বাসস্থান সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন রাখার ২০ উপায়

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৭ | ৯ কার্তিক ১৪২৪

বাসস্থান সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন রাখার ২০ উপায়

পরিবর্তন ডেস্ক ৬:৫২ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১২, ২০১৭

print
বাসস্থান সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন রাখার ২০ উপায়

শান্তির নীড় সেই স্থান যেখানে প্রেবেশ করলে চারিদিক থেকে একটা মন ভালোলাগা অনুভতি জড়িয়ে ধরে। অর্থাৎ আমাদের থাকার জায়গাটি যদি সুন্দর থাকে তাহলে সারাদিন কাজের শেষে আমরা যখন ঘরে ফিরি তখন নিজের কাছে একটু শান্তি লাগে। আমাদের ঘর যদি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকে তাহলে অসুখ বিসুখ কম হয়। ঘর যদি সাজানো গোছানো তাহলে দেখতেও ভালো লাগে এবং মনও ভালো থাকে।

তাছাড়া আর মন ভালো থাকলে যেকোনো কাজ করতে ভালো লাগে। ব্যক্তিগত পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি আমাদের থাকার ঘরটিও পরিষ্কার রাখতে হবে। এতে শরীর স্বাস্থ্য ঠিক থাকবে। তাই নিজে ভালো থাকার জন্য ও সবাইকে ভালো রাখার জন্য থাকার ঘর পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা উচিত। তাই আপনাকে জানাচ্ছি বাসস্থান সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন রাখার ২০ উপায়।

আমরা অনেকে মনে করি ঘর সুন্দর ও গোছালো রাখতে অনেক কাজ করতে হয় এবং অনেক দামি দামি ফার্ণিচার লাগে। কিন্ত আমার যা আছে তা যদি আমি গুছিয়ে পরিষ্কার রাখি আমার নিজের কাছে যেমন ভালো লাগবে তেমনি অন্যরাও ভালো বলবে। কিন্ত দামি দামি ফার্ণিচারে যদি ধুলাবালি লেগে থাকে তাহলে সেখানে কেউ বসতেও চাইবে না। আমরা বিভিন্নভাবে বাসস্থান পরিষ্কার রাখতে পারি। যেমন-

১. আমরা সবাই প্রতিদিন জুতা ব্যবহার করি। জুতাগুলো ব্যবহারের পর এদিক ওদিক ছড়িয়ে ছিটিয়ে না রেখে জুতার স্ট্যান্ডে সাজিয়ে রাখলে দেখতে ও সুন্দর লাগে এবং জুতাগুলো ভালো থাকে।

২. বাইরে থেকে ঘরে প্রবেশের সময় জুতা বাইরে রাখা অথবা ঘরের বাইরে ও ভিতরে আলাদা আলাদা জুতা ব্যবহার করা।

৩. ঘরের ভিতরে একটি ঝুড়ি রাখা যেকোনো বাতিল জিনিস ঘরের মেঝে বা আশেপাশে না ফেলে ঝুড়িতে ফেলা।

৪. কোনো জিনিস খেয়ে মেঝেতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে না ফেলে এক জায়গায় রেখে খাওয়া শেষে একসাথে ফেলে দেওয়া।

৫. কয়েকদিন পর পর ঘরের ব্যবহার্য আসবাবপত্র মুছে ফেলা যাতে ধুলাবালি না জমে।

৬. সকালে ঘুম থেকে ওঠার সাথে সাথে যদি বিছানাটা গুছিয়ে রাখা হয় তাহলে দেখতে অনেক ভালো লাগে। তাছাড়া দিনের যেকোনো সময় বিছানা থেকে ওঠার সাথে সাথে বিছানা গুছিয়ে রাখতে হবে।

৭. খাটের সাথে ঝুলানো মশারিটা ব্যবহারের পর সকালে ওঠে গুছিয়ে আলাদা জায়গায় রাখা, তাহলে দেখতে ভালো লাগবে।

৮. পড়ার টেবিলে বই-খাতা পড়া শেষে গুছিয়ে রাখা আর শিশুদের গুছানোর অভ্যাস করা।

৯. ঘরের আসবাবপত্র কয়েক মাস পর পর জায়গা পরিবর্তন করা তাতে ঘর দেখতে ও ভালো লাগে এবং মন ভালো থাকে।

১০. যাদের ঘরে শিশু রয়েছে তারা শিশুদের কাপড় চোপড় ও খেলনার জন্য আলাদা আলাদা বক্স ব্যবহার করা। খেলা শেষে তাদের খেলনা নিজে গুছিয়ে রাখা এবং তাদেরকে গুছিয়ে রাখতে উৎসাহিত করা।

১১. ডাইনিং টেবিলে খাওয়ার পর হাড়ি পাতিল, প্লেট, গ্লাস, জগ ইত্যাদি যার যার জায়গায় গুছিয়ে রাখা এবং গ্লাসের স্ট্যান্ড কিছুদিন পর পর ধুয়ে পরিষ্কার রাখা।

১২. ঘরের বাথরুম সবসময় পরিষ্কার রাখতে হবে। যাদের বড় পরিবার তাদেরকে সপ্তাহে দুইবার এবং যাদের ছোট পরিবার তাদেরকে সপ্তাহে একবার ধুতে হবে।

১৩. রান্নাঘরের বেসিন হাড়ি পাতিল ধোয়ার পর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। সম্ভব হলে সপ্তাহে একবার ব্লিচিং পাউডার দিয়ে ধুতে হবে। যাতে রোগ জীবানুর আক্রমণ না হয়।

১৪. ড্রেসিং টেবিলের ওপর আমরা অনেকে প্রসাধনী সামগ্রী এলোমেলো করে রাখি। প্রয়োজনের সময় আমরা কিছু খুঁজে পায় না। কিন্ত এগুলো যদি গুছিয়ে রাখি তাহলে ঘরটা দেখতে সুন্দর লাগবে।

১৫. বছর শেষে হওয়ার সাথে সাথে আমরা আগের বছরের ক্যালেন্ডার খুলে নতুন বছরের ক্যালেন্ডার লাগাব। তাতে ঘরের সৌন্দর্য বাড়বে।

১৬. প্রত্যেক রুমের সামনে একটা করে পাপশ দিন। তাতে রুমে ময়লা কম হবে এবং বিছানা পরিষ্কার থাকবে।

১৭. সব রুমের দরজা-জানালায় পর্দা লাগান এবং ঘরের সৌন্দর্য বাড়ান।

১৮. ঘরের মধ্যে সবচেয়ে অগোছালো থাকে কাপড় চোপড়গুলো। ঘরের সবাইকে যার যার কাপড়গুলো গোছানোর অভ্যাস করাতে হবে। বিশেষ করে শিশুদের স্কুল থেকে আসার পর কাপড়গুলো নিজে গুছিয়ে রাখার অভ্যাস করাতে হবে।

১৯. বর্তমানকালে সবার ঘরে কিছু না কিছু ওষুধ প্রতিদিন খাওয়া লাগে। কিন্ত প্রয়োজনের সময় অনেক ক্ষেত্রে খুঁজে পাওয়া যায় না। তাই এসব ঝামেলা থেকে বাঁচতে এবং ঘরকে সুন্দর রাখতে সব ওষুধ এক জায়গায় একটি বক্সে গুছিয়ে রাখতে হবে।

২০. প্রতিদিন ঘরের মেঝে মুছতে না পারলেও দুই একদিন পর মুছা।

তথ্য সূত্র : বিএস

ইসি/

print
 

আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad