বাংলাদেশের মেরিনারদের বর্তমান প্রেক্ষাপট ও ভবিষ্যৎ

ঢাকা, সোমবার, ২৫ জুন ২০১৮ | ১১ আষাঢ় ১৪২৫

বাংলাদেশের মেরিনারদের বর্তমান প্রেক্ষাপট ও ভবিষ্যৎ

ইঞ্জিনিয়ার মাহমুদুর রহমান ২:৫০ অপরাহ্ণ, মে ০২, ২০১৬

print
বাংলাদেশের মেরিনারদের বর্তমান প্রেক্ষাপট ও ভবিষ্যৎ

আপনাদের হয়ত সবার মনে আছে নব্বই এর দশকে ‘‘যায় যায় দিন” সাপ্তাহিক পত্রিকায় মেরিন ইঞ্জিনিয়ার আবদুল বারী স্যারের “নীল চোখ” নামে একটি লেখা ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হতো। তখন উনার এই লেখাটি আমার কাছে এতই প্রিয় ছিল যে, শুধু “নীল চোখ” পড়ার জন্যই আমি সপ্তাহ ধরে অধীর হয়ে থাকতাম। উনার এই লেখাগুলো তখন আমাকে এতটাই উদ্বেলিত আর মুগ্ধ করেছিল যে, এক সময় সিদ্ধান্তই নিয়ে ফেললাম- “মেরিনার হবো”।

আমার মত হয়ত অনেকেই বারী স্যারের “নীল চোখ” পড়ে “নীল চোখের’’ সন্ধানেই মেরিনার হয়েছেন। আর এখন বারী স্যারের “নীল চোখ”নেই, আছে চোখ ধাঁধাঁনো মিথ্যা স্বপ্নের রঙিন বিজ্ঞাপন। মাত্র ৬ বছরেই একজন ক্যাপ্টেন/ চিফ ইঞ্জিনিয়ার হয়ে আপনিও মাসে আয় করতে পারবেন ৮- ১০ হাজার ডলার....... ইত্যাদি ইত্যাদি।

আমি বারী স্যারের “নীল চোখের” সেই চমকপ্রদ কাহিনী অথবা বর্তমান সময়ের কাল্পনিক মিথ্যাচার বিজ্ঞাপন নিয়েও কোনো কথা লিখতে চাই না। মেরিনারদের বর্তমান প্রেক্ষাপট নিয়ে জীবনের বাস্তবতার নিরিখে কিছু বিষয় নিয়ে আলোকপাত করতে চাই- যা থেকে অভিজ্ঞতা বা আইডিয়া নিয়ে ফ্রেশ চিফ ইঞ্জিনিয়ার/ মাস্টার থেকে শুরু করে জুনিয়র ক্যাডেট পর্যন্ত সবাই তাদের ভবিষ্যৎ জীবনের একটা বাস্তব ছক বা কর্ম পরিচালনা করে এগুতে পারে।

বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ এবং দেশের প্রধান দুটি সমুদ্র বন্দর দিয়ে সিংহভাগ আমদানি-রপ্তানি সম্পন্ন হলেও মেরিন সেক্টর সব সময় অবহেলিত ছিল, এখনও আছে। আগে শুধুমাত্র মেরিন একাডেমি থেকে ক্যাডেট বের হতো ৪০/৫০/৬০ এর বাইরে সারা বছর ধরে হয়ত সর্বোচ্চ ১০-২০ জন ডাইরেক্ট এন্ট্রি বা কখনও তার চেয়ে কম প্রত্যক্ষ প্রবেশ ক্যাডেট বের হতো। সরকারি ও বেসরকারি জাহাজ মিলে এই সংখ্যার সবাই মোটামুটি চাকরি পেয়ে যেতো। ২০০৫-৬ থেকে ২০১৩-১৫ পর্যন্ত বাংলাদেশের মেরিন সেক্টরে সবচেয়ে ভাল সময় ছিল। এ সময় সরকারি-বেসরকারি মিলে সর্বোচ্চ ৭২-৭৮টি বিদেশগামী জাহাজ ছিল। তখন সরকারি মেরিন একাডেমির ক্যাডেট আসন সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয় এবং ভবিষ্যৎ চিন্তা না করেই একে একে ১৮টি বেসরকারি প্রাইভেট একাডেমির অনুমোদন দেওয়া হয়। যাই হোক, এগুলো এখন স্বপ্নের কথা। একজন চাকরিপ্রার্থী জুনিয়রের দীর্ঘশ্বাস দিয়ে আবার অবাস্তবতায় ফিরে আসি।

সেদিন “মেরিনারদের আড্ডা’’তে চতুর্থ প্রকৌশলী ৪৭তম ব্যাচের মারুফের একটা পোস্ট মনের মধ্যে খুব দাগ কাটলো। পোস্টটি ছিল- “সিওসি পাওয়ার পর ১৩ মাস ট্যাংকার শিপে চাকরি করে এখন ৮ মাস বসে আছি”জানি- একদিন এই অপেক্ষার শেষ হবে, চাকরিও একদিন পাবো।

আসলে মারুফের এই ছোট পোস্টের মধ্যে তার মনের সমস্ত কষ্ট এবং হাহাকার থেকে বর্তমান জুনিয়রদের চাকরির অবস্থা কতটা খারাপ তা সহজেই অনুধাবন করা যায়।

বাংলাদেশের সরকারি ও বেসরকারি জাহাজের সংখ্যা আগের তুলনায় অনেক কমে যাওয়ায় মেরিনাররা সবাই এখন অপেক্ষা করছে বিদেশি জাহাজে যোগদানের জন্য। বিদেশি জাহাজে যোগদানের ক্ষেত্রে আমাদের প্রধান বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ভিসা সমস্যা। যার কারণে অনেক বিদেশি কোম্পানি ভাল বেতনে বাংলাদেশের মেরিনারদেরকে চাকরিতে যোগদানের সুযোগ দিলেও ভিসা সমস্যার কারণে তারা যোগদান করতে পারছে না।

দ্বিতীয়তঃ
দু-একটি এজেন্ট বাদে অধিকাংশ এজেন্টই সাব এজেন্ট হিসেবে কাজ করে। সাব এজেন্টদের কাছে টপ ফোর ব্যাংকের প্রয়োজনীয়তা থাকলেও ক্যাডেট / / 3rd Officer/ 4th Engineer এসব ব্যাংকের তেমন কোনো Requirement থাকে না।
আবার বিদেশি কোম্পানিতে জয়েন করতে হলে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন চিফ অফিসার বা দ্বিতীয় প্রকৌশলী হতে হবে। কাজেই, ক্যাডেট / 3rd Officer/ 4th Engineer এসব র্যাং ক পার করেই তবে তো চিফ অফিসার হতে হবে।

কাজেই এটা পরিষ্কার যে, এই সমস্ত জুনিয়র র্যাং ক পাড়ি দিতে প্রয়োজন বাংলাদেশি মালিকানাধীন জাহাজ। এখন আপনারাই বলেন, মার্কেটে এখন যে পরিমাণ ক্যাডেট/ 3rd officer / 2nd officer অপেক্ষমান আছে সেই তুলনায় বাংলাদেশি জাহাজের সংখ্যা অতি নগন্য। কাজেই অপেক্ষমাণ এই বিপুল সংখ্যক ক্যাডেট / 3rd Officer/ 4th Engineer চাকরি পাবে কবে, কিভাবে?

মাঝে মাঝে হঠাৎ করে কিছু ক্যাডেট / 3rd Officer/ 4th Engineer ইত্যাদি র্যাং ক বিদেশি কোম্পানিতে যোগদান করছে। কিন্তু এই নগন্য সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে একটা ছেলে কিভাবে এটাকে ক্যারিয়ার হিসাবে নেবে-সেটা অবশ্যই প্রশ্ন সাপেক্ষ।
কাজেই আমার ধারণা, বাংলাদেশি মালিকানাধীন জাহাজের সংখ্যা না বাড়লে বর্তমান অসংখ্য ক্যাডেট / 3rd Officer/ 4th Engineer এই সব র্যাং কের চাকরির সমস্যার সমাধান হবে না। হওয়া সম্ভব নয়-এটা মোটামুটি নিশ্চিত। এবার আসুন “মেরিন প্রফেশন” হিসেবে কেমন সেটা আলোচনা করি।

‘‘মেরিন প্রফেশন” বর্তমানে মিডল এজড প্রফেশন হিসেবে বিবেচিত। মিডল এজড প্রফেশনঃ ২৮/৩০ থেকে ৫০/৫৫) বছর। মিডল এজড প্রফেশন হল, আপনি অনেক চড়াই উৎরাই পার হয়ে অনেক কষ্টে চিফ অফিসার হলেন- এতে আপনার বয়স হয়ে গেল ২৬/৩০ বছর। এরপর, আপনি বিয়েশাদী করলেন, ছেলে মেয়ে হল। এখন অনেক বিদেশি কোম্পানি ৫০/৫৫ বছরের উর্দ্ধে মাস্টার/চিফ ইঞ্জিনিয়ার র্যাং কে চাকরি দেয় না। এমনকি দেশিয় কোম্পানি এসআর শিপিংও শুনেছি এই নিয়ম চালু করেছে। তার মানে আপনার সর্বমোট চাকরিকাল ৩০ থেকে ৫০/৫৫ বছর ধরলাম।

আপনার বয়স এখন ৫০/৫৫ বছর, আপনাকে আর বিদেশি কোম্পানি চাকরিতে নিচ্ছে না। এই বয়সে আপনার ছেলে-মেয়েও কর্মজীবনে প্রবেশ করেনি। তাহলে এখন আপনার সংসার চলবে কিভাবে? অথচ চাকরির জন্য আপনার কিন্তু শারীরিক সক্ষমতা আছে। বলবেন যে Shore Job করবো। চলুন বাংলাদেশে মেরিনারদের Shore Job এর বাস্তবতা একটু দেখে নেওয়া যাক।

‘‘মেরিটাইম সংবাদ”নিয়ে বিভিন্ন রিপোর্ট তৈরি করতে গিয়ে বাংলাদেশি মেরিনারদের অত্যন্ত করুণ এবং ভয়াবহ চিত্র আমার সামনে চলে এসেছে- যেটা আমি আপনাদেরকে জানাতে চাই।

(১) বাংলাদেশে মেরিন চিফ ইঞ্জিনিয়ারদের Land Job power plant sector এ কিছু Job আছে। কিন্তু সেটাও এখন আর তেমন চাইলেই পাওয়া যাচ্ছে না। তাহলে, আপনারা যারা আজ থেকে ৮/১০ বছর পরে চিফ ইঞ্জিনিয়ার হবেন- তখন যে আপনারা এই সেক্টরে আর কোনো Job পাবেন না এটা মোটামুটি নিশ্চিত।

(২) ক্যাপ্টেন বা মাস্টার মেরিনারদের Land Job এর তেমন সুযোগ নেই। নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন সেক্টরে মাস্টার/চিফ ইঞ্জিনিয়ারদের কিছুসংখ্যক পদ আছে। কিন্তু প্রার্থীর তুলনায় সে পদের সংখ্যা অতি নগণ্য। আর ৮/১০ বছর পরে আপনারা যখন ঐসব পদের চেষ্টা করবেন তখন ঐ পদগুলো ফিল আপ থাকবে এটা মোটামুটি নিশ্চিত।

অনেক দুরে যাওয়া লাগবে না, আমি নিজেই সরকারি চাকরির সমস্ত যোগ্যতা সম্পন্ন করে অপেক্ষমান আছি বিগত ৪ বছর ধরে। কিন্তু আমি এখন বিজ্ঞপ্তির আশায় আছি। জানি না কবে বিজ্ঞপ্তি পাবো বা আদৌ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হবে কিনা সেটাই দেখার বিষয়। বাংলাদেশের এটাই একমাত্র সেক্টর যেখানে বছরের পর বছর চাকরির কোনো বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয় না। বছরের পর বছর পদ খালি থাকে, তারপরও কোনো বিজ্ঞপ্তি আসে না।

আপনারা সবাই জানেন, প্রশাসন ক্যাডারে সচিব থেকে সিনিয়র সচিব করা হয়েছে। সামরিক বাহিনীতে লে. জেনারেল থেকে জেনারেল করা হয়েছে, পুলিশ বাহিনীতে আইজিপির মর্যাদা সেনাবাহিনীর জেনারেলের মর্যাদার সমান করা হয়েছে। আমার এ কথা বলার উদ্দেশ্য হল-কোনো সেক্টরে যখন পদ মর্যাদা বাড়ানো হয় তখন ঐ সেক্টরে স্বাভাবিকভাবে পদের সংখ্যা বেড়ে যায়। তখন ঐ সেক্টরে লোকবল অনেক বাড়ানো হয়। সেই বাস্তবতায় মেরিটাইম সেক্টর এখানে একটি চরম অবহেলিত সেক্টর। শুধু তাই নয়, নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্বের কারণে মেরিনারদের কাছ থেকে মহাপরিচালক, বন্দর চেয়ারম্যান, মেম্বার মেরিন ইত্যাদি উচ্চ পদগুলো হাতছাড়া হয়ে গেছে।

বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন সক্রিয় থাকাকালে সরকারি চাকরিতে মেরিনারদের অবাধ প্রবেশ খুবই সহজ ছিল। এখন সেটা রূঢ় বাস্তবতা, এখন সেটা শুধুই স্বল্প। তার মানে বোঝা গেল সরকারি চাকরিতে ভবিষ্যৎ মেরিনারদের প্রবেশের সম্ভাবনা তেমন একটা নেই।

(৩) বাংলাদেশি মালিকানাধীন জাহাজ বেশি না থাকায় মেরিন সুপার/ টেকনিক্যাল সুপার এই পদেও ভ্যাকেন্সি নেই।

(৪) বাংলাদেশি মালিকানাধীন জাহাজ আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় যারা ওয়ার্কশপ, শিপ রিপেয়ার, স্পেয়ার পার্টস সাপ্লাই এর ব্যবসা শুরু করেছিলেন তাদের অবস্থাও এখন চরম খারাপ। বলা যায়, ব্যবসায় লালবাতি জ্বলছে।

(৫) মেরিন সার্ভেঃ বাংলাদেশি মালিকানাধীন জাহাজ না থাকায় বিভিন্ন সার্ভে কোম্পানি যেমন: DNV-GL, BV, ABS G2 আরও যেসব ক্লাস সার্ভে কোম্পানি আছে, বাংলাদেশে তাদের জনবল কমিয়ে দিয়েছে বা দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। তাহলে এই সেক্টরে যেসব সিনিয়র মেরিনাররা কর্মরত আছেন তাদেরও ভবিষ্যতে চাকরিহীন হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। আপনারা হয়ত জেনে অবাক হবেন যে, আপনাদের যেমন জব নেই, তেমনি অনেক সিনিয়র মেরিনার যাদের বয়স ৫৫ এর উর্দ্ধে তাদেরও জব নেই। যেহেতু বিদেশি কোম্পানিগুলো ৫৫ এর উর্দ্ধে বয়সের কাউকে চাকরি দেয় না।

কাজেই বাংলাদেশি মালিকানাধীন জাহাজের সংখ্যা না বাড়ালে জুনিয়র মেরনিারদের যেমন চাকরির বাজার ভাল হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই, তেমনি সিনিয়র মেরিনারদের সামনে অনেক খারাপ দিন অপেক্ষা করছে।

আর আজকে আপনারা যেমন ৮-১০ বছর পর শোর জব এর চেষ্টা করবেন, সেটি কিভাবে পাবেন? আদৌ কি সম্ভব?

আপনাদেরকে আর একটা বিষয় জানিয়ে রাখি- আমি একজন মেরিন সার্ভেয়ার হিসাবে দেশে ছুটিতে থাকাকালীন বিভিন্ন দেশিয় বড় বড় কোম্পানির যেমন আবুল খায়ের গ্রুপ, ভ্যানগার্ড, মেঘনা গ্রুপ, তীর গ্রুপ, বসুন্ধরা গ্রুপসহ ইত্যাদি গ্রুপের ভাড়া করা জাহাজে সার্ভে করতে যায় তখন এসব কোম্পানির উর্দ্ধতন ব্যক্তিদের সাথেও কথা হয়। কৌতুহল বশত তাদের কাছে জানতে চায়, এসব কোম্পানি আরো জাহাজ কিনবে কি না। জবাবে উনারা বলেন- জাহাজ কেনার সম্ভাবনা তেমন নেই- কারণ মালিকেরা কম টাকায় নতুন নতুন জাহাজ ভাড়া করে দ্রুত এবং নির্বিঘ্নে মাল আনাতে পারছেন এবং ঝামেলামুক্ত ভাবে মালামাল দ্রুত খালাস করতে পারছেন।

কাজেই আপনারা বুঝতে পারছেন- বিএসসির জাহাজ কেনার সম্ভবনা কম আর প্রাইভেট সেক্টরে যাদ জাহাজের সংখ্যা না বাড়ে তাহলে মেরিন সেক্টরের উন্নতির আশা করাটা সম্পূর্ণ অবাস্তব, অকাল্পনিক চিন্তা।

আপনাদের প্রশ্ন ও উত্তরঃ

(১) অনেকেই হয়তো বলবেন সারা বিশ্বে শিপিং সেক্টরে অনেক ভ্যাকেন্সি আছে, তহালে আমরা কেন জব পাচ্ছি না?

উত্তর: সারা বিশ্বেও শিপিং সেক্টরে শূণ্যতা আছে। আমিও আপনাদের সাথে একমত। আমরা জব পাচ্ছি মূলত দুটি করাণে ---

প্রথমত: হক এন্ড সন্স বাদে অন্যান্য ম্যানিং কোম্পানিগুলোর ডাইরেক্ট ম্যানিং নেই। তারা সবাই সাব ম্যানিং হিসাবে কাজ করে।

টিএমএ চালু হওয়ার আগে হক এন্ড সন্স নিজেই মেরিন একাডেমির ক্যাডেট/তৃতীয় অফিসার ইত্যাদি জুনিয়র র্যাং কে চাকরি দিত। এখন তাদের নিজেদের একাডেমি থাকায় মেরিন একাডেমির জুনিয়রগন চাকরি পাচ্ছেন না, এটাই স্বাভাবিক। বাংলাদেশি মালিকানাধীন জাহাজ না থাকলে বিদেশি জাহাজের উপর নির্ভর করে জুনিয়র র্যাং কে চাকরি পাওয়া এক রকম অসম্ভব।

দ্বিতীয়তঃ ভিসা সমস্যা

তাই সারা বিশ্বে শিপিং সেক্টরে চাকরির শূণ্যতা থাকলেও আমাদের জুনিয়রদের চাকরির বাজার ভাল হওয়ার সম্ভাবনা তেমন নেই।

(২) আপনারা হয়ত বলতে পারেন “মেরিন একটা Royal প্রফেশন” অথব আপনি সবকিছুতেই Negative চিন্তা করছেন?

উত্তরঃ মেরিন আগেও যেমন Royal প্রফেশন ছিল এখনও আছেন। কিন্তু আমাদের দেশের মেরিটাইম সেক্টর ডেভেলপমেন্ট না হওয়ায় এত অধিক সংখ্যক মেরিনারের জন্য এটা Royal প্রফেশন নয়।

আপনাদের একটা ছোট্ট উদাহরণ দিই- চিনে শত শত শিপইয়ার্ড আছে, ড্রাইডক আছে, শিপ রিপেয়ার ওয়ার্কশপ আছে, শত শত পোর্ট আছে। সেখানে তাই মেরিনারদের প্রচুর জবের সুযোগ আছে। আমাদের দেশে মেরিটাইম সেক্টরে কি আছে? শুধুমাত্র ২টি পোর্ট ও একটি মাত্র ড্রাইডক পোর্ট এবং ড্রাইডকের অধিকাংশ পোর্টগুলো আবার নেভীদের দখলে। তাহলে সিনিয়র মেরিনারদের চাকরির সুযোগ কোথায়? আর প্রাইভেট ডকইয়ার্ড, শিপইয়ার্ড ওয়ার্কশপ তো প্রায় বাদ হওয়ার পথে। তাহলে মেরিন চাকরির সুযোগ কোথায়?

(৩) অনেকে প্রশ্ন করতে পারেন-সিনিয়র মেরিনাররা কি বাস্তব জীবনে কেউই সফল নন?

উত্তরঃ অবশ্যই অনেকে সফল। তবে এখনকার বাস্তবতা আর আগের বাস্তবতা পুরোটাই ভিন্ন। আগে মেরিনার ছিল খুবই কম। মেরিটাইম সেক্টর ছিল পুরোটাই খালি। তখন মেরিটাইম সেক্টরের বড় বড় পদগুলোতে নেভী ছিল না, তখন মেরিটাইম সেক্টরের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ মেরিনারদের হাতেই ছিল। এখন মেরিনার বেশি, পদ মোটেও খালি নেই। আর, পদ খালি থাকলেও বছরের পর বছর কোনো বিজ্ঞপ্তি নেই। তাহলে, চাকরির সুযোগ কোথায়? তবে এটা দুঃখজনক হলেও সত্য- আগের মেরিনারদের মধ্যেও সবাই ক্যাপ্টেন এফআর চৌধুরী হতে পারেন নি, সবাই ড. সাজিদ হোসেন হতে পারেন নি, ক্যাপ্টেন আজিজুল হকও ক্যাপ্টেন হাবিবুর রহমান হতে পারেননি। অনেক সিনিয়র মেরিনারগণের অনেকেই কিন্তু অতি সাধারণ জীবন-যাপন করেন।

(৪) BMRT-তে অনেক জুনিয়র মেরিনাররা প্রায়ই একটা কথা বলে, সংগ্রাম করে জীবন চালাবো। এ কথাটা আসলে কতটুকু বাস্তবসম্মত?

উত্তরঃ এ কথাটা বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপট মোটেও বাস্তবসম্মত নয়। আমি আপনাদেরকে একটা ছোট্ট উদাহরণ দিই- আমার এক আত্মীয়কে অনেক চেষ্টা তদবির করে এসআর জাহাজে ৪র্থ ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে জয়েন করালাম। ৬ মাস পরে জাহাজ দেশে আসলো তাকে সাইন অফ করিয়ে দিলো। এখন তাকে আবার জাহাজে উঠতে গেলে তদবির করতে হবে। এভাবে প্রতিবার জাহাজে উঠার সময় কি তদবির করে জাহাজে উঠানো সম্ভব? অন্য প্রফেশনের ক্ষেত্রে চিন্তা করেন- একবার তদবির করে টাকা পয়সা খরচ করে চাকরিতে জয়েন করাতে পারলে মোটামুটি সে একটা স্থিতিশীল জীবন-যাপন করতে পারবে।

বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে মেরিনারদের ক্ষেত্রে স্থিতিশীল জীবন-যাপন করা প্রায় অসম্ভব। BMRT-তে আমার একটা পোস্টের কমেন্টে আরেফিন নামে একজন জুনিয়র খুব সুন্দরভাবে লিখেছে- “সিঙ্গেল থাকলে লম্বা সময় চাকরিহীন থাকলেও তেমন একটা সমস্যা হয় না। বরং বাবরুল ইসলাম রাতুলের মত বান্ধবীর টাকায় ঘোরা এবং রেস্টুরেন্টে খাওয়া-দাওয়া করেও সময় কাটানো যায়। কিন্তু অন্য একটা মানুষের দায়িত্ব নিয়ে বেকার জীবন কাটানো যাবে না। নয়তো ভবিষ্যতে বাংলা সিনেমার জসীম এর মত সংসারে অশান্তি লেগেই থাকবে। সদ্য ভূমিষ্ট বাচ্চার দুধ কেনার টাকা থাকবে না, ঈদে সেমাই কেনার টাকা থাকবে না, বাড়িওয়ালা প্রতিমাসে বাড়ি ভাড়ার জন্য দরজার সামনে অপমান করবে ইত্যাদি ইত্যাদি। আসলে কথাগুলো বর্তমান সময়ের বাস্তবতায় অনেক কঠিন সত্যি।

(৫) অনেকে হয়ত ভাবতে পারেন- আস্তে আস্তে এই অবস্থার উন্নতি হতে পারে।
উত্তরঃ বাংলাদেশি মালিকানাধীন জাহাজের সংখ্যা বৃদ্ধি না পেলে এই জব সমস্যার আশু সমাধান হবে না- এটা মোটামুটি নিশ্চিত। কোনো কোনো ক্ষেত্রে অবস্থা আরও খারাপের দিকে যেতে পারে।

যেমন, এখন সার্টিফিকেটবিহীন বেকার ক্যাডেটের সংখ্যা বেশি। মেরিন একাডেমিসহ অন্যান্য প্রাইভেট একাডেমি ক্যাডেট সংখ্যা কমালেও এই সমস্যার দ্রুত সমাধান হবে না। তখন দেখা যাবে সার্টিফিকেটধারী বেকার মেরিনারদের সংখ্যা অনেক বেড়ে যাবে। কারণ, বাংলাদেশের মেরিন সেক্টর এত অধিক সংখ্যক বেকার মেরিনারদের কর্মসংস্থানের উপযুক্ত নয়। অনেক বাস্তব এবং অপ্রিয় সত্য কথা লেখার জন্য আমি সিনিয়র মেরিনারদের কাছে থেকে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।

এবার আসুন, এই সমস্যাগুলোর সমাধানের ব্যাপারে কি উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে?

প্রথমতঃ মেরিন একাডেমির ৪৯, ৫০, ৫১ ব্যাচ এবং এদের সমসাময়ীক অন্যান্য প্রাইভেট একাডেমি এবং ফিশারিজের যারা আছেন-সবাই মিলে ৬ষ্ট ব্যাচের আলী আশরাফ নুর স্যার এবং আমার সাথে সমন্বয় সাধন করে কিভাবে? BSMRMU থেকে ৪ বছরের অনার্স ডিগ্রি নেওয়া যায় সেই চেষ্টা করা। এদের মধ্যে যাদের পারিবারিক সাপোর্ট বা পারিবারিক স্বচ্ছলতা আছে তাদের অন্য দিকে না তাকিয়ে ব্র্যাক ইউনিভাসির্টিতে এলএলবি বা অন্য পছন্দমত বিষয়ে অনার্স এবং মাস্টার্স/ এমবিএ করে বিসিএস বা অন্য প্রাইভেট চাকরির চেষ্টা কর। তবে আমার অনুরোধ থাকবে Law-তে অনার্স করা যাতে মেরিনের মত এক ধাপ্পাবাজীর সাবজেক্ট বাদ দিয়ে ভাল কিছুতে পড়া, কিংবা সিএসই না পড়া। Law-এর কথা এ কারণে বললাম- ব্যারিষ্টার/ অ্যাডভোকেট হয়ে প্রতিষ্ঠিত হতে সময় লাগলেও এই প্রফেশনে ডাক্তারদের মত সারাজীবন ইনকামের সুযোগ আছে।

দ্বিতীয়তঃ মেরিন একাডেমির ৪৭, ৪৮, ৪৯ ব্যাচের যারা ইতিমধ্যে ১ বছরের সি টাইম সম্পন্ন করেছে-তারা সহজেই এমবিএ-তে ভর্তি হয়ে যেতে পারবে। দুই বছর পরে এমবিএ. কমপ্লিট করে সহহজেই বিসিএস সহ সকল প্রাইভেট চাকরির দরজা আপনার জন্য খোলা থাকবে।

আবারও বলছি- ক্লাস 3 এর পেছনে অনর্থক না ছুটে প্রয়োজন হলে ঢাকা কিংবা চট্টগ্রামে টিউশনি করে এমবিএ শেষ করেন, আপনাদের জন্য বিসিএস সহ সকল চাকরির দরজা খোলা থাকবে। মেরিনের লাখ টাকার মিথ্যা স্বপ্নের পিছনে না ছুটে প্রাইভেট চাকরির ৩০/৪০ হাজার টাকা দিয়ে একটা সহজ স্থিতিশীল জীবন গড়ে তুলুন।

আমি আবারও বলছি মেরিনের চাকরির সেই ভাল দিন আর নেই। কবে যে সুদিন আবার আসবে সেটা স্পষ্ট করে বলা যায় না। জীবনের সঠিক বাস্তাবতাকে মেনে নিয়ে এগিয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

তৃতীয়তঃ মেরিন একাডেমি ৪২, ৪৩, ৪৪, ৪৫, ৪৬ এবং এদের সমসাময়িক ফিশারিজ ও প্রাইভেট একাডেমির যারা আছেন তাদের আর প্রফেশন ছাড়ার জন্য আমি বলবো না। তাদেরকে কষ্ট করে হলেও এই মেরিন প্রফেশনে থাকতে হবে।
আপনাদের কাজ হবে পরিবারে টাকা যথা সম্ভব কম খরচ করে সিওসি পরীক্ষাগুলো দ্রুত সম্পন্ন করা, ডেক ও ইঞ্জিনের ক্লাস-১ সম্ভব হলে সিঙ্গাপুরে দেওয়া। সিঙ্গাপুরে শোর জব এর স্কোপ অনেক বেশি আছে। সিঙ্গাপুরের সার্টিফিকেট থাকলে এবং ট্যাংকার জাহাজের অভিজ্ঞতা থাকলে সিঙ্গাপুরে শোর জব পাওয়ার সুযোগ আছে। এ কারণে যে করেই হোক ট্যাংকার জাহাজে সি-টাইম করার চেষ্টা করেন।

চতুর্থতঃ মেরিন একাডেমির ৩৭, ৩৮, ৩৯, ৪০ এবং সমসাময়ীক অন্যান্য ফিশারিজের যারা ইতোমধ্যে ক্লাস-১ সম্পন্ন করেছেন বা করতে যাচ্ছেন,  চেষ্টা করবেন দেশের বাইরে সেটেল হওয়ার। চেষ্টা করতে পারেন সিঙ্গাপুর, মালেয়শিয়া, অস্ট্রেলিয়া, ইউকে, কানাডা, ইউএসএ ও মধ্যপ্রাচ্যে। এই দেশগুলোতে আমাদের একাডেমির অনেক সিনিয়র কর্মরত আছেন। যে দেশে যাওয়ার ইচ্ছা করবেন সেই দেশের সিওসি ক্লাস-১ নিতে পারলে শোর জব এর ক্ষেত্রে সুবিধা হবে। সম্ভব হলে ট্যাংকার শিপে চাকরির চেষ্টা করবেন। তাহলে সহজেই টেকনিক্যাল সেইলর এর জব পেয়ে যেতে পারবেন।

পঞ্চমতঃ মেরিন একাডেমি ফিশারিজ, ডাইরেক্ট এন্ট্রি, প্রাইভেট একাডেমি এসব ভিন্ন ভিন্ন সংগঠন বাদ দিয়ে সব গ্রুপের প্রতিনিধি নিয়ে একটি শক্তিশালী সংগঠন গড়ে তোলা। যেন বাংলাদেশের মেরিনারদের ভিসা সমস্যাসহ অন্যান্য সমস্যাগুলোর দ্রুত সমাধান সম্ভব হয়।

৬ষ্ঠঃ মেরিন একাডেমি, ফিশারিজ, ডাইরেক্ট, প্রাইভেট একাডেমি সব ধরনের মেরিনারদের নিয়ে একজন নিরপেক্ষ ও কমিউনিটি ফিলিংস আছে এমন কোনো ব্যক্তি/ব্যক্তিদের নেতৃত্বে সার্বজনীন “মেরিনার্স ওয়েলফেয়ার ফান্ড” চালু করা, যা থেকে যে কোনো মেরিনারকে তার আপদকালীন সময়ে পরিবারসহ সামাজিকভাবে টিকে থাকার মত সহায়তা করা যায়। মেরিনারদের সামাজিক নিরপেক্ষতার বিষয়টি এখনো উপেক্ষিত। এ বিষয়ে এখনই আমাদের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

সপ্তমঃ একটি শক্তিশালী সংবাদ মাধ্যম গড়ে তোলা। যার মাধ্যমে আমরা মেরিন সেক্টরের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে মেরিন সেক্টরের বিভিন্ন সমস্যাগুলো তুলে ধরতে পারবো। এছাড়া এটা সিনিয়র ও জুনিয়র মেরিনারদের সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করবে।

অষ্টমঃ সমন্বিতভাবে ফেক CDC, COC বন্ধের চেষ্টা করা। তাহলে অরিজিনাল মেরিনাররা চাকরি পাবেন। আমি জানি, মেরিন একাডেমিসহ বিভিন্ন প্রাইভেট একাডেমি এবং ফিশারিজের সমস্ত জুনিয়র মেরিনাররা যখন একটি চাকরি বা মেরিন সেক্টরের উন্নয়নের একটা ভাল খবরের আশায় স্বপ্নে বিভোর হয়ে আছে, আশায় বুক বেঁধে আছে, এমন একটি সময়ে আমার এমন একটি ভিন্নধর্মী লেখা পড়ে তাদের সেই স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে যাবে।

শুধু তাই নয়, চমৎকার বিজ্ঞাপনের গোলক ধাঁধায় পড়ে যে সব মেরিনার ইতোমধ্যে জীবনের কিছু সময় এই লাইনে পার করে ফেলেছে তারা আমার এ লেখাটি পড়ে দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়তে পারে- এমনটাই হয়ত স্বাভাবিক।

আমি জানি আমাদের আজকের এই অবস্থানের জন্য আপনারা ততটা দায়ি নন, বরং তার চেয়েও আরো বেশি দায়ি ইংল্যান্ডে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়ে দেশ মাতৃকার সেবা দিতে আসা শাহ মেরিটাইম এন্ড বিজনেস সেন্টার নামক মহাসেবাশ্রম খুলে সেবার নামে শত শত মেধাবী ছেলেদেরকে নিশ্চিত অন্ধকার পথে ঠেলে দেওয়া আমাদের কিছু সিনিয়র স্বার্থান্বেষী। আমাদেরই মত কোনো বিবেকহীন স্বার্থান্বেষী সিনিয়র ওদের সদা ভুল স্বপ্ন দেখিয়ে এই গভীর মাঝ সমুদ্রে এনে ছেড়ে দিয়েছে-ওদের আর দোষ কি?

আবারো একটা কথা পরিষ্কারভাবে বলতে চাই- বাংলাদেশি সেক্টরে বাংলাদেশি জাহাজের সংখ্যা না বাড়লে জুনিয়র মেরিনারদের এই জব ক্রাইসিসের আশু সমাধান সম্ভব নয়।

আমার জানা তথ্য মতে, ইন্ডিয়া এবং ফিলিপাইন্স যে দুটি দেশ থেকে ডাইরেক্ট ম্যানিং হয় সেখানেই শত শত ক্যাডেট/ জুনিয়র মেরিনার এখন চাকরি পাচ্ছে না। সেখানে সাব ম্যানিং হিসাবে আমাদের দেশের ক্যাডেট/ জুনিয়র মেরিনাররা চাকরি পাবে কিভাবে?

তাই যারা এখন মহাসমুদ্রের তীরে আছেন কিনারা দেখতে পাচ্ছেন- সময় নষ্ট না করে গভীর মাঝ সমুদ্রের দিকে না এগিয়ে নিরাপদভাবে কিনারায় উঠে নিশ্চিত জীবন-যাপন করাই শ্রেয়। আর তা না হলে, আজ থেকে কিছু বছর পরে “মেরিন” নামক মাঝ সমুদ্রে গিয়ে কিনারার আর কোনো সন্ধান খুঁজে পাবেন না। তখন আমার আজকের লেখাটির কথা মনে পড়লেই আপনার হাতে সমাধান আর থাকবে না।

এতক্ষণে হয়ত ভাবতে পারেন আপনার/ আপনাদের নিয়ে আমার এত মাথা ব্যাথা কেন/ দুঃশ্চিন্তা কেন? আমরা মাঝ সমুদ্রে ডুবে গেলেই বা আপনার কি লাভ বা ক্ষতি? এর মাঝে বলছি BMRT-তে যখন জুনিয়রদের বিভিন্ন পোস্ট পড়ি তখন তাদের হাহাকার আর হতাশাজনক কথা শুনে মনটা খারাপ হয়ে যায়।

কারণ একটাই, সিনিয়র মেরিনারগণ মেরিন সমাজের বিবেক, মেরিনারদের পথ-প্রদর্শক। তারাই জুনিয়র মেরিনারদেরকে সঠিক পথ প্রদর্শন করতে পারে। তবে, আর যাই ভাবুন না কেন আমি অন্তত আপনাদেরকে নিয়ে ব্যবসার কথা ভাবছি না।

একজন মেরিনার হিসাবে আমি জানি, প্রতিটি মেরিনারের জীবনের সাথে লুকিয়ে থাকে এক বুক চাপা কান্না, না পাওয়ার অনেক কষ্ট, অনেক অপেক্ষা। তাই ব্যবসা করতে হলে অসহায় মেরিনারদেরকে নিয়ে কেন? আপনার অর্থ থাকলে ব্যবসা করার হাজারটা পথ আপনার সামনে খোলা আছে। আপনি কি জানেন, প্রতিটি মেরিনারের চোখের পানি, দীর্ঘশ্বাস আপনার জীবনে অভিশাপ হয়ে আসবে। তাই প্রতিটি লেবেলের জুনিয়রের কাছে আমার উপদেশ ২-৩ বছর কষ্ট করেছেন, আরো ২-৩ বছর কষ্ট করে হলেও অন্য লাইনে গিয়ে নিজের একটি নিশ্চিত স্থিতিশীল জীবনের কথা চিন্তা করার এটাই শ্রেষ্ঠ সময়। কোনো রকম দ্বিধাগ্রস্ত আর হতাশায় না ডুবে বিশেষ করে ৪৯/৫০/৫১ ব্যাচের এবং এদের সমসাময়িক প্রাইভেট+ ফিশারিজের যারা আছেন এখনই দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে অন্য প্রফেশনে চলে যাওয়াই হবে সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।

একজন সিনিয়র মেরিনার হিসেবে এ ধরনের হতাশাজনক কথা লেখা যদিও আমার কখনই উচিৎ নয়- কিন্তু শুধুমাত্র বাস্তব অভিজ্ঞতা আর বিবেকের দায়বদ্ধতা থেকেই কথাগুলো লিখেছি। কারণ জীবনের বাস্তবতা যত কঠিনই হউক না কেন, তাকে মেনে নিতেই হবে।

ইঞ্জিনিয়ার মাহমুদুর রহমান :  চিফ ইঞ্জিনিয়ার এন্ড মেরিন সার্ভেয়ার, B.M.A-32nd Batch।

লেখকদের উন্মুক্ত প্লাটফর্ম হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে মুক্তকথা বিভাগটি। পরিবর্তনের সম্পাদকীয় নীতি এ লেখাগুলোতে সরাসরি প্রতিফলিত হয় না।
 
.




আলোচিত সংবাদ