রোহিঙ্গাদের ত্রাণ দিতে চাইলে বিষয়গুলো মাথায় রাখুন

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ নভেম্বর ২০১৭ | ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৪

রোহিঙ্গাদের ত্রাণ দিতে চাইলে বিষয়গুলো মাথায় রাখুন

অ্যাডভোকেট আবদুর রহমান রাহীল ৭:৫৯ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ০৩, ২০১৭

print
রোহিঙ্গাদের ত্রাণ দিতে চাইলে বিষয়গুলো মাথায় রাখুন

চলমান রোহিঙ্গা ক্রাইসিসের প্রায় শুরুর দিক থেকেই আমি ও আমার কিছু বন্ধু ত্রাণকার্যে নিয়োজিত আছি। মূলত দেশ- বিদেশ থেকে আমাদের কিছু আত্মীয় পরিজন, ভাই-বন্ধুর পাঠানো অর্থে আমরা এই কাজ করে যাচ্ছি, যাতে সঠিক লোকজনের হাতে এই ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে।

.

প্রথমদিকে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা দেখা গেলেও সেনাবাহিনী দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে এখন অনেকটাই স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছে। বেশিরভাগ রিফিউজিকেই মোটামুটি বিভিন্ন ক্যাম্পে শেডের ভেতরে নিয়ে আসা হয়েছে। বিশেষ করে, ভাসমান ও নোম্যান্সল্যান্ডে থাকা কয়েক লক্ষ লোক এখন ক্যাম্পে চলে এসেছে।

চলমান এই সমস্যা একটি বড় সমস্যা। এতগুলো মানুষকে তত্ত্বাবধান করা সহজ নয়। তাছাড়া ব্যক্তিগত ত্রাণ দিয়ে এই সমস্যার পুরোপুরি সমাধান সম্ভবও নয়। তবুও সকলের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় হয়তো কিছু মানুষের হলেও দুঃখ উপশম সম্ভব। চলমান ত্রাণকার্যে সারাদেশ থেকে স্রোতের মতো মানুষের আগমণ আমাদের আশান্বিত করে। আমাদের দেশের লোকজন প্রমাণ করে দিয়েছে আমরা কতটা উদার হতে পারি। সারাবিশ্ব এদেশের লোকজন ও সরকারকে ধন্যবাদ জানাচ্ছেন। বিশেষকরে সেনাবাহিনীর অবদানের কথা তো সকলেই স্বীকার করছেন। এত বিশাল এক জনস্রোতকে সফলতার সাথে উনারা সামলে নিয়েছেন।

আমি আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে কিছু কথা বলব—

১) আপনারা ত্রাণসামগ্রী নিয়ে অবশ্যই আর্মির ভাইদের সহায়তায় তালিকাভুক্ত হবেন এবং নিজেরা বণ্টন করতে চাইলেও উনাদের নির্দেশনা মেনে চলুন।

২) ওয়াটার, স্যানিটেশন, মসজিদ, স্কুল এই সমস্ত অবকাঠামোগত খাতে কাজ করতে চাইলেও উনাদের সাহায্য নিন। স্থায়ী ক্যাম্পগুলোতে যেখানে নতুনরা এসে উঠেছে তা চিনে নিয়ে কাজ করুন।

৩) প্রয়োজনে ওখানকার কমিউনিটি ওয়ার্কার কেউ পরিচিত থাকলে তাকে নিয়ে ঘুরে দেখে আসুন কোথায় কাজগুলো করলে বেশি মানুষ সুবিধা পাবে।

৪) খাদ্যদ্রব্য, কাপড়, তৈজসপত্র বণ্টনে সেনাবাহিনী ও সরকার পরিচালিত ত্রাণকেন্দ্রগুলোর টোকেন সিস্টেম ফলো করুন। এতেই সঠিক বণ্টন হয়। নিজেরা ট্রাক নিয়ে ঢুকে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করবেন না। অভাবী মানুষগুলো ট্রাকে হামলে পড়লে এতে তাদের দোষ দেয়া যায় না।

৫) যতটা সম্ভব ব্যক্তি উদ্যোগে কাজ করলে ভাল। ব্যানার শো করার খুব একটা দরকার এখানে নাই বলে মনে করি। যদি মানুষকে সাহায্যই আমাদের উদ্দেশ্য হয় তবে গোপন দানই কি উত্তম নয়?

৬) যতটা সম্ভব কম লোক নিয়ে যান। বেশি মানুষের বহর নিয়ে লজিস্টিক খরচ বেশি করার দরকার নেই। এতে সময় ও অর্থের বাজে খরচ তো হয়ই, ক্যাম্পে অত্যাধিক লোক প্রবেশ করার ফলে অন্য ত্রাণ কর্মীদের অসুবিধা হয়।

৭) সকালে তাড়াতাড়ি আসুন এবং দিনের আলোতে কাজ শেষ করুন। সেনাবাহিনীর নির্দেশিত সময়ের ভেতর কাজ শেষ করুন। কারণ রাতের অন্ধকারে কোনো ক্রাইম হলে এর দায়িত্ব কেউ নেবে না। তাছাড়া অনেক সময় অপরাধীদের ধরতে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে আপনিও বিপদে পড়ে যেতে পারেন।

আল্লাহ আমাদের সবাইকে অসহায় মানবতার সেবায় নিয়োজিত থাকার তৌফিক দিন।

লেখক : আইনজীবী, চট্টগ্রাম জজ আদালত

লেখকদের উন্মুক্ত প্লাটফর্ম হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে মুক্তকথা বিভাগটি। পরিবর্তনের সম্পাদকীয় নীতি এ লেখাগুলোতে সরাসরি প্রতিফলিত হয় না।
print
 

আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad