ছবি, সেলফি হতে পারে ভয়ঙ্কর!

ঢাকা, শুক্রবার, ২৪ নভেম্বর ২০১৭ | ১০ অগ্রহায়ণ ১৪২৪

ছবি, সেলফি হতে পারে ভয়ঙ্কর!

সাঈদ আহমেদ ৯:৩৪ অপরাহ্ণ, মে ১৯, ২০১৭

print
ছবি, সেলফি হতে পারে ভয়ঙ্কর!

যার সাথে ছবি বা সেলফি তুলছেন তাকে জানেন তো? আপনি তো প্রতিদিনই কত ছবি-সেলফি তোলেন—বাড়িতে, অফিসে, কোন অনুষ্ঠানে—কত মানুষের সাথে! কখনও সেলফি কখনও গ্রুপ! কিন্তু আপনার ছবির সব মানুষকে আপনি ভালমতো জানেন কি? আপনি আপনার বন্ধু বা সহকর্মীর সাথে ছবি তুলছেন, তার বন্ধুও চলে এলো ফ্রেমে। আপনি তাকে ভালমত জানেন না কিন্তু সৌজন্যবশত কিছু বলতে পারলেন না। আর যদি আপনি ক্ষুদ্র, মাঝারি বা বড় মাত্রার সেলিব্রিটি হন তাহলে তো কথাই নেই! আপনাকে প্রতিদিন কত জায়গায়, কত চেনা-অচেনা মানুষের সাথে ছবি ও সেলফি তুলতে হয়।

.

আবার সেই ছবিতে হাসি হাসি মুখেও তাকাতে হয়, নইলে আপনি নিজেই ‘খবর’ হয়ে যান মিডিয়ায়—অমুক সেলিব্রিটি ‘অসামাজিক’ বা ‘তার কোন ক্রাইসিস চলছে’।  এরপর আপনি অতি সহজেই, সরলমনে এই ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম যেমন ফেসবুক, টুইটার, ইন্সটাগ্রাম এ ছড়িয়ে দিচ্ছেন। কত সরল আপনি! এছাড়াও আপনি কখনও কখনও  আপনার বর্তমান অবস্থান সবাইকে জানিয়ে দিচ্ছেন ‘চেক-ইন’ অ্যাপ্লিকেশন এর মাধ্যমে। ইন্টারনেট এর বিশাল নেটওয়ার্ক এর মাধ্যমে সে ছবি ও তথ্য মুহূর্তেই আপনার বন্ধু থেকে তার বন্ধু থেকে তার বন্ধু হয়ে যে কার কাছে চলে যাচ্ছে আপনি তা খেয়াল করেছেন? হ্যা, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ‘সেটিংস’ এর বদৌলতে আপনি আপনার ছবি ও তথ্য কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন, কিন্তু আপনি কতটুকু জানেন বা কতটুকু সচেতন? আপনি কি কখনও ভেবেছেন আপনার সহজ-সরলভাবে তোলা এবং সাবলীলভাবে পোস্ট করা ছবি ও তথ্য ইন্টারনেটের সুবিশাল অন্তরজালে ওঁত পেতে থাকা কোন দুর্বৃত্ত অসৎ উদ্দেশে কাজে লাগাবে? আপনাকে এমন একটা কাজের জন্য জবাবদিহি করতে হবে যা করার কথা আপনি কস্মিনকালেও চিন্তা করেননি!

কিছু বিচ্ছিন্ন অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়া স্বাচ্ছন্দেই চলছিল আমাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার। কিন্তু বনানীর ধর্ষণ ঘটনা সব কিছু ওলটপালট করে দিল। ওই ধর্ষণ মামলার দ্বিতীয় আসামি আব্দুল হালিম ওরফে নাঈম আশরাফের ছবি ও সেলফিতে যারা ছিলেন তারাও আলোচনা-সমালোচনায় চলে আসছেন। ধুরন্ধর নাঈম বিভিন্ন বাহানায় অর্থশালী, ক্ষমতাবান ও সেলিব্রিটিদের সাথে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করে তাদেরকে ব্যবহার করেছে ও তাদের সাথে তোলা ছবিগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করেছে মূলত আত্মপ্রদর্শনের জন্য। সে সেতুমন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ  সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, তথ্য প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেহ পলক, স্বাস্থ্যমন্ত্রী  মোহম্মদ নাসিমের ছেলেসহ বিভিন্ন রাজনিতিবিদ ও তাদের সন্তানদের সাথে ছবি, সেলফি তুলেছে। ধর্ষক নাঈম ‘ই-মেকারস’ নামে একটি নাম-সর্বস্ব ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলে এবং এর মাধ্যমে ভারতীয় শিল্পীদের এনে অনুষ্ঠান করে কোটিপতি হয়ে যায়। বিভিন্ন সুত্র থেকে জানা যায়, নাঈম ভারতের নিষিদ্ধ পল্লীর মেয়েদের এনেও বিভিন্ন হোটেলে অশ্লীল নাচের ব্যবস্থা করত ধনী বাবার বখে যাওয়া ছেলেদের মনরঞ্জন করে টাকা কামানোর জন্য।

ধর্ষক নাঈমের সাথে ছবি ও সেলফি তুলে বিপদ ও অস্বস্তিতে পড়েছেন অনেকেই। কর্পোরেট ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ফারহানা নিশো, অভিনেত্রী মৌসুমি হামিদ, সংবাদ পাঠিকা হোসেনসহ বেশ কয়েকজন মিডিয়া ব্যক্তিত্বের সাথে ওই ধর্ষকের ছবি এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল। সম্প্রতি ফারহানা নিশোকে একুশে টেলিভিশন থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। অনেকে মনে করছেন নিশোর সাথে ধর্ষক নাঈমের সেলফির কারণে এটি হয়ে থাকতে পারে। যদিও নিশো জানিয়েছেন ওই লম্পটের সাথে তার কোন ঘনিষ্ঠকা নেই। সে একদিন তার অফিসে এসেছিল ইভেন্ট নিয়ে কথা বলতে এবং তার অনুরোধেই ওই সেলফি তোলা।

মোদ্দা কথা হল, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিরাপদ নয়। সেখানে আমার ও আপনার কোন তথ্য, ছবি, ভিডিও—কিছুই নিরাপদ নয়। যে কেউ চাইলেই এগুলো অসৎ উদ্দেশে আমার, আপনার বিরুদ্ধে ব্যবহার করে আমাদের অকল্পনীয় ক্ষতি করতে পারে। আসুন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারে সাবধান হই। ছবি ও সেলফি তোলায় সতর্ক হই। এখনই!

লেখকদের উন্মুক্ত প্লাটফর্ম হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে মুক্তকথা বিভাগটি। পরিবর্তনের সম্পাদকীয় নীতি এ লেখাগুলোতে সরাসরি প্রতিফলিত হয় না।
print
 

আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad