বাংলাদেশ কী মানবিক ভাবে পরাজিত হবে?

ঢাকা, বুধবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৭ | ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৪

বাংলাদেশ কী মানবিক ভাবে পরাজিত হবে?

শতাব্দী জুবায়ের ৪:১৫ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২০, ২০১৭

print
বাংলাদেশ কী মানবিক ভাবে পরাজিত হবে?

বাংলাদেশ আর মিয়ানমারকে বিভক্তকারী নাফ নদীতে ভাসছে পঁচা, অর্ধগলিত শিশু, যুবা, পুরুষ, নারীর লাশ। গর্ভবতী মায়েরা সন্তান জন্ম দিচ্ছে জঙ্গলে-পাহাড়ে। কেউবা অনাগত সন্তান পেটে নিয়ে হাটছে মাইলের পর মাইল। বেয়ে ওঠছে পাহাড়ের ওপরে। শুধু বেঁচে থাকার জন্য মুত্যু ভয়কে তুচ্ছ জ্ঞান করে পাড়ি দিচ্ছে উত্তাল সাগর। মাঝে মাঝে ডুবছে নৌকা জাহাজ। ডুবেও মরছে কেউ। কোন রকম প্রাণ নিয়ে এসে বাংলাদেশে শরনার্থী শিবিরে আশ্রয় নিয়েছে। এই সাময়িক আশ্রয়েই কি সব সমস্যার সমাধান হয়ে গেল?

.

হয়তো ভয়ানক গুলির শব্দ আর মৃত্যু ভয় থেকে রোহিঙ্গারা রক্ষা পেয়েছে বাংলাদেশ সরকারের মানবিক সহায়তায় জন্য। কিন্তু মায়ানমার থেকে পালিয়ে আসা এই রোহিঙ্গাদের নিত্য পেট ভরে খাবার না পেলেও কিছু খাবার লাগছে। এই খাবারগুলো আসবে কোথায় থেকে? যেখানে বন্যার ক্ষত থেকেই বের হতে পারছেনা বাংলাদেশ। হয়তো কিছু দেশ সাময়িক সময়ের জন্য কিছু ত্রাণ দিচ্ছে। সব সময় কি এই ত্রাণ দিয়ে যাবে ওরা?

ইতিহাসের কোন ঘটনা নেই যে সব সময় ত্রাণ দিয়ে যাবে। এক সময় সবাই চুপ হয়ে যাবে। তখন মানবিক আশ্রয় দেয়া রোহিঙ্গাদের খাবার সরবরাহ হবে আমার আপনার খাবারের অংশ থেকে। কিন্তু এই যে ভয়াবহ সংকট এর সমাধান কি? বাংলাদেশ যে হুমকিতে পড়তে যাচ্ছে এই বিষয়টা ঘুলাটে মনে হলেও স্পষ্ট। কারণ ২৫ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া রোহিঙ্গা জাতি গোষ্ঠির নিধন এখনও নিত্য ধারাবাহিক ভাবেই চলছে। বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে নিয়মিতই রোহিঙ্গারা ডুকছে।

মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আসা এই প্রায় সাড়ে ৪ লাখ রোহিঙ্গাদের পূর্ণবাসনের জন্য কোন আর্ন্তজাতিক উদ্যোগও দেখছি না। এটা বাংলাদেশের জন্য মোটেও ভাল খবর নয়। ২০১২ সালে যে দেড় লাখ রোহিঙ্গা এসেছে তাদের এক জনকেও ফিরেয়ে নেয়নি মায়ানমার। নেবেও না। এর জন্য কোন দেশকে কথা বলতেও দেখছিনা। বরং বাংলাদেশ এই বোঝা ভারাক্রান্ত শ্রান্ত মনে বয়ে যাচ্ছে। কিন্তু আর কত? বাঙ্গালি জাতি মানবিকতার কাছে কোন দিন পরাজিত হয়নি। নাকি রোহিঙ্গা ইস্যূতে হতে বাধ্য হচ্ছে? তাহলে মিয়ানমার যদি রোহিঙ্গাদের ফিরেয়ে না নেয় বাংলাদেশের ভবিষ্যত কি হবে? বাংলাদেশের বাড়তি জনসংখ্যার জন্য এমনিতেই দেশ হিমশিম খাচ্ছে।

বাংলাদেশ ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয় থেকে জানা যায়, পালিয়ে আশা রোহিঙ্গাদের মধ্যে ১৭৩জন শিশু জন্ম হয়েছে। এদিকে আরো ৭০ হাজার নারী সন্তান সম্ভবা। আগত অনাগত এই শিশুদেরও স্থানই কিভাবে দেবে বাংলাদেশ?

রোহিঙ্গা ইস্যুতে অনেক দিন পর মুখ খুললেন সুচি। তিনি সব ধর্মের মানুষদের রক্ষা করার প্রতিশ্রুতি দেন! তিনি শান্তি চান! ঐক্য চান! যুদ্ধ চান না! এখন প্রশ্ন হল যদি তিনি এই সবই চান তাহলে তার দেশ থেকে লাখ লাখ মানুষকে সাগর পাড়ি দিয়ে আসতে বাধ্য করলেন কেন? তিনি সত্যিই কী চান? নাকি ফরমালিটি? এই প্রশ্নটা বারবার মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে।

বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গারা হচ্ছে অশিক্ষিত জন গোষ্ঠী। তাদের যতদ্রুত সম্ভব দেশে পাঠানো দরকার। না হলে বাংলাদেশে রীতিমতো হুমকির মুখে পড়বে। বাংলাদেশে আরো জঙ্গি গোষ্ঠীর উত্থান হবে। কারণ তারা এখন এই দেশে থাকার বিনিময়ে যে কোন কাজ করতে দ্বিধা করবে না। তাদের কোন বাড়ি ঘর নেই। তারা উদ্ভাস্তু। তারা ভবিষ্যতে সন্ত্রাসী রুপ নেবার সম্ভাবনাই বেশী। তাই সরকারকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাথে কথা বলে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তাদের পুর্ণবাসন করতে হবে।

জাতিসংঘসহ বিশ্বের বিভিন্ন মুসলমান দেশের সাথে এই ব্যাপারে আলোচনা করতে হবে। বাংলাদেশ তাদের মানবিক আশ্রয় দিয়ে কোন পাপ করেনি। বাংলাদেশ মানবিকই থাকতে চায়। অমানবিক হতে হায় না। মানুষ মানুষের জন্য। তাই বাংলাদেশ সরকার মানবিকভাবে যাতে পরাজিত না হতে হয় এই সচেষ্টাই করে যাওয়া উচিত।

শিক্ষার্থী: বাংলা বিভাগ, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়
email-smjubayer85@gmail.com

লেখকদের উন্মুক্ত প্লাটফর্ম হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে মুক্তকথা বিভাগটি। পরিবর্তনের সম্পাদকীয় নীতি এ লেখাগুলোতে সরাসরি প্রতিফলিত হয় না।
print
 

আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad