নাইকির জনপ্রিয়তার রহস্য কী?

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৭ জুন ২০১৭ | ১৩ আষাঢ় ১৪২৪

নাইকির জনপ্রিয়তার রহস্য কী?

পরিবর্তন ডেস্ক ৩:৪৪ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ০২, ২০১৭

print
নাইকির জনপ্রিয়তার রহস্য কী?

স্নিকারের জগতে নাইকি জনপ্রিয় এক ব্র্যান্ড। দৌড়, হাঁটা ও লাফালাফির সময় পায়ের আরামের জন্য নাইকির স্নিকার খেলোয়াড়দের কাছে খুবই প্রিয়। অ্যাথলেটদের কিংবদন্তি হয়ে উঠতে সাহায্য করেছে এই ব্র্যান্ড। প্রায় ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে এই ব্র্যান্ড সারা পৃথিবী দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। কিন্তু কেন এই ব্র্যান্ড এতো জনপ্রিয়? আসুন জেনে নেই।

১৯৭৩: অ্যাথলেটদের প্রথম স্পন্সর করেছিল নাইকি

২২ বছর বয়সী স্টিভ প্রোফোন্টাইন দৌড়বিদ হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠেন। তিনি প্রি নামে পরিচিত হন এবং একজন অভিজাত অ্যাথলেট। প্রি মাত্র ১৫ বছর বয়সে জাতীয় রেকর্ড করেন। তিনি প্রতি লং ডিস্ট্যান্স দৌড়ে একজন আমেরিকান হয়ে রেকর্ড গড়েন। মাত্র ২৪ বছর বয়সে সড়ক দুর্ঘটনায় তিনি মারা যান। ১৯৭৪ সালে তিনি নাইকির সঙ্গে ৫০০০ মার্কিন ডলারের চুক্তি করেন। তখন নাইকির বয়স ছিলো মাত্র ৩ বছর। প্রির সুন্দর চুল, পাঙ্ক রকদের মতো আচরণ ও অভূতপূর্ব সাফল্য নাইকিকে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, প্রভাবশালী ও অ্যাথলেটদের সাফল্যের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হিসেবে সবার সামনে নিয়ে আসে।

১৯৭০-১৯৭৮: জগিং জনপ্রিয় করে তোলে নাইকি

নাইকির সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল বাওয়ারম্যান ছিলেন অরিগন বিশ্ববিদ্যালয়ের দৌড়ের কোচ। তিনি প্রিকে নাইকির সঙ্গে চুক্তিকে আসতে তাকে প্রভাবিত করেন। বাওয়ারম্যান দৌড়াতে অনেক পছন্দ করতেন। দৌড় শিশু ও অ্যাথলেটদের মধ্যে জনপ্রিয় হলেও এটা সামাজিক চাহিদায় পরিণত হয়নি তখন। হৃদরোগ থেকে মুক্তি পেতে প্রতিদিন সকালে দৌড়ানো স্বাস্থ্যের জন্য যে উপকারী তা এ সময় সবার মধ্যে ছড়িয়ে পড়লো। এ সময় বাওয়ারম্যান দৌড়ানোর উপকারীতা নিয়ে বই লেখেন। জগিং সে মুহূর্তে আমেরিকানদের জন্য প্রয়োজনীয় একটা অভ্যাসে পরিণত হয়। কিন্তু আপনি যদি ভালো কোনও জুতা পড়ে বের না হন তাহলে তা নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি এবং আপনি স্বাচ্ছন্দ্যও অনুভব করবেন না। তাই নাইকির জগিং শুর প্রতি সবার ঝোঁক বাড়তে শুরু করলো।

১৯৮৫: বাজারে আসলো এয়ার জর্ডান

মাইকেল জর্ডান নাইকির নতুন ডিজাইনের জুতার বিজ্ঞাপনে চুক্তিবদ্ধ হন। এয়ার জর্ডান নামের এই নতুন জুতা নাইকি বাজারে আনে ১৯৮৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে। কিন্তু আদালত থেকে এই বিজ্ঞাপন ও পণ্য দু’টিই নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়। নতুন এই জুতার রং নিয়ে তারা আপত্তি জানায় এবং জর্ডানকে তার দল প্রতি ম্যাচে নাইকির জুতা পড়ার জন্য ৫০০০ মার্কিন ডলার জরিমানা করে। নাইকি জর্ডানকে এই জরিমানা পরিশোধ করতে সাহায্য করে। এই ঘটনা নাইকিকে সারা আমেরিকায় জনপ্রিয় করে তোলে। পরবর্তীতে এয়ার জর্ডান নাইকির অন্যতম ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। এটা নাইকির ভক্তদের মনে এতটাই দাগ ফেলে যে এর প্রতি লিমিটেড এডিশনের জন্য তারা লাইন দিয়ে অপেক্ষা করে।

ভিডিও লিংক

১৯৮৮: মাইকেল জর্ডান ও স্পাইক লির বিজ্ঞাপন

নাইকি ওয়েডিন ও কেনেডি অ্যাডভারটাইজিং এজেন্সিকে দিয়ে তাদের বিজ্ঞাপন করায়। তারা মাইকেল জর্ডান ও স্পাইক লিকে নিয়ে বিজ্ঞাপন তৈরি করে। আগের বিজ্ঞাপনের মতো ঘর্মাক্ত কোনও অ্যাথলেটকে এখানে দেখানো হয়নি। অ্যাথলেটরা যে মানুষ তা এখানে পরিবেশন করা হয়েছে। কৌতুক মেশানো এ বিজ্ঞাপন জনপ্রিয়তা পায় সবার মধ্যে।

ভিডিও লিংক 

নব্বই দশক: নাইকি জনপ্রিয়তার শীর্ষে

১৯৯০ সালে নাইকি আমেরিকার সবচেয়ে বড় স্পোর্টসওয়্যার প্রস্তুতকারক হিসেবে নাম করে। ১৯৯৭ সালে এর শেয়ার ৪৭.৫ শতাংশে পৌছে। প্রতি দুই বিক্রিত স্নিকারের মধ্যে একটি নাইকি। মাইকেল জর্ডানের পর সব বড় বড় অ্যাথলেটদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে নাইকি সবার কাছে নির্ভরতার প্রতীক হয়ে ওঠে।

নেলির এয়ারফোর্স ওয়ান গান

২০০২ সালে নেলি এয়ারফোর্স ওয়ান গান মুক্তি পায়। বিলবোর্ডে এই গান ৩ নাম্বারে চলে আসে। ১৯৮২ সালে নাইকির এয়ারফোর্স ওয়ান স্নিকার নিয়ে এই গান মূলতঃ। এই স্নিকার কেনা নিয়ে এই গানের ভিডিওটি। ফলে নাইকি আবার লাইমলাইটে চলে আসে।

ভিডিও লিংক

২০০৯: কেনিয়ে ওয়েস্টের সঙ্গে নাইকি

২০০৭ সালে অ্যাথলেট থেকে নাইকি ঝুকে পড়ে র‌্যাপ ও হিপহপ সঙ্গীতের দিকে। নাইকির নতুন মডেল এয়ার ইজি ১ ও ২ র‌্যাপ ও হিপহপ গায়ক কেনিয়ে ওয়েস্টের হাত ধরে জনপ্রিয়তা পায়। এই মডেলে বাজারে ছাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিক্রি হয়ে যায়।

যদিও ওয়েস্ট এখন অ্যাডিডাসকে বেছে নিয়েছেন। তার এয়ার ইজি র‌্যাপ ২ এখন রেড অক্টোবর নামে নাইকির কালেক্টর’স আইটেমে শোভা পাচ্ছে। এর সেকেন্ড হ্যান্ড আপনি এক হাজার ডলারে কিনতে পারবেন।

২০১৬: নাইকির হাইপার অ্যাডাপ্ট ১.০  

২০১৬ সালে নাইকি স্বয়ংক্রিয় স্নিকার হাইপার অ্যাডাপ্ট ১.০ বাজারে নিয়ে আসে। প্রযুক্তিতে এগিয়ে এই জুতায় আপনার ফিতা বাধতে হবে না। যখন আপনি পিছলে পড়ে যাবেন এমন সম্ভাবনা তৈরি হলে এই জুতা নিজেই আরো আটোসাটো হয়ে বসবে। ভবিষ্যতের জুতা হিসেবে একে ডাকা হয়। এটার মূল্য ধরা হয় ৭২০ মার্কিন ডলার।

নাইকি এখর ধীরে ধীরে বাজারে নতুন নতুন ক্যাটাগরিতে তাদের পণ্য উন্নয়ন করছে। নাইকির এই অ্যাথলেটদের ফ্যাশন সাধারণ মানুষও অনুসরণ করছে। নাইকির নতুন স্ট্রীটওয়্যার ব্র্যান্ডের নাম নাইকি ল্যাব। নাইকি ও নাইকি ল্যাব মিলে আমেরিকানদের কাছে তৈরি করছে নতুন ফ্যাশন।

সূত্র: বিজনেস ইনসাইডার

আরবি/এসবিআই    

print
 

আলোচিত সংবাদ