ৫০টি জেলায়।

এ রহমান মেটাল অ্যান্ড ইন্ডাষ্ট্রির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সোহেল রহমান জানান, বগুড়া-নওগাঁ আঞ্চলিক মহাসড়কের মুরইল এলাকায় তাদের কাখানা অবস্থিত। তাদের এখানে মেটাল টিউবওয়েল, সেন্ট্রিফিউগ্যাল প্যাম্পসহ কৃষির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ তৈরি করা হয়। প্রতিদিন তার কারখানায় তৈরি হয় ৩০০ পিস টিউবওয়েল, ৮০ পিস সেন্ট্রিফিউগ্যাল প্যাম্প ও ২০ পিস ব্রেক ড্রাম। তা ছাড়া বিভিন্ন রঙের ১৯ প্রকারের টিউবওয়েল শ্রমিকরা তৈরি করেন।

তিনি আরও জানান, প্রতিটি টিউবওয়েল প্রকারভেদে গড় ৯০০ থেকে দুই হাজার ২০০ টাকা পাইকারি দরে বিক্রি হয়। সেখানে উৎপাদন খরচ বাদ দিলে প্রতিটিতে গড় ২০০ টাকা লাভ থাকে। ৯০০ টাকার টিউবওয়েল বাজারে খুচরা বিক্রি হয় প্রায় এক হাজার ৩০০ টাকা থেকে দেড় হাজার টাকা। তাদের এই টিউবওয়েল ঢাকা, কক্সবাজার, নরসিংদী, কুমিল্লা, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ময়মনসিংহ, জামালপুর, ভৈরব, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, ফরিদপুর, কিশোরগঞ্জ, শেরপুর, বরিশাল, সাতক্ষীরা, খুলনা, মাদারীপুর, ঝিনাইদহ, নিলফামারী ও কুড়িগ্রামসহ বিভিন্ন জেলায় বাজারজাত হচ্ছে। তবে এখন উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে। টিউবয়েল উৎপাদরেন উপকরণের মূল্য বেড়ে যাওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এতে করে খুচরা বাজারে এর প্রভাব পড়বে।

বগুড়ার উত্তরা মেটালের স্বত্বাধিকারি আলহাজ আব্দুল জলিল বলেন, কারখানায় প্রতিদিন ৩০০ পিস টিউবওয়েল তৈরি হয়। প্রকারভেদে তার দাম ৬৩০ থেকে দুই হাজার ২০০ টাকা প্রতি পিস। তবে এটা পাইকারি দাম। তিনিও জানান, কৃষিযন্ত্রাংশ তৈরির মৌলিক উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়ায় খুচরা বাজারে তার প্রভাব পড়বে।

বগুড়া বিসিক শিল্পনগরী কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান জানান, বগুড়া বিসিক শিল্পনগরীর মধ্যে প্রায় ২০টিসহ প্রায় অর্ধশত কারখানায় টিউবওয়েল তৈরি হচ্ছে। শিল্পনগরীর বাইরেও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে এসব শিল্প-কারখানা ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে।

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) বগুড়ার উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. মকবুল হোসেন জানান, বগুড়া বিসিক শিল্পনগরীতে প্লট না থাকার পরও শিল্পদ্যোক্তারা ব্যক্তি উদ্যোগে বগুড়া শহরের বিভিন্ন স্থানে মাঝারি, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলছেন। বর্তমানে জেলায় ১৭টি মাঝারি শিল্প, দুই হাজার ৪২৩টি ক্ষুদ্র শিল্প এবং ১৫ হাজার ৭২২টি কুটির শিল্প রয়েছে। এসব শিল্পের মধ্যে বগুড়ায় উৎপাদিত টিউবওয়েলসহ কৃষি-যন্ত্রপাতি দেশের ৭০ শতাংশ চাহিদা মেটাচ্ছে।

কেকে/এএস

 
.



আলোচিত সংবাদ