প্রধানমন্ত্রীর রাজশাহী সফর ঘিরে উচ্ছ্বাস, নানান প্রত্যাশা

ঢাকা, রবিবার, ২৪ জুন ২০১৮ | ১০ আষাঢ় ১৪২৫

প্রধানমন্ত্রীর রাজশাহী সফর ঘিরে উচ্ছ্বাস, নানান প্রত্যাশা

রাজশাহী ব্যুরো ১০:৫৮ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২১, ২০১৮

print
প্রধানমন্ত্রীর রাজশাহী সফর ঘিরে উচ্ছ্বাস, নানান প্রত্যাশা

টানা দুই মেয়াদে ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৃহস্পতিবার তৃতীয়বারের মতো রাজশাহীতে যাচ্ছেন। তার সফর ঘিরে সর্বত্র সাজ সাজ রর। উচ্ছ্বসিত পদ্মাপাড়ের বাসিন্দাদের প্রত্যাশাও অনেক।

বৃহস্পতিবার মহানগরীর মাদ্রাসা মাঠের ময়দানের জনসভা থেকে ৩৩টি প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তরের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী রাজশাহীবাসীকে নতুন কিছু উপহার দেবেন।

প্রধানমন্ত্রীর এই আগমন ঘিরে রাজশাহী যেন নতুন রূপ পেয়েছে। জনসভাস্থল মাদ্রাসা মাঠ থেকে শুরু করে রাজশাহীর সকল রাস্তা, বিভিন্ন মোড়, গুরুত্বপূর্ণ স্থানে, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সামনে সরকারের উন্নয়মূলক প্রচার-প্রচারণা সংবলিত ব্যানার, তোরণ, ফেস্টুন, বিলবোর্ডে ভরে গেছে।

এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে নগরীর সর্বত্র এখন আলোচনা। নগরবাসী বিগত দিনের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির হিসাব মিলাচ্ছেন। একই সঙ্গে তার কাছে নতুন প্রত্যাশার কথা তুলে ধরার কথাও বলছেন।

রাজশাহীবাসীর দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও শিল্পকারখানায় গ্যাসের সরবরাহ নিশ্চিত করণ, নগরীতে আবেদনকারীদের বাসাবাড়িতে গ্যাসের সংযোগ স্থাপন, গঙ্গা ব্যারেজ নির্মাণ প্রকল্প পুনঃবিবেচনায় বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ, উত্তর রাজশাহী সেচ প্রকল্প বাস্তবায়ন, আরও একটি সিএনজি স্টেশন স্থাপন, রাজশাহী-ঢাকা বিরতিহীন ট্রেন সার্ভিস চালুকরণ, আব্দুলপুর-রাজশাহী-রহনপুর ডুয়েল গেজ রেললাইন নির্মাণ, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়ন, ভূমি রক্ষায় স্থায়ী নদী তীর প্রতিরক্ষা প্রকল্প গ্রহণ, কৃষিভিত্তিক ইপিজেড প্রতিষ্ঠা, পূর্ণাঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, মহানগরীতে একাধিক মাধ্যমিক স্কুল সরকারিকরণ, ক্রিকেট টেস্ট ভেন্যুর জন্য আবাসিক হোটেল নির্মাণ বা পর্যটন মোটেলকে উন্নতকরণ, পদ্মা নদীর চরে সরকারিভাবে অর্থনৈতিক জোন স্থাপন, পদ্মানদীর রাজশাহী-চাঁপাই ও চারঘাট-বাঘা ড্রেজিং প্রকল্প গ্রহণ করে নদীপথে পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থা চালুকরণ, আম, টমেটোসহ অন্যান্য ফল সংরক্ষণাগার স্থাপন, রাজশাহী পূর্ণাঙ্গ টিভি স্টুডিও স্থাপন।



এদিকে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বর্তমান সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী যমুনা রেল সেতুর টেন্ডার প্রক্রিয়া ২০১৮ সালের শুরুর দিকে শেষ হওয়ার কথা। শিল্প কলকারখানা স্থাপনে ও ব্যবসা-বাণিজ্য উন্নয়নে রেলে পণ্য পরিবহন বড় ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই প্রধানমন্ত্রীর কাছে অবিলম্বে সকল প্রক্রিয়া শেষ করে যমুনা রেল সেতু বাস্তবায়ন করার দাবি উঠেছে।

রাজশাহীতে প্রচুর শিল্প উদ্যোক্তা রয়েছেন এবং প্রচুর বৈদেশিক বিনিয়োগের সম্ভাবনা বিদ্যমান। শিল্প ক্ষেত্রে গ্যাস সংযোগ ও রেল সেতু স্থাপনে এই সম্ভাবনা বাস্তবে রূপ নেবে। এটি প্রধানমন্ত্রীর ভিশন-২০২১ ও ২০৪১ বাস্তবায়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে বলে ব্যবসায়ী নেতারা মনে করেন।

মহানগরীর সাহেবাজারের ফল ব্যবসায়ী মুঞ্জুর বলেন, প্রধানমন্ত্রী আসছেন তা আমাদের জন্য সুখবর। এই সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই এলাকার বিভিন্ন উন্নয়ন হয়েছে। আগামীতে রাজশাহীর ব্যবসায়ীদের দিক বিবেচনা করে নতুন কিছু করবেন এই প্রত্যাশা।

ব্যাংক কর্মকর্তা কাফিউল্লাহ সরকার বাচ্চু বলেন, রাজশাহীকে শিক্ষা মহানগরী বলা হলেও সেইভাবে উন্নতমানের সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা হাতে গোনা কয়েকটি। তাই প্রতি বছর শিক্ষার্থীদের ভর্তি নিয়ে বিড়ম্বনার সম্মুখীন হতে হয়।

রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জামাত খান বলেন, রাজশাহীর উন্নয়নে শেখ হাসিনা বেশ কিছু প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছেন। কিন্ত কৃষিভিত্তিক উত্তরাঞ্চলের মানুষ আবাদি জমিতে সেচ দেয়া নিয়ে বড়ই কষ্টে আছে।

তিনি বলেন, ভূ-উপরিস্থিত পানির ব্যবহার ছাড়া বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষি বিপ্লব ও এ অঞ্চলের মানুষের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়ন সম্ভব নয়। অতিমাত্রায় ভূ-গর্ভস্থ পানি ব্যবহারের ফলে ভূমিধস ও জলবায়ুর বিরূপ প্রভাবসহ পরিবেশ মারাত্মকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। ফলে এর মাশুল দিতে হবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে। তাই সরকার যদি উত্তর সেচ প্রকল্প বাস্তবায়ন করেন তবে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব।

রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ড্রাস্টির সভাপতি মনিরুজ্জামান মনি বলেন, রাজশাহী অঞ্চলের উন্নয়নের জন্য অর্থনৈতক অগ্রগতির দিকেই বেশি অগ্রাধিকার দিতে হবে। তাই  তিন হাজার ভারি, মাঝারি ও ক্ষুদ্র শিল্পে গ্যাস সংযোগ, যমুনায় রেল সেতু প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন ও শিল্প কলকারখানা স্থাপনে ঋণসুবিধাসহ ১১ দফা দাবি প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরা হবে।

বিএইচএস/এমএসআই

 
.




আলোচিত সংবাদ