বারেক সাহেব ও সবুরের অধরা ‘মেওয়া’

ঢাকা, রবিবার, ২০ মে ২০১৮ | ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫

বারেক সাহেব ও সবুরের অধরা ‘মেওয়া’

ডা. মামুন আল মাহতাব (স্বপ্নীল) ১২:১৬ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ০১, ২০১৮

print
বারেক সাহেব ও সবুরের অধরা ‘মেওয়া’

অপেক্ষা জিনিসটাই পচা। অপেক্ষা করার চেয়ে বিরক্তিকর কাজ সম্ভবত পৃথিবীতে একটিও নেই। বারেক সাহেব অপেক্ষা করছেন লিভার বিশেষজ্ঞের চেম্বারে। রুটিন চেকআপ। বাড়ছে বয়স, কাজেই রোগ বালাই যে টুকটাক বাসা বাঁধবে সেটাই স্বাভাবিক। এখন আবার যোগ হচ্ছে নতুন নতুন যত রোগ। হেলথ চেকআপ প্যাকেজের আল্ট্রাসনোগ্রামে ধরা পড়েছে ফ্যাটি লিভার। অনেকদিন ধরেই লিভারে চর্বি বারেক সাহেবের। তবে ইদানিং চোখে পড়েছে লিভারের চর্বিও নাকি কোনো মামুলি রোগ না। সিরোসিস, ক্যান্সার অনেক কিছুই হতে পারে এ থেকে। সেই সুবাদেই বারেক সাহেবের ধানমন্ডি এলাকার অভিজাত হাসপাতালে আগমন আর এখন ডাক্তার সাহেবের জন্য অসহ্য অপেক্ষা।

অপেক্ষায় থাকতে থাকতে বারেক সাহেবের মনে পড়ে কত কি? একটা সময় ছিল যখন সাত সকালে নামত মানুষের ঢল। সরকার দলীয় সাংসদ বলে কথা। তার উপর আর দশজন সাংসদের মতন না। পার্টির হাইকমান্ডের সাথে ছিল তার হটলাইন আর ‘ভবনের’ আনাচে-কানাচে ছিল হরহামেশা আনাগোনা। কোনো লুকোচুরির বিষয় ছিল না এসব। লোকের মুখে-মুখে একটা সময় ছিল এসব কথা।

এখন সেই রামও নেই, নেই সেই অযোধ্যাও। এখন ডাক্তারের চেম্বারের বাইরে বসে তাকে অপেক্ষার প্রহর গুনতে হয়। মেজাজটা খিচড়ে ওঠে বারেক সাহেবের। দিন আসুক - ডাক্তারকে ডেকে এনে লিভারের চিকিৎসা করাবেন।

কিন্তু দিন কি আসবে? কেমন যেন আনমনা হয়ে যান বারেক সাহেব। দিন ফিরিয়ে আনার চেষ্টাতো কম হলো না। কত নতুন বুদ্ধি, কৌশল আরো কত কি? আন্দোলনে আনা হলো নতুন মাত্রা। ট্রেন-ট্রাক-মানুষ-গরু আগুনে পুড়লো সবই। সাথে পুড়লো বারেক সাহেবদের কপালও, কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হলো না। লম্বা হলো শুধু অপেক্ষার পালা। শুধু কি তাই? শোনা যায় হলি আর্টিজানেও ছিল আনহোলি এলায়েন্স। জালে ধরা দিয়েছিল আরো অনেকেই। বিবেক বিক্রি করতে বাধেনি এমনকি ‘বিবেকেরও’! কিন্তু ফলাফল বিরাট একটা শূন্য।

মাঝেমাঝে ভাবেন রাজনীতি ছেড়েছুড়ে আবার পুরোদস্তুর ব্যবসায়ী বনে যাবেন। আবার ভাবেন দেখাই যাক না আরেকটু। আর যদি সবুরের মেওয়া ফলেই যায়, দশ বছরের হিসাব উসুলে দশ মাসও যে লাগবে না তা ভালই জানা বারেক সাহেবের। ইদানিং একটু যেন আশার আলোও দেখছেন। প্রিজনভ্যানে সাড়াশি আক্রমণে আসামি ছিনিয়ে নেয়ার ছবি খবরে দেখে চোখ জুড়িয়েছে বারেক সাহেবের। হেলমেটধারী অপ্রস্তুত পুলিশের পিঠে ক্যাডারের লাঠির বাড়ি আর উড়ে উড়ে এসে ফ্লাইং কিক - ভাবা যায়? আহা! আহা! একটা কিছু এবার না হয়েই যায় না। এবার শুধু স্লোগানে না, সত্যি সত্যিই জ্বলবে আগুন ঘরে-ঘরে!

‘বারেক সাহেব। বারেক সাহেব কে? ভিতরে আসেন।’ ডাক্তার সাহেবের মোটামত চেম্বার এসিস্ট্যান্টের কর্কশ ডাকে নিদ্রা ভঙ্গ হয় বারেক সাহেবের। এসিস্ট্যান্টের ডাকে শুধু তার ঘুমই ছুটে যায়নি, পদ্মা ব্রিজের দ্বিতীয় স্প্যানের চাপে বুঝি চিড়ে-চ্যাপ্টা যত সুখ স্বপ্ন। কানে বাজছে বাসায় এসে কর্মীদের চুড়ি পরিয়ে দেয়ার হুমকি-ধামকি। ‘ধুর ছাই! আপনি বাঁচলে বাপের নাম!’ সবুরের মেওয়া খাওয়ার স্বপ্ন আপাততঃ শিকায় তুলে ধীর পায়ে আগে বারেন তিনি চেম্বারের দিকে।

লেখক : বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক

লেখকদের উন্মুক্ত প্লাটফর্ম হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে মুক্তকথা বিভাগটি। পরিবর্তনের সম্পাদকীয় নীতি এ লেখাগুলোতে সরাসরি প্রতিফলিত হয় না।
 
.




আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad