পুরুষের বিরুদ্ধে অযথা খিস্তি-খেউড় নারীবাদ নয়

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ নভেম্বর ২০১৭ | ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৪

পুরুষের বিরুদ্ধে অযথা খিস্তি-খেউড় নারীবাদ নয়

হাসান আল মাহমুদ ৭:২৬ অপরাহ্ণ, মে ১৯, ২০১৭

print
পুরুষের বিরুদ্ধে অযথা খিস্তি-খেউড় নারীবাদ নয়

যা-তা বলে ক্ষোভ প্রকাশ করলে মনের জ্বালাটাই শুধু মেটে। ইতিবাচক কোনো পরিবর্তন হয় কি? সম্ভবত এতে পরিবর্তনের উদ্দেশ্যও থাকেনা। মনের জ্বালা মিটানোটাই মূখ্য।

.

তো গত পরশুদিন রাতে বৃষ্টিতে একটা দোকানে আটকা পড়লাম। সাথে থাকা বন্ধুরা অসময়ে নামার কারণে বৃষ্টিকে আচ্ছামত গালাগাল দিতে লাগল। একটা গুরুত্বপূর্ণ কাজের তাড়া ছিল আমাদের সবারই। বৃষ্টি থামল না। বরং প্রচণ্ড ঝড়ো বাতাস আর অঝর বর্ষণে ঘন্টাখানেক আটকে রাখল আমাদের।

যেটা বলতে চাচ্ছিলামÑ এটা তো অস্বীকার করার সুযোগ নেই যে, যতভাবে পারা যায় নারীকে নিষ্পেষিত করে রেখেছে পুঁজিবাদ আর  পুরুষতন্ত্র। মূলত পুরুষতন্ত্রের মাথার উপরও ছাতা ধরে রেখেছে পুঁজিবাদ। তো, সিস্টেম উপড়ানোর কথা না বলে, পুঁজিবাদী ব্যবস্থার সাথে সন্তুষ্টচিত্তে নিজেদের মানিয়ে নিয়ে পুরুষ জাতির বিরুদ্ধে ঢালাও খিস্তি-খেউড়ে নারীদের কোনো কল্যাণ হবে কি? মনে তো হয়না। বরঞ্চ এটা নারী-পুরুষকে বেহুদা মুখোমুখি করে দিবে।

নারীবাদ বলতে এককথায় বুঝি নারী মুক্তির সংগ্রামকে। এ সংগ্রামে পুরুষকে অবশ্যই নারীর পাশে থাকতে হবে। কারণ, পুঁজিবাদ আর পুরুষতন্ত্র যে কেবল নারীকেই নিষ্পেষিত করছে তা তো নয়। পুরুষের জীবনকেও এই ব্যবস্থা নানা জটিলতায় আচ্ছন্ন করে ফেলেছে। এটা তাকে প্রতিনিয়ত মানুষ স্বত্বা থেকেই বিচ্ছিন্ন করে ফেলছে। ফলে নারীরা মুক্তির জন্য যে সংগ্রাম করছেন তা পুরুষেরও। এখানে মূল কাজটা হচ্ছে একে অপরের পাশে থেকে বিবদমান অবিচারমূলক ব্যবস্থাকে উপড়ে ফেলা। তা না করে অযথা ঢালাও খিস্তিতে মূল উদ্দেশ্যটাই তো ব্যাহত হয়ে যায় ।

তবে, এককালের নির্যাতিত ইসরাইলি জনগোষ্ঠীর আজকের দিনে নির্দয় নির্যাতনকারীতে পরিণত হওয়ার মত সুদূরপ্রসারি কোন র‌্যাডিক্যাল উদ্দেশ্য যদি কোনো গোষ্ঠির থেকে থাকে তাহলে তো আর কিছু বলার নেই; দ্বিমত পোষণ করা ও নিন্দা জানানো ছাড়া।

আরেকটা কথা, বহু নারীকেই জীবনে এমন বাজে অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়Ñ সে নিজের বাপ-ভাই'র মত অতি আপন পুরুষকেও বিশ্বাস করতে পারেনা। নিঃসংকোচে মিশতে পারেনা। এটা একটা মানসিক জটিলতা; যা তার জীবনে ঘটে যাওয়া বাস্তব কোন বাজে ঘটনার কারণে তৈরী হয়েছে। এরকম সংকটগ্রস্ত নারীর জন্য আমি সমব্যথী, সমমর্মী হব অবশ্যই। কিন্তু চাইবোনা তিনি যে ধরণের মানসিক জটিলতায় ভূগছেন তা ছড়িয়ে পড়ুক, অন্য নারীদেরও আক্রান্ত করুক। বরং এ ধরণের জটিলতা থেকে তার বেরিয়ে আসতে পারাটাই হবে  কায়মনোবাক্যে কামনা।

নারীপুরুষ একে অপরের পরিপূরক। উভয়কেই সমমর্যাদায়, ন্যায়সঙ্গত অধিকারে পাশাপাশি থাকতে হবে। মনে রাখতে হবে, নারী-পুরুষের বৈশিষ্ট্যগত যা কিছু দোষ আমরা দেখতে পাই তা ব্যবস্থা নির্মিত। স্বত্বাগত কিছু নয়।

প্রেমে বদলাবে পৃথিবী। সংগ্রাম করতে হবে ব্যবস্থা উপড়ানোর। অযথা একে অপরের বিরুদ্ধে  মূল্যহীন ঘৃণার বাণী প্রচার নয়।

শিক্ষার্থী ও সংবাদকর্মী।

mahmudju43@gmail.com

লেখকদের উন্মুক্ত প্লাটফর্ম হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে মুক্তকথা বিভাগটি। পরিবর্তনের সম্পাদকীয় নীতি এ লেখাগুলোতে সরাসরি প্রতিফলিত হয় না।
print
 

আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad