হঠাৎ রাজশাহীর রাজপথে বিএনপি নেতা কবির হোসেন

ঢাকা, সোমবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ | ৭ ফাল্গুন ১৪২৪

হঠাৎ রাজশাহীর রাজপথে বিএনপি নেতা কবির হোসেন

রাজশাহী প্রতিনিধি ১:৪৫ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০১৮

print
হঠাৎ রাজশাহীর রাজপথে বিএনপি নেতা কবির হোসেন

বিএনপির প্রবীন রাজনীতিবীদ আ্যড. কবির হোসেন। বয়স ৮০ ছাড়িয়েছে। শরীরের ডান দিক প্যারালাইসড হওয়ায় চলাফেরা করতে পারেন না বললেই চলে। রাজশাহী মহানগরীর উপশহর এলাকার ৩৭১/৩ নম্বর বাড়িতে অনেকটাই বন্দিজীবন কাটাচ্ছেন। ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহীর পবা-মোহনপুর আসনে পরাজিত হবার পর একবারই ঘরকোনা হয়ে যান এই নেতা। এরপর বিভিন্ন সময় বিএনপি আন্দোলন সংগ্রাম করলেও তাঁকে চোখে পড়ার মত রাজপথে তাঁকে দেখা যায়নি।

কিন্ত গত ৮ ফেব্রুয়ারী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে রায় ঘোষনার দিন হঠাৎ করেই এক সময়ের এই দাপুটে নেতাকে দলের কিছু নেতাকর্মীকে সাথে নিয়ে রাজশাহীর রাজপথে দেখা যায়। তবে তিনি জেলা বা মহানগরের ঘোষিত কোন কর্মসূচিতে যোগ দেননি। তিনি অনেকটাই পৃথকভাবে রাজপথে নামেন। তাঁর এই আকস্মিক রাজনৈতিক মাঠে আসা নিয়ে দলের ভিতর ও বিভিন্ন মহলে প্রশ্নের উদয় হয়েছে। কারো ধারনা তিনি দলকে ভালোবাসেন তাই আবেগ তাড়িত হয়ে মাঠে নেমেছেন। আবার কেউ বলছেন জেলা বা মহানগরে থাকা কিছু সুযোগ সন্ধানী নেতাকর্মী হয়ত তাঁকে রাজপথে নামিয়ে কোন ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করছেন। আবার কেউ প্রশ্নবোধক দিয়ে বলছেন আসন্ন জাতীয় সংসদে নির্বাচনী টিকিটি পাবার জন্যই হয়ত দীর্ঘদিন পর রাজপথে নেমে কেন্দ্রীয় নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করছেন।


রাজশাহীতে বিএনপির ভিত্তি গড়ে তোলার কান্ডারিদের একজন অ্যাড. কবির হোসেন। হটাৎ করে রাজনৈতিক ময়দানে আসাকে কেন্দ্র করে রাজশাহীতে গেলো কয়েকদিন থেকে বিষয়টি যেমন বেশ আলোচিত হচ্ছে। তেমনি সমালচিতও হচ্ছে। ২০০৩ সালে রাজশাহীর বাঘা-চারঘাট আসনে নির্বাচন করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেও ওয়ান ইলেভেনের নির্বাচনী এলাকায় তাঁর বিচরণ ছিল কম। আর ওয়ান ইলেভেনের সময় রাজনৈতিক কর্মকান্ডের উপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হলে কিছুদিন রাজপথে নেমেছিলেন। ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহীর পবা-মোহনপুর আসনে নির্বাচন করার পর তাঁকে রাজনৈতিক মাঠে আর দেখা যায়নি বললেই চলে। এমনকি বয়সের ভারে নুয়ে পড়া টানা তিনবারের সংসদ সদস্য ও বিএনপি সরকারের সাবেক ভূমি প্রতিমন্ত্রী এতদিন চলমান কোন দলীয় কর্মসূচিতেও অংশ নেন নাই। বার্ধক্যজনিত কারনেই বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা কাটাতে শুরু করেন বাড়ির বন্দি জীবন।

দীর্ঘ এই ১০ বছরে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের অনেক পরিবর্তন এসেছে। দেশের প্রতিটি জেলা ও মহানগর পর্যায়ে কমিটি গঠন হয়েছে। এসেছে নতুন নেতৃত্ব। কিন্ত তিনি এই পরিবর্তনের সাতে পাঁচে ছিলেন তেমনটিও শোনা যায় না। বরং এই নেতা বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা হবার পর তাঁর ঘরনার নেতার্মীরা মহানগরীর উপশহর এলাকার ৩৭১/৩ নম্বর বাড়িতে ভিড় জমাতে থাকেন। এই দাপুটে নেতার রাজনৈতিক অবস্থা যখন এমনাবস্থা, তখন বেগম খালেদা জিয়ার বিরদ্ধে ৮ ফেব্রুয়ারী দুর্নীতি মামলার রায়ের দিন হঠাৎ রাজপথে দেখা গেল তাঁকে। এদিন সকাল ১০টার দিকে নিজ বাসা থেকে বের হয়ে মহানগরীর পিডিবি মোড়ে যান। এরপর সেখান থেকে একটি মিছিল বের করার চেষ্টা করেন। তবে পুলিশ এ সময় বাধা দেয়। ফলে মিছিলটি সেখানেই আটকে যায়। এরপর রিকশায় উঠে বসেন কবির হোসেন। অথচ এ সময় মহানগরীর মালোপাড়া দলীয় কার্যালয়ের সামনে মহানগর বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা কর্মসূচি পালন করছিলেন। এই কর্মসূচিতে স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতারা যোগ দেন। কিন্ত তিনি এই কর্মসূচিতে যোগ না দিয়ে বাসায় ফিরে যান। এমনকি জেলা বিএনপি এ দিন যে কর্মসূচি পালন করেছে সেই কর্মসূচিতেও তিনি যোগ দেননি। এ সময় তাঁর সাথে ছিলেন সাবেক এমপি জাহান পান্না,  মহানগর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক মামুন অর রশিদ মামুন, জেলা বিএনপির সহসভাপতি দেলোয়ার হোসেন, যুগ্ম সম্পাদক আনোয়ার হোসেন উজ্জল, স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক নুসরাত এলাহী রিজভী, শরীফ আলী, জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র সহসভাপতি শাহরিয়ার আমিন বিপুল, জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলম জনিসহ বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী।  

কবির হোসেনের ঘনিষ্টরা বলছেন, এবার তিনি রাজশাহী-২ (সদর) আসনে প্রার্থী হতে চান। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে তিনি নাকি মনোনয়নও চেয়েছেন।  নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপি কয়েকজন নেতা জানান, অ্যাড. কবির হোসেন দলের এক সময়ের কান্ডারি ছিলেন। কিন্ত ২০০৩ সালের জাতীয় সংসদের নির্বাচনের পর ক্রমশই নিজেকে গুটিয়ে নিতে থাকেন। মাঠের রাজনীতিতে তিনি সক্রিয় না থাকলেও কেন্দ্রের সাথে সবসময় তিনি যোগাযোগ রেখেছেন। এখনও সেটি করে যান। দীর্ঘদিন পর তার এই মাঠে নেমে আসাটা তরুণ পজন্মের নেতাদের কাছে পাথেয় হয়ে থাকবে। দলের জন্য একটা বাড়তি শক্তিও বটে। তাঁর রাজনৈতিক মেধা দিয়ে অনেক সফল কর্মসূচিও সম্ভব। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে দলের মুল ¯্রােতের বাইরে নিজ বলয়ের মধ্যে কর্মসূচি পালন করার চেষ্টা মোটেও দলের জন্য ভাল কিছু বয়ে আনবে না। বরং বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া সর্বশেষ দলীয় নেতাকর্মীদের যে ঐক্যের ডাক দিয়েছেন তা ম্লানের চিত্রই ফুটে উঠবে। তাছাড়াও তাঁর বার্ধক্য জনীত সুযোগটিও কেউ কেউ কাজে লাগানোর চেষ্টা করবেন। তাঁকে সামনে রেখে কোন কোন নেতাকর্মী দলের অন্যকোন সুযোগ নেয়ার চেষ্টা করবেন যা দলের জন্য কখনই ভালো কিছু বয়ে আনবে না।

জেলা যুব দলের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম সমাপ্ত বলেন, প্রবীন রাজনীতিবিদ অ্যাড. কবির হোসেনের দীর্ঘদিন পর রাজপথে নেমে আসাটা অবশ্যই দলের জন্য ভালো দিক। কারণ তিনি যদি দলের মূলস্রোতের সাথে থেকে কর্মসূচিতে অংশ নেন তাহলে দলের তরুণ নেতারা আরো চাঙ্গা হবেন এবং আগামীতে আন্দোলনও বেগবান হবে।

জেলা ন্যাপের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান খাঁন আলম বলেন, বয়সের ভারে অ্যাড. কবির হোসেন নুইয়ে পড়লেও দলের কার্যক্রমের সাথে নিজেকে সম্পৃক্ততা করার মনোবল রয়েছে তা তিনি পরিস্কারভাবে বুঝিয়ে দিয়েছেন। শুধু তাই নয় দলের অন্যান্য নেতাদের তার এই রাজপথে নেমে আসা থেকেও শিক্ষা নেবার আছে। নির্বাচনে অংশ নেয়ার বিষয়টি কেন্দ্রের ব্যাপার। কারণ তাঁর শারীরিক পরিস্থিতি বর্তমানে যেমনটি রয়েছে তাতে মাঠ পর্যায়ে কাজ করাটা তাঁর জন্য অনেকটাই কষ্টকর হবে।

দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকার বিশেষ সংবাদদাতা রেজাউল করিম রাজু বলেন, প্রবীন রাজনীতিবিদ অ্যাড. কবির হোসেনের হঠাৎ করে রাজপথে আসাটা অনেকটাই আবেগি। দলকে ভালোবাসেন। দলের কান্ডারিদের ভালোবাসেন। বলা যায় সেই আবেগ থেকে তিনি ৮ ফেব্রয়ারী রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের চেষ্টা করেছেন। তবে কেউ তাঁকে সামনে রেখে দলের অন্যকোন সুবিধা হাসিল করার চেষ্টা করছে কিনা তাও দেখা বিষয়।

এদিকে আগামী নির্বাচন নিয়ে অ্যাড, কবির হোসেন তাঁর অবস্থান সম্পর্কে ৮ ফেব্রয়ারী সাংবাদিকদের বলেন, রাজশাহী সদর আসনে মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচন করতে আগ্রহী।


বিএইচএস/আরজি

 
.

আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad