আমি যা লিখেছি জেনে বুঝে লিখেছি

ঢাকা, রবিবার, ২২ অক্টোবর ২০১৭ | ৭ কার্তিক ১৪২৪

আমি যা লিখেছি জেনে বুঝে লিখেছি

আলহাজ মোশতাক আহমেদ রুহী ১০:৫২ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০১৭

print
আমি যা লিখেছি জেনে বুঝে লিখেছি

মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স.) উনার আনুগত্য ও অনুসরণকে আমাদের জন্য কর্তব্য হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘তোমরা আমাকে যেভাবে নামাজ আদায় করতে দেখ, সেভাবে নামাজ আদায় কর।’ (বোখারী)

আমার নামায দেখে শিখতে পারো (বোখারী ও মুসলিম)। বোখারী ৪৭৫.৪৭৬.৪৭৭. অনুচ্ছেদ: ও মুসলিম-
রাসুলুল্লাহ (স.) কেরাআত শেষ করার পর তাকবীরে তাহরীমার মত উপরের দিকে দুই হাত তুলতেন এবং তাকবীর বলতেন ও রুকুতে যেতেন। রুকু থেকে সোজা হয়ে দাঁড়ানোর সময় দু’হাত উপরে ওঠাতেন। (রুকুতে যাওয়ার আগে এবং রুকু থেকে ওঠার সময় দু’হাত তোলার ব্যাপারে মোতাওয়াতের বর্ণনা রয়েছে। অর্থাৎ বহু সংখ্যক বর্ণনাকারী দ্বারা তা বর্ণিত হয়েছে। তিন ইমাম, অধিকাংশ মোহাদ্দেস ও ফকীহ এবং ইমামের মাযহাবও এটাই-বোখারী ও মুসলিম)। বোখারী ৭৮১.৭৮২. অনুচ্ছেদ : ও মুসলিম।

রাসুলুল্লাহ (স.) প্রথম সিজদাহ থেকে আল্লাহু আকবার বলে মাথা উঠিয়ে ক্ষণিকের জন্য যেভাবে বসেছিলেন একইভাবে দ্বিতীয় সিজদাহ থেকে সোজা হয়ে বাম পায়ের উপর বসতেন এবং প্রত্যেক বার স্ব স্ব স্থানে বহাল হওয়া পর্যন্ত বিশ্রাম নিতেন। তারপরে উঠতেন।
তিনি তাশহুদের সময় বাম হাতের তালু, বাম হাঁটুর উপর বিছিয়ে দিতেন। ডান হাতের সব আঙ্গুল মুষ্টিবদ্ধ করে রেখে কেবল তর্জনি বা শাহাদাত অঙ্গুলির দ্বারা কেবলার দিকে ইঙ্গিত দিতেন এবং এর দিকে চোখ দিয়ে তাকিয়ে থাকতেন। তিনি যখন আঙ্গুল দিয়ে ইশারা করতেন, তখন বৃদ্ধাঙ্গুলিকে মধ্যমার উপর রাখতেন।

নাসের উদ্দিন আল দীন আলবানী (র.) বর্তমান যুগের সর্বশ্রেষ্ঠ মোহাদ্দেস বা হাদিস বিশারদ। আরব ও মুসলিম বিশ্বে তিনি হাদিস শাস্ত্রের ইমাম ও রেফারেন্স ব্যক্তি হিসেবে গণ্য। তিনি বিভিন্ন হাদিস গ্রন্থ থেকে বিশুদ্ধ হাদিসগুলোকে দুর্বল ও জাল হাদিস থেকে পৃথক করেছেন। উনার রেফারেন্সের উপরে উল্লেখিত বর্ণনা পাওয়া যায়।

বি. দ্র. উর্দু ভাষার হাদিস বিশারদ রচিত কিতাবগুলো থেকে এ সংক্রান্ত ভিন্ন বর্ণনা বর্ণিত হয়েছে যা বিজ্ঞ ওলামায়ে কেরামসহ সাধারণ মুসলমানদের মধ্যে মতপার্থক্যের সৃষ্টি করেছে।

আবুল ফিদা হাফিজ ইবন কাসির (র) কর্তৃক আরবি ভাষায় রচিত ১৪ খণ্ডে সমাপ্ত ‘আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া গ্রন্থে আল্লাহ তা’আলার বিশাল সৃষ্টি জগত সমূহের সৃষ্টিতত্ত্ব ও রহস্য, মানব সৃষ্টিতত্ত্ব এবং আম্বিয়া-ই-কিরামের সুবিস্তিত ইতিহাস বর্ণনা করা হয়েছে। ইসলামের ইতিহাসবিদদের কাছে গ্রন্থগুলো দিকনির্দেশক হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।

অনুবাদ বা ভাষান্তর একটি জটিল বিষয়। কোরআনের মতো একটি আসমানি গ্রন্থের ব্যাপারে জটিলতার সঙ্গে স্পর্শকাতরতার বিষয়টিও জড়িত। মানুষের তৈরি গ্রন্থের বেলায় বক্তার কথার হুবহু ভাষান্তর তেমন কিছু যায় আসে না। কিন্তু কোরআনের ক্ষেত্রে বিষয়টি এতোই গুরুত্বপূর্ণ যে, অনুবাদের একটু হেরফের হলে আল্লাহ তায়ালার কথাই বিতর্কিত হয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। এসব কারণেই ভারত উপমহাদেশের মুসলমানদের মাঝে কেউই দীর্ঘ সময় পর্যন্ত কোরআনের অনুবাদের ঝুঁকি নেননি।

১৭৭৬ সালে শাহ রফিউদ্দীন ও ১৭৮০ সালে শাহ আব্দুল কাদের কোরআনের উর্দু অনুবাদ করেন। বাংলা ভাষায় কোরআন অনুবাদের কাজ অনেক দেরিতে শুরু হয়েছিল। কারণ ছিল অনেক। তন্মধ্য ভারত উপমহাদেশের যারা কোরআনের এলেমের সঙ্গে সুপরিচিত ছিলেন- সেসব কোরআন সাধকদের অনেকেরই কোরআন শিক্ষার প্রাণকেন্দ্র ছিল ভারতের ঐতিহ্যবাহী দ্বীনী প্রতিষ্ঠান দেওবন্দ, সাহারানপুর, নদওয়া, জামেয়াতুল ফালাহসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। সবগুলোর ভাষা ছিল উর্দু কিংবা ফার্সি। তাই স্বাভাবিকভাবেই এসব দ্বীনী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে যারা উচ্চতর সনদ নিয়ে বের হয়েছেন তাদের কোরআন গবেষণার পরিমণ্ডলও সে ভাষার ভিতর সীমাবদ্ধ ছিল।

লেখক : নবম জাতীয় সংসদের সদস্য

লেখকদের উন্মুক্ত প্লাটফর্ম হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে মুক্তকথা বিভাগটি। পরিবর্তনের সম্পাদকীয় নীতি এ লেখাগুলোতে সরাসরি প্রতিফলিত হয় না।
print
 

আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad