মানবতার এ কেমন বিপর্যয়?

ঢাকা, শুক্রবার, ২৫ মে ২০১৮ | ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫

মানবতার এ কেমন বিপর্যয়?

ডা. শিরিন সাবিহা তন্বি ৫:২৪ অপরাহ্ণ, মে ০৩, ২০১৮

print
মানবতার এ কেমন বিপর্যয়?

আপনার আহ্লাদী আদুরে মিষ্টি মেয়েটি বিকেল বেলা ঘর থেকে বেরুলো আর পরের দিন সকালে হিংস্র পশু কর্তৃক ছিন্নভিন্ন সেই আদুরে মুখমণ্ডল, নিথর একটি লাশ পেলেন!

মানবতার এ কেমন বিপর্যয়?

ছেলেকে নিয়ে পার্কে যাওয়া গত চার বছরের অভ্যাস।

ছেলের দুরন্তপনার কাছে হার মেনে দৌড়ঝাপ করতে হয়। পার্কের কোনা থেকে তাকে ডেকে আনতে হয়।

অতঃপর এমন দৃশ্য কোনার মধ্যে দেখি যে, তাদের তুলনায় সিনিয়র সিটিজেন হওয়া সত্ত্বেও লজ্জায় লাল হয়ে সরি বলে, ওদের প্রাইভেসি নষ্ট করেছি বলে মনে মনে কান ধরে ছেলেকে ভর্ৎসনা করতে করতে ফিরি।

বলছি কিশোর-কিশোরীদের কথা।

জীবন পথ পরিক্রমায় আমাকে যদি প্রশ্ন করা হয়, জীবনের শ্রেষ্ঠ সময় কোনটি!

আমি আমার কিশোরী বয়সটাকেই বলব। এই বয়স শারীরিক বৃদ্ধিতে যেমন গুরুত্বপূর্ণ তেমনি গুরুত্বপূর্ণ মানসিক বৃদ্ধি ও বিকাশে।

ভবিষ্যৎ ব্যক্তিত্ব, পছন্দ অপছন্দ, জীবন যাপন প্রণালী প্রায় সবই কিশোরী বয়সে নির্ধারিত হয়।

গত কয়েক বছরের মধ্যে যেন ঝড় জলোচ্ছ্বাসের মতো কিশোর বয়সের ছেলে-মেয়েদের অবাধ-অপার স্বাধীনতা দেবার একটা প্রতিযোগিতা চলছে।

আমি আমার ছোট বোনসহ ছেলে নিয়ে বেরুলে একেবারে অবুঝের মতো বার বার বলি, এই বাচ্চাগুলো সন্ধ্যায় পড়তে বসে না? গল্প-গুজব হাসাহাসি। আট-দশ জন ছেলে-মেয়ে একসাথে। কখনও দুজন অপ্রীতিকর অবস্থায়। কখ ও স্কুল ড্রেস পরিহিত।

একটু যেন উদ্ধত ভাব।

অথচ এই প্রবল স্বাধীনতা তারা ভোগ করছে নিজেদের আয়ে নিশ্চয়ই নয়।

পিতা-মাতা কেন এদের বাধা দিচ্ছে না?

তথ্যপ্রযুক্তির অবাধ প্রবাহ, অসৎ সমাজ, পিতামাতার অনিয়ন্ত্রিত দুর্নীতিগ্রস্ত আয় এবং তার অপব্যবহার এদের স্বেচ্ছাচারী করে তোলে।

এই ধারাবাহিকতায় চট্টগ্রামের সানশাইন স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্রী তাসপিয়া জীবন দিল।

ভার্চুয়াল জীবনে আলাপ হওয়া বন্ধু বা প্রেমিকের সাথে প্রথমবার দেখা করতে যাবার পরদিন পতেঙ্গা নেভাল বিচের পাশে পাওয়া যায় তার লাশ। মৃত্যুর আগে তার শ্লীলতাহানিও হয়েছে।

একটি ফুলের মতো সুন্দর, নিষ্পাপ মেয়ে একাকী বের হলো। কফি শপে বন্ধুর সাথে কফি খেলো। তারপর হারিয়ে গেলো! সকালে তার লাশ মিলল!

আমি জানি না, কন্যাসন্তানের অভিভাবকরা কী ভাবছেন! নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া তাসপিয়াকে ধর্ষণ করে আবার হত্যা করেছে খুনী। জানি এই বয়সে সাহায্য করতে গেলে বাবা-মাকে হিরো কম, ভিলেন বেশি ভাবে সন্তান।

কিন্তু আপনারা যখন পিতা-মাতা, তখন সন্তানের চোখে কী হচ্ছেন সেটা বড় নয়। আপনার কিশোর সন্তানের জীবন, সম্ভ্রম, ইজ্জত সব রক্ষার দায়িত্ব আপনার।

আর এই দায়িত্ব পালনে প্রয়োজনে খানিক কঠোর হোন। চাইল্ড সাইক্রিয়াটিস্টের হেল্প নিন।

অনুরোধ, আপনার সন্তানকে তাসপিয়ার মতো অকালে ঝরে যেতে দেবেন না।

কোনোমতেই না।

[ছবিগুলো দিতাম না। চাই বাবা মা এবং বাচ্চারা ছবিগুলো দেখুক এবং ভয় পেয়ে সচেতন হোক]

ডা. শিরিন সাবিহা তন্বী : মেডিকেল অফিসার, শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বরিশাল

লেখকদের উন্মুক্ত প্লাটফর্ম হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে মুক্তকথা বিভাগটি। পরিবর্তনের সম্পাদকীয় নীতি এ লেখাগুলোতে সরাসরি প্রতিফলিত হয় না।
 
.

Best Electronics Products



আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad