একটা গর্ত হবে? একটু লুকাবো।

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৬ এপ্রিল ২০১৮ | ১৩ বৈশাখ ১৪২৫

একটা গর্ত হবে? একটু লুকাবো।

মনদীপ ঘরাই ৪:২২ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৩, ২০১৮

print
একটা গর্ত হবে? একটু লুকাবো।

ইনবক্সে ক’দিন ধরেই সবাই বলছেন, কিছু লিখছি না কেন কোটা সংস্কার আন্দোলন নিয়ে। এখন চারিদিক শান্ত, এবার লিখি।

মন চায় না কনফিউশন, গুজব আর রটনার এই চারপাশে প্রাণ খুলে নিঃশ্বাস নেই।

প্রশ্ন নিশ্চয়ই করে ফেলেছেন মনে মনে, আপনি কোন পক্ষ?

আমি কোনো পক্ষের না। আমি ‘অবশ’ এক মনের মানুষে পরিণত হয়েছি গত কয়েকদিনের ঘটনাচক্রে।

আন্দোলন, পুলিশ, নির্যাতন, ধাওয়া, টিয়ারশেল, রাবার বুলেট, হাসপাতাল, ভিসি বাসভবন, গুজব, অন্য কেউ, স্থগিত, মানি না, বাতিল নয়, সংস্কার, লাঠিপেটা, জলকামান, ক্যামেরা, প্রতিরোধ, রাজপথ...অতঃপর বৃষ্টি এলো। মুছে গেল রাগ, অভিমান, প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি...সব।

শূন্য থেকে শুরু এবার। মাদার অব হিউম্যানিটি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিলেন, কোনো কোটাই থাকছে না। অপরিসীম কৃতজ্ঞতা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি, দেশকে অস্থিতিশীল এক পরিস্থিতি থেকে নিজ হাতে রক্ষা করার জন্য।

তবে, কোটা বাতিল অথবা সংরক্ষণের ভালো-খারাপের হিসাবে যাবো না একদম।

সিদ্ধান্ত এবং সমর্থন কোনো পক্ষেই দিতে পারছি না নিজের কর্মের কারণে।

তবে, একটা কথা না বললেই নয়, কোটাধারীর বিপরীত শব্দ বা বিপক্ষ ‘মেধাবী’ হওয়া উচিত কি?

মেধাবী-মেধাশূন্য/কম মেধাবী(অথবা যথার্থ কোনো শব্দ)

কোটাধারী-কোটাবিহীন(অথবা যথার্থ কোনো শব্দ) মেধাবী আমরা সবাই। যারা কষ্ট করে এসএসসি, এইচএসসি এর হার্ডল পার করে স্নাতক উতরেছি বা উতরাবো সবাই মেধাবী। প্রিলি, রিটেন পার করে যারা ভাইভার মুখোমুখি হয়, সবাই মেধাবী।

কোটা কেউ জোর করে নেয়নি। নিজ জেন্ডার, শারীরিক অবস্থা, স্থায়ী ঠিকানা, জাতিগোষ্ঠী কিংবা পূর্বপুরুষের মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের কারণে প্রাপ্ত হয়েছে কোটা।

সংস্কার আন্দোলনের সময় এই মানুষগুলো কিছুই বলতে আসেনি (অনেকেই), পাছে কি দোষ হয়ে যায়।

গুজব, রটনা আর হই হট্টগোলের মাঝে বাতাসে মিলিয়েছে কিছু মানুষের নিঃশ্বাস।

কোটা সিস্টেমের বিপক্ষে যারা, সবাইকে বলছি, আন্দোলনটা কোটা পদ্ধতির বিপক্ষে ছিল, কোটাধারীদের বিপক্ষে তো নয়! তবে কেন সব স্ট্যাটাসেই কোটাধারী কেউ কিছু লিখতে গেলেই ‘তুই তো বলবিই’, ‘তোর কথার দরকার নেই’, ‘আপনিও’! বলে আলাদা করে রাখা??? জানি প্রশ্নটা বাতাসে মিলাবে।

তাই কোটাধারীরা মুখটি লুকিয়ে বসেছিল আর ভাবছিল হয়ত, ‘এ কোন দোষের কি শাস্তি পাচ্ছি হে সৃষ্টিকর্তা’!

এখন কোটামুক্ত বাংলাদেশ। তাহলে পূর্বের কোটাধারীরা কি মেধাবীতে রূপান্তরিত হয়েছে? হয়তো। হয়তো না।

কিন্তু, হানাহানি আর বৈষম্য বর্ষায় ধুয়ে যায়নি। ফেসবুক আর মিডিয়ায় ভাঙ্গা হাটের মাঝেও চলছে পক্ষ-বিপক্ষের তর্ক। কিছু ঘটনার জট খুলছে না। মুদ্রার এপিঠ দেখলেও মানতে মন চাইছে, ওপিঠ দেখলেও...

সবশেষের কথা। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের এখন তো আর কোটা নেই, কিন্তু তাদের কোনো আঘাত করে কথা বলবেন না, প্লিজ। আমার মতো তারা অনেকেই হয়ত লিখছে না। কিন্তু, চাপা একটা কষ্ট নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে তারা। পূর্বসুরীদের গর্বকে ভাগ করে নেয়ার এটাই শ্রেষ্ঠ সময়।

আমরা সবাই মুক্তিযুদ্ধের সন্তান। ৭১ এর সন্তান। আমরা সবাই মেধাবী।

আর যদি না মানেন? তাহলে সহজ, আমরা মরলে পরে নিশ্চয়ই লিখতে বাধ্য হবেন...

‘মেধাবী অমুকের করুণ মৃত্যু’

একটু মুখ লুকাতে চাই...

সব গর্তের মুখগুলো বন্ধ কেন বন্ধু?

- একজন ‘মুক্তিযুদ্ধের’ সন্তান।

        ভালবাসি বাংলাদেশ

লেখক : সহকারী কমিশনার (ভূমি), প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এটুআই প্রোগ্রামে সংযুক্ত

লেখকদের উন্মুক্ত প্লাটফর্ম হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে মুক্তকথা বিভাগটি। পরিবর্তনের সম্পাদকীয় নীতি এ লেখাগুলোতে সরাসরি প্রতিফলিত হয় না।
 
.




আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad