দৈনিক চাহিদা ১৫০ কোটি লিটার, সরবরাহ ১২০

ঢাকা, সোমবার, ২৫ জুন ২০১৮ | ১১ আষাঢ় ১৪২৫

রাজশাহীতে পানি সংকট

দৈনিক চাহিদা ১৫০ কোটি লিটার, সরবরাহ ১২০

শ.ম সাজু, রাজশাহী ১২:৫৪ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ১৩, ২০১৮

print
দৈনিক চাহিদা ১৫০ কোটি লিটার, সরবরাহ ১২০

পুরোপুরি গরম না পড়তেই পানি সংকট দেখা দিয়েছে রাজশাহী মহানগরীতে। নগরীতে দৈনিক ১৫০ কোটি লিটার পানি চাহিদার বিপরীতে রাজশাহী পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষ (ওয়াসা) সরবরাহ করতে পারছে দৈনিক ১২০ কোটি লিটার। ফলে প্রতিদিন পানির সঙ্কট থাকছে প্রায় ৩০ কোটি লিটার। পানির বর্তমান এই সংকট আগামী শুষ্ক মৌসুমে কী পরিমাণ বাড়ে তা নিয়ে এখন থেকেই উদ্বিগ্ন নগরবাসী।

 

রাজশাহী ওয়াসা কর্তৃপক্ষ বলছেন, রাজশাহীতে ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় নগরীর অধিকাংশ গভীর নলকূপে পানি উঠছে কম। আবার কয়েকটি ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট অকেজো। ফলে চেষ্টা করেও পানি সংকট দূর করা যাচ্ছে না। পাশাপাশি নগরীর বিভিন্ন নির্মাণ কাজে ওয়াসার পানি অবাধে ব্যবহার করায় সংকট আরো বাড়ছে।

পানির সংকট দূর করতে গত কয়েক বছরে বেশ কয়েকটি মেগাপ্রকল্প গ্রহণ করেছে সরকারের সেবামূলক এ প্রতিষ্ঠানটি। ব্যয় করা হয়েছে কোটি কোটি টাকা। কিন্তু সেসব প্রকল্প এখনো আলোর মুখ দেখেনি। ফলে সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। প্রায় এক যুগেরও বেশি সময় ধরে নগরীর হেতেমখাঁ পিডিবি, রাণীনগর, শ্রীরামপুর ওয়াসা ভবনে অবস্থিত গ্রাউন্ড ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট সম্পূর্ণ অকেজো। এসব প্ল্যান্টের প্রতিটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে সাড়ে তিন কোটি টাকা।

এদিকে, প্রতিষ্ঠার সাত বছরেও পুরো মহানগরীতে পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারেনি রাজশাহী ওয়াসা। ফলে এখনো হস্তচালিত নলকূপের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে নগরীর ৩০ ভাগ এলাকার বাসিন্দাকে। গ্রীষ্মকালে ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে গেলে পান করার পানি নিয়েও চিন্তায় পড়তে হয়। এখন নগরীর ৩০ ওয়ার্ডের ১০৪ বর্গ কিলোমিটার এলাকায় ৭৬টি গভীর নলকূপের মাধ্যমে পানি সরবরাহ করে ওয়াসা। প্রতিদিন সকাল ৬টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ওয়াসার পানি পান নগরবাসী। তবে দুপুরে এক ঘণ্টা পানি সরবরাহ বন্ধ থাকে। বাড়িতে রিজার্ভার ট্যাংক না থাকলে ওই সময় তিনি পানি পান না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নগরীতে যেসব নতুন ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে তার দু-একটি ছাড়া বাকি সবগুলোর ক্ষেত্রেই ওয়াসার পানি ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে উঁচু এলাকার বাসিন্দারা মারাত্মক পানি সংকটে পড়ছেন।

রাজশাহী ওয়াসার সচিব সাদিকুল ইসলাম বলেন, নগরীর কিছু কিছু বহুতল ভবন নির্মাণে ওয়াসার পানি ব্যবহারের ক্ষেত্রে অনুমতি নিয়েছেন মালিকরা। তবে, অধিকাংশ ভবন মালিকই অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন মনে করেন না।

ঘোলা পানির অভিযোগের বিষয়ে ওয়াসা সচিব সাদিকুল ইসলাম বলেন, বিভিন্ন কারণে পানি ঘোলা হতে পারে। পানির রিজার্ভ ট্যাংক না থাকলে অনেক সময় ঘোলা পানি পাওয়া যেতে পারে। আবার অনেক সময় পানিতে অতিমাত্রায় আয়রন দেখা দেয়। তখন পানি ঘোলা দেখায়। তাছাড়া গভীর নলকূপের ভূ-গর্ভস্থ কোনো পাইপ নষ্ট হয়ে গেলেও ঘোলা পানি উঠতে পারে। কোথাও ঘোলা পানির খবর পাওয়া গেলে আমরা পাইপগুলো পরিস্কার করে দেই।

রাজশাহী ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক সুলতান আবদুল হামিদ বলেন, অনেকেই বাড়িতে অবৈধভাবে পানির সংযোগ নিয়েছেন। ফলে সংকট বেশি অনুভব করছেন বৈধ গ্রাহকরা। তবে পানির সংকট কিছুটা হলেও কাটাতে সম্প্রতি একটি প্রকল্পের আওতায় মোট ২২টি উৎপাদক নলকূপ স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওয়াসা। এর মধ্যে প্রথম পর্বে ১২টি নলকূপ ইতিমধ্যে স্থাপিত হয়েছে। দ্বিতীয় পর্বে ২২ নম্বর ওয়ার্ডে ১০টি নলকূপ স্থাপন কার্যক্রম চলছে। আগামী দুই মাসের মধ্যে এসব নলকূপ স্থাপিত হবে।

কেকে/এএস

 
.




আলোচিত সংবাদ