বন্ধু দিবসের উল্টো পিঠ

ঢাকা, সোমবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ | ৭ ফাল্গুন ১৪২৪

বন্ধু দিবসের উল্টো পিঠ

মো. জাহাঙ্গীর আলম ৮:৪৩ অপরাহ্ণ, আগস্ট ০৬, ২০১৭

print
বন্ধু দিবসের উল্টো পিঠ

আজ বন্ধু দিবস...কীভাবে এই দিনটা বন্ধু দিবস, এর পেছনে কার্যকারণ কী আমি জানি না। জানার আগ্রহও নাই। দিবস-টিবস এইসব পুঁজিবাদের খাদ্য। আমি আদার ব্যাপারী জাহাজের খবর রেখে লাভ কি! কিন্তু এবারের ঘটনা ভিন্ন। কাকতাললীয়ভাবে এবারের বন্ধু দিবস এমন একটা দিনে যেদিন পৃথিবীর একটা সমৃদ্ধ অঞ্চলে ঘটে যায় ইতিহাসের লজ্জাজনক নরকীয় হত্যাকাণ্ড। বাঁচার জন্য মানুষ সমুদ্রে ঝাঁপিয়ে পড়ে; কিন্তু রক্ষা পায়নি। শিশু-বৃদ্ধ-যুবা কেউ রক্ষা পায়নি সেদিন। আকাশের বর্ণ ছিল লাল আর ভূমি তামাটে। না রক্তের কোনো দাগ ছিল না মাটিতে, ঝলসে যাওয়া মানুষের রক্ত দেখা যায় না। সেই ভূমির নাম হিরোশিমা।

আইনিস্টাইন আর রুজভেল্টের যুগপদ কারিশমায় সেখানকার মানুষ আজও বয়ে বেড়াচ্ছে সেই বিভীষিকাময় দিনের স্মৃতি। এখনও হিরোশিমায় শারীরিক প্রতিবন্ধী শিশুর জন্ম হয় পারমাণবিক রেডিয়েশনের কারণে। আপনি যখন বন্ধুদের নিয়ে বন্ধু দিবসের মজা নিচ্ছেন তখন হিরোশিমার এক কোণে কোনো বৃদ্ধ তার হারানো বন্ধুর জন্য চোখের পানি ফেলছে। আপনি, আমি যখন রাত ১২টায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বন্ধুদের শুভকামনা জানাচ্ছি, তখন রেডিয়েশনের কারণে শারীরিক প্রতিবন্ধী হয়ে জন্ম নেওয়া শিশুটি খাট থেকে নিচে নামার জন্য সংগ্রাম করে যাচ্ছে। তাদের কাছে আজকের এই বন্ধু দিবস প্রহসন মাত্র। স্বজন হারানো সেই মানুষদের অনেক শ্রদ্ধা।
পুনশ্চঃ এই দিনটি নিয়ে অনেক কবিতা আছে। তবে কোনো এক অজানা কারণে বাংলায় নেই বললেই চলে। অনেক খোঁজাখোঁজি করে শ্রদ্ধেয় সাইদুর রহমান স্যারের অনুবাদ করা এই কবিতাটি পেলাম।

আমাদেরকে ধাত্রী হতে দাও।। সেদেখো কুরিখারা

বর্তমানে ধংসপ্রাপ্ত কংক্রিটের সেই ভূতল কক্ষের রাত্রি
সেখানে ভিড় করে আছে
পারমাণবিক বোমার শিকার মানুষগুলো;
সেটা ছিলো অন্ধকার— একটা মোমবাতিও নেই।
টাটকা রক্তের গন্ধ, মৃত্যুর দুর্গন্ধ,
ঘর্মাক্ত মানুষের ঠাঁসাঠাঁস গাদাগাদি, আর্তচিৎকার।
এ সবককিছু ছাপিয়ে, ওহে, শোনো সেই উচ্চকিত কণ্ঠধ্বনি:
‘‘শিশুটি আসছে!’’
সেই নারকীয় ভূতলগৃহে, সেই মুহূর্তে,
যুবতি এক নারী সন্তানের জন্ম দিতে যাচ্ছে।
অন্ধকারে, কী করার আছে, যেখানে একটা দেশলাইও নেই?
মানুষগুলো নিজেদের যন্ত্রণা ভুলে, উদ্বিগ্ন হলো ওর জন্য।
আর তারপর: ‘‘আমি একজন দাই, সাহায্য করবো প্রসবকাজে।’’
বক্তা নিজেই মারাত্মক জখমের শিকার,
মুহূর্ত আগেও কাতরাচ্ছিলো।
আর তাই সেই নরকের অন্ধকার গহ্বরে ভূমিষ্ঠ হলো নবজীবন।
আর তাই ভোরের আগেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লো সেই ধাত্রী, তখনও রক্তস্নাত।
আমাদেরকে ধাত্রী হতে দাও!
ধাত্রী হতে দাও আমাদেরকে!
এমনকি, যদি আমাদের জীবনেরও অমন পরিণতি ঘটে।

* সেদেখো কুরিখারা (৪ মার্চ ১৯১৩ - ৬ মার্চ ২০০৫): হিরোশিমায় বসবাসকারী জাপানি কবি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে পরমাণু বোমা নিক্ষেপকালে তিনি হিরোশিমায় অবস্থান করছিলেন এবং আহত হলেও প্রাণে বেঁচে যান। ‘আমরা যখন উচ্চারণ করি: হিরোশিমা’ নামে তার কবিতাগ্রন্থটি পৃথিবীময় ব্যাপক পঠিত।

লেখক

মো. জাহাঙ্গীর আলম
সহকারী প্রধান, পরিকল্পনা কমিশন

মো. জাহাঙ্গীর আলম এর আরও লেখা

বিসিএস বিভ্রাট

নীল তিমি...সতর্কবার্তা না বিজ্ঞাপন!!!

'রাষ্ট্রহীন এক জাতির গল্প'

বন্ধু দিবসের উল্টো পিঠ

লেখকদের উন্মুক্ত প্লাটফর্ম হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে মুক্তকথা বিভাগটি। পরিবর্তনের সম্পাদকীয় নীতি এ লেখাগুলোতে সরাসরি প্রতিফলিত হয় না।
 
.

আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad