কেনাকাটা বিষয়ে গোপন কিছু টিপস

ঢাকা, শনিবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৭ | ১ পৌষ ১৪২৪

কেনাকাটা বিষয়ে গোপন কিছু টিপস

পরিবর্তন ডেস্ক ৩:৪৮ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ০৬, ২০১৭

print
কেনাকাটা বিষয়ে গোপন কিছু টিপস

অনেকের কাছে কেনাকাটা শখের বিষয় হলেও অনেকের কাছে এটা আতঙ্কের বিষয়। কারণ অনেকই আছেন যারা কেনাকাটা করতে যাওয়া মানেই ঠকে আসা, বেশি দাম দিয়ে কেনা, ক্ষারাপ জিনিস নিয়ে বাড়ি চলে আসেন। আবার অনেকে মার্কেটে ঘুরাঘুরিটাই পছন্দ করেন না। তারপরও কখনো কখনো তারা তাদের নিজের প্রয়োজনের ক্ষেত্রে অনেক কিছু কিনতে যায়। একটা সহজ কথা, নিয়মিত শপিং করলে যেকোনো জিনিসের দাম সম্পর্কে খুব ভালো ধারণা চলে আসে। ফলে ঠকে যাওয়ার সম্ভাবনার হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

.

কেনাকাটা করতে গেলে আগে থেকে কিছু জিনিস খেয়াল রাখতে হয়। কেনাকাটার সময় আপনার একটু সতর্কের ফলে সময় ও অর্থ দুইটাই বেচে থাকবে। তাই আজ আপনার সুবিধার্থে কেনাকাটার জন্য কিছু গোপন টিপস দিচ্ছি যেটা মেনে চললে আপনার অর্থ, সময় সব কিছুই বেঁচে যাবে।

পণ্যের তালিকা:

মার্কেটে গিয়ে কি কি পণ্য ক্রয় করবেন তার একটি নির্দিষ্ট তালিকা আগেই প্রস্তুত করে রাখুন। আপনার তালিকায় এটাও লিখে রাখুন, কোন পণ্য কোথায় থেকে সহজে ভালো জিনিষ পাওয়া যাবে। তাতে আপনার কেনাকাটা অনেকটা সহজ ও গোছানো হয়ে যাবে।

শপিং এর জন্য নির্দিষ্ট বাজেট:

মনে রাখবেন কেনাকাটার মূল শক্তি হল বাজেট। আপনি কি কিনবেন সেটা ঠিক করার পর যেটা মূল ভাবনার বিষয় তা হল, ঐ জিনিষটার মূল্য কত এবং ঐ মূল্য আপনার স্বাদ ও সাধ্যের মধ্যে আছে কিনা? তা সঠিকভাবে ঠিক করা। তাহলে আপনার কেনাকাটা সহজ থেকে আরো সহজ হবে। কাজেই অলসতা না কেনাকাটা করতে যাওয়ার আগেই নিজের পণ্য তালিকা অনুসারে একটা বাজেট করে ফেলুন।

ছুটির দিন বাদে কেনাকাটা:

সপ্তাহের মধ্যে বিশেষ করে সোমবার থেকে বৃহস্পতিবার এর মধ্যে কেনাকাটা করার চেষ্টা করুন। কারণ এ সময়টাতে দোকানে ভিড় কম থাকে বলে ঝামেলাও খুব কম হয়। ফলে সহজেই সঠিক জিনিস দেখে শুনে কিনতে পারবেন।

ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের কার্ড:

কেনাকাটার জন্য ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের কার্ড ব্যবহার থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকুন। কারণ তারা আপনাকে অফার দিবে ১০% থেকে ১৫% কমিশনের কিন্তু আপনি যখন কেনাকাটা করবেন, তখন দেখা যাবে কার্ডের ইন্টারেস্ট রেট আপনার কমিশন থেকে আরো অনেক বেশি। এতে আপনি সামান্য লাভ করতে গিয়ে অনেক বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হবেন।

শপিং সেন্টার পরিহার করুন

আপনি যদি শপিং করতে যান তাহলে সব সময় নির্দিষ্ট পণ্যের শোরুম অথবা আউটলেট থেকে পণ্য কিনবেন। নির্দিষ্ট পণ্যের শোরুম অথবা আউটলেট থেকে পণ্য কিনেন তাহলে ঐ পণ্য এর দাম ও মান দুটোই ভালো পাওয়ার একটা সম্ভাবনা থাকবে। আর এর জন্য কেনাকাটার জন্য শপিং মল এড়িয়ে চলুন।

দিনের শেষে কেনাকাটা:

দিনের শেষ ভাগে কখনো কেনাকাটা করতে যাবেন না কারণ দিনের শেষ ভাগে কেনাকাটা করতে গেলে বেশি ঝামেলার মধ্যে পড়তে হয়। বিশেষ করে এই সময় দোকানে ভীর থাকে বেশি। দিনের শুরুতে  আপনি যদি কেনাকাটা কতে যান তাহলে এই ভীরটা আপনি চোখে দেখতে পারবেন না। এছাড়া ভিড় কম থাকায় আপনার মনের মধ্যে এক ধরনের প্রশান্তি বিরাজ করবে। যার ফলে সঠিক জিনিস বেছে নেওয়ার মূল শক্তি হিসেবে কাজ করবে।

দোকানের খ্যাতি ও পণ্য:

যে দোকানে থেকে আপনি পণ্যটি কিনতে যাবেন সেই দোকানের সামাজিক পরিচিতি কেমন তা অবশ্যই আগে থেকে জেনে নেওয়ার চেষ্টা করবেন। মনে রাখবেন, অখ্যাত কোনো দোকান বা প্রতিষ্ঠান থেকে পণ্য কিনলে ঠকে যাওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি থাকে।

সবের আগ মুহূর্তে কেনাকাটা:

যেকোনো সামাজিক উৎসবের আগে কেনাকাটা করা থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকুন। কারণ এ সময় জিনিসপত্র স্বাভাবিক দামের চেয়ে অনেক বেশি দামে পণ্য বিক্রি হয়। অতএব আপনি কোনো পণ্য সঠিক মূল্যে কিনতে চাইলে অবশ্যই উৎসবের আগেই আপনাকে কিনে রাখতে হবে।

সময় সম্পর্কে সচেতন থাকুন:

কেনাকাটা করতে পূর্বেই আপনি একটা বিশেষ সময় নির্ধারণ করে রাখুন আর কখনো দীর্ঘ সময় কেনাকাটা করবেন নয়া। দীর্ঘ সময় কেনাকাটার ফলে আপনার মধ্যে বিরক্তি ভাব চলে আসতে পারে। এছাড়া আপনি অনেকটা দুর্বল হয়ে পরতে পারেন। শরীর দুর্বল হয়ে যাওয়ার কারণে সঠিক জিনিস কেনা আপনার জন্য কঠিন হয়ে যাবে। তাই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই কেনাকাটা শেষ করার চেষ্টা করুন।

পূর্ব অভিজ্ঞতা:

যেখানেই যাই কিনুন না কেন, কেনার আগে পণ্যের বিষয়ে আপনি একটা অভিজ্ঞতা লাভ করবেন। কেনাকাটার সময় চেষ্টা করুন পূর্বের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে এছাড়া নতুন অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করতে। মনে রাখবেন, একজন অভিজ্ঞ ক্রেতা অন্যের সাহায্য ছাড়াই সহজেই নিজের জন্য সঠিক জিনিস কিনতে পারবে।

সূত্র: একে

ইসি/

print
 

আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad