৩য় তারাবীহ : পঠিতব্য বিষয়ের সারসংক্ষেপ

ঢাকা, শনিবার, ২৩ জুন ২০১৮ | ৮ আষাঢ় ১৪২৫

৩য় তারাবীহ : পঠিতব্য বিষয়ের সারসংক্ষেপ

পরিবর্তন ডেস্ক ৩:০৩ অপরাহ্ণ, মে ১৯, ২০১৮

print
৩য় তারাবীহ : পঠিতব্য বিষয়ের সারসংক্ষেপ

পবিত্র রমযানুল মোবারকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আমল খতমে তারাবীহ। আমাদের দেশের অধিকাংশ মসজিদে ২৭ রমযান পর্যন্ত মোট ২৭ টি তারাবীহতে পূর্ণ কুরআন খতম করা হয়। প্রথম ছয় তারাবীহতে দেড় পারা করে মোট ৯ পারা পড়া হয়। পরবর্তী ২১ তারাবীহতে এক পারা করে বাকি ২১ পারা পড়া হয়। এভাবে ২৭ দিনে ৩০ পারা তথা এক খতম কুরআন পড়া হয়। আমাদের তারাবীহ আদায় যেন নিষ্প্রাণ প্রথাপালন না হয়ে বরং হয় কালামুল্লাহের উপলব্ধির সাথে- এ উদ্দেশ্যে ইনশাআল্লাহ, পরিবর্তন ডট কমের পাঠকদের জন্য প্রতিদিনের তারাবীহতে পঠিতব্য অংশের বিষয়বস্তুর সারসংক্ষেপ প্রকাশ করা হবে।

আজ তৃতীয় তারাবীহতে চতুর্থ পারা থেকে শুরু করে পঞ্চম পারার প্রথমার্ধ পর্যন্ত পড়া হবে। সে হিসেবে সূরা আলে ইমরানের ৯২ নম্বর আয়াত থেকে এ সুরার শেষ ২০০ নম্বর আয়াত পর্যন্ত এবং এর পরবর্তী সূরা- সূরা নিসার ১ থেকে ৮৭ নম্বর আয়াত পর্যন্ত পড়া হবে। 

পাঠকদের জন্য আজকের তারাবীহতে পঠিতব্য অংশের আলোচ্য বিষয় তুলে ধরা হলো। 

সূরা আলে ইমরান : (৯১-২০০)

পবিত্র কোরআনের তৃতীয় সূরা আলে ইমরান মদিনায় অবতীর্ণ। এর আয়াতসংখ্যা ২০০; আজ পড়া হবে ৯১ নম্বর আয়াত থেকে সুরার শেষ ২০০ আয়াত পর্যন্ত।   

এ সুরার ৯১ থেকে ১২০ নং আয়াত পর্যন্ত আহলে কিতাব ও মুমিনদের সম্বোধন করা হয়েছে, উভয়কে মৌলিক উপদেশ ও পথনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

১২১ থেকে ১২৯ নম্বর আয়াতে বদর যুদ্ধ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এ যুদ্ধে আল্লাহর সাহায্য ও ফেরেশতা নাজিলের বিষয়ে বলা হয়েছে।

১৩০ থেকে ১৪৩ নম্বর আয়াতে দান-সদাকায় উৎসাহিত করা হয়েছে। সুদের বিরুদ্ধে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জান্নাতে যেতে হলে, ক্ষমা পেতে হলে আল্লাহর পথে দান করতে হবে- একথাও বলা হয়েছে।

১৪৪ থেকে ১৮০ নম্বর আয়াত পর্যন্ত ওহুদ যুদ্ধের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। মাঝে মাঝে কাফেরদের পক্ষ থেকে ওঠা বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কঠোর সমালোচনা ও মুমিনদের প্রশংসা করা হয়েছে।

১৮১ থেকে ১৮৯ নং আয়াত পর্যন্ত আল্লাহ সম্পর্কে কাফেরদের বিভিন্ন ধরাণা ও প্রশ্নের জবাব দেওয়া হয়েছে। মুমিনদেরকে বারবার পরীক্ষা করা হবে- এ কথাও বলা হয়েছে।

১৯০ থেকে ২০০ নম্বর আয়াতে উপসংহারস্বরূপ কিছু হেদায়েতমূলক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, বিশ্বাসীরা আল্লাহর সৃষ্টি রাজ্য নিয়ে ভাবে এবং সবমসয় জিকির ও প্রশংসারত থাকে। পরস্পর ধৈর্য ধারণ করতে হবে, আল্লাহভীরু জীবনযাপন করতে হবে। তবেই মুমিনের জীবনে সফলতা ধরা দেবে বলে সূরাটি শেষ করা হয়েছে। 

সূরা নিসা : (১-৮৭)

এ সূরাটিও মদিনায় অবতীর্ণ। ক্রমিক নং অনুসারে পবিত্র কুরআনের চতুর্থ সূরা এটি। এর আয়াতসংখ্যা ১৭৬। আজ তিলাওয়াত করা হবে ১ থেকে ৮৭ নং আয়াত পর্যন্ত।

১ থেকে ১০ নম্বর আয়াত পর্যন্ত নারী ও এতিমদের অধিকার সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। এতিমদের ধনসম্পদ আত্মসাৎ না করার বিষয়ে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উত্তরাধিরাকার সম্পত্তি বণ্টনের বিষয়ে সাধারণ কিছু হেদায়েত দেওয়া হয়েছে।

১১ থেকে ১৪ নম্বর আয়াতে আগের ধারাবাহিকতায় উত্তরাধিকার সম্পর্কে বিস্তারিত নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

১৫ থেকে ২৩ নম্বর আয়াত পর্যন্ত পারিবারিক বিরোধ মীমাংসায় গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। স্ত্রী ব্যভিচার করলে তার শাস্তি কী হবে, আবার তাওবার বিধান কী তাও বলা হয়েছে। আরও বলা হয়েছে, স্ত্রীদের উত্ত্যক্ত করা যাবে না। জোরপূর্বক তাদের সম্পত্তির উত্তরাধিকারও হওয়া যাবে না।

২৩ থেকে ২৫ নম্বর আয়াত পর্যন্ত কাদের সঙ্গে কাদের বিয়ে হারাম- এ বিষয়ে বিস্তারিত বলা হয়েছে। আরও বলা হয়েছে যুদ্ধবন্দি নারী ও দাসীদের সঙ্গে কেমন আচরণ করতে হবে।

২৬ থেকে ৩৩ নম্বর আয়াতে মুমিনদের জন্য সাধারণ হেদায়েত দেওয়া হয়েছে। অন্যের সম্পদ জোর করে দখল না করা, বড় ধরনের গুনাহে জড়িয়ে না পড়া, অন্যের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ দেখে হিংসার বশবর্তী হয়ে লোভাতুর না হওয়া ইত্যাদি।

৩৪ থেকে ৪১ নম্বর আয়াতে দাম্পত্য কলহ নিরসনের পন্থা বলে দেওয়া হয়েছে। আরও বলা হয়েছে, একজন মুমিন-মুসলমানের জীবনধারা কেমন হবে। কার সঙ্গে কেমন আচরণ করতে হবে। প্রত্যেককে তার প্রাপ্য অধিকার দিয়ে দিতে হবে। আর যারা আল্লাহর সঙ্গে নাফরমানি করেছে, তাদের অবস্থা কত শোচনীয় হবে সে কথাও বলা হয়েছে রুকুর শেষ আয়াতে।

৪৩ থেকে ৫০ নম্বর আয়াতে মোমিনদের নেশাগ্রস্ত অবস্থায় নামাজে দাঁড়াতে নিষেধ করা হয়েছে। আর পবিত্রতার জন্য পানি না পেলে তায়াম্মুম করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর পর আহলে কিতাবদের উদ্দেশে ভর্ৎসনামূলক কিছু কথা বলা হয়েছে, বিশেষ করে যারা মনে করে জান্নাত শুধু তাদেরই প্রাপ্য। অষ্টম ও নবম রুকু, ৫১ থেকে ৭০ নম্বর আয়াতেও আগের ধারাবাহিকতায় আহলে কিতাবদের কেন্দ্র করে ভিন্ন ভিন্ন আঙ্গিকে আলোচনা করা হয়েছে।

৭১ থেকে ৮৭ নম্বর আয়াতে জিহাদের প্রতি উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। যারা জিহাদে অংশগ্রহণ করে, তাদের মর্যাদা এবং প্রতিদান সম্পর্কে সংক্ষেপে বলা হয়েছে। আবার যারা জিহাদের ডাক এলে গা-ঢাকা দিয়ে থাকে, তাদের ব্যাপারেও কঠোর সমালোচনা করা হয়েছে। তাদের আচরণ ও কথাবার্তা জিহাদের আগে কেমন আর জিহাদের পরে কেমন হয়, তা বাস্তব উদাহরণসহ আল্লাহ তায়ালা বলে দিয়েছেন। 

মহান রাব্বুল আলামিন আমাদেরকে তার পাক কালামের উপলব্ধির সাথে রমযানুল মোবারকের তারাবীহগুলো আদায়ের তাওফিক দান করুন। আমিন।

এমএফ/

 
.




আলোচিত সংবাদ