অভিবাসন সঙ্কট ও সম্ভাবনার সাল ২০১৮

ঢাকা, রবিবার, ২২ এপ্রিল ২০১৮ | ৯ বৈশাখ ১৪২৫

অভিবাসন সঙ্কট ও সম্ভাবনার সাল ২০১৮

বিশেষ প্রতিনিধি, যুক্তরাষ্ট্র ১:১৭ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ৩০, ২০১৭

print
অভিবাসন সঙ্কট ও সম্ভাবনার সাল ২০১৮

যে বছরটি আমরা পার করলাম নিঃসন্দেহে সেটি বিশ্ব বাস্তবতায় একটি কঠিন বছর। ২০১৬ সালের শেষের দিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের উত্থানের নানা শঙ্কা আর সম্ভাবনার জল্পনা-কল্পনা দিয়ে শুরু হয়েছিল নতুন বছর ২০১৭। এই এক বছরে অনেক কিছুই ওলট-পালট করে দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। আগামী বছরেও তার রেশ থাকবে, সঙ্গে আরো অনেক কিছুই যোগ হতে পারে। যেমন- অভিবাসনের সংস্কারের মাধ্যমে বাংলাদেশিদের সঙ্কট আরো ঘনীভূত হতে পারে। তবে নতুন সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে। প্রথমে সঙ্কটটি নিয়ে আলোচনা করা যাক।

অভিবাসনের সঙ্কট শুরু হয়েছে বাংলাদেশি যুবক আকায়েদ উল্লাহর অপকর্মের মাধ্যমে। তিনি যেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতে মোক্ষম অস্ত্রটিই তুলে দিয়েছেন। ম্যানহাটনের পাতালপথে তিনি একটি স্ব-প্রযুক্তিতে তৈরি বোমার বিস্ফোরণ ঘটান। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

তবে তার পরিকল্পনা ছিল আরো বড়ভাবে আমেরিকার গায়ে আঘাত দেয়া। সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়ার পর তাকে নিয়ে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, তিনি মনে মনে আমেরিকার ধ্বংসই চেয়েছেন। তো, যেসব মানুষ আমেরিকার ধ্বংস চায় তাদেরকে আমেরিকা কেন আপন করে নেবে? সেটাকেই বড় যুক্তি হিসেবে দাঁড় করিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পারিবারিক বা চেইন অভিবাসন বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছেন।

এর আগে অনেক ঘোষণাই বড় বাধার মুখে পড়লেও শেষ পর্যন্ত কিছুটা তিনি বাস্তবায়ন করেই ছেড়েছেন। 

যেমন, ইমিগ্রেশন পুলিশ দপ্তর-আইসকে তিনি যথেষ্ট বেগবান করেছেন। এক বছরে সোয়া দুই লাখ মানুষকে তিনি দেশে ফেরত পাঠিয়েছেন। বাংলাদেশের ১১টি পরিবার প্রাথমিকভাবে, পরে আরো ২৭ জন দেশে ফিরেছে সেই প্রক্রিয়ায়।

এক. রিয়াজ তালুকদারের ফেরত নির্দেশনা সাময়িকভাবে হয়তো আটকে দেয়া গেছে, কিন্তু এ রকম দেশে ফেরার প্রক্রিয়ায় আছে আরো হাজারো মানুষ। অনেকেই হয়তো আইনি ম্যারপ্যাঁচে পড়ার আগে নিজে নিজেই চলে গেছেন।

এরপর আসতে পারে, ট্রাভেল ব্যান ইস্যু। তিনি সেটি ৩ বার আইনি বাধার মুখে পড়েও বাস্তবায়ন করেছেন। ট্যাক্স কাট, ডেফার্ড অ্যাকশন ফর চাইল্ডহুড এরাইভাল-প্রকল্পের লাখ লাখ শিক্ষার্থীর জীবন হুমকির মুখে ফেলে দেয়ার আদেশ দিয়ে রেখেছেন। এর কতগুলোর বিরোধিতা করবে ডেমোক্রাট দল? সেটাই আসলে দর কষাকষির অস্ত্র হিসেবে হাতে রেখেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

কি সেই দরকষাকষি?

ডাকা প্রকল্পে যে প্রায় ৮ লাখ শিক্ষার্থীকে দেশে ফেরত পাঠানোর কথা বলে রেখেছেন, সেখানে বেশ কিছুটা নমনীয় হয়তো তিনি হবেন।

তবে, তার বিনিময়ে ডেমোক্রাট দল থেকে তিনি সমর্থন আদায় করতে চাইবেন, পারিবারিক অভিবাসন বন্ধ করার জন্য। আর সেটা নিয়ে কিছুটা মতৈক্য তৈরি হয়ে আছে বলেই ক’দিন আগে ফক্স নিউজের একটি আলোচনায় দেখেছিলাম। সেটা যদি হয়, কিছু পরিবার যারা ডাকা প্রকল্পের সুবিধাভোগী তাদের অধিকার রক্ষার সুযোগ হয়তো পাওয়া যাবে, কিন্তু পারিবারিক অভিবাসন বন্ধের বলি যারা হবেন, সেই সংখ্যা হবে লক্ষাধিক।

যুক্তরাষ্ট্র প্রতিবছর সাড়ে তিন থেকে সাড়ে পাঁচ লাখ করে গ্রিনকার্ড প্রদান করে, যার মধ্যে পারিবারিক অভিবাসন খাতে যায় ৬৫ থেকে ৭০ ভাগ। ৫ ভাগ ডিভি লটারিতে, আর দক্ষ অভিবাসীদের ক্ষেত্রে যাচ্ছে মাত্র ২ ভাগ। এই ৬৫ ভাগ আভিবাসন যদি বন্ধ হয়ে যায় বা সীমিত হয়ে যায়, সেক্ষেত্রে বলিতে পড়বেন বেশ কয়েক লাখ বাংলাদেশি যারা ডিভি লটারিসহ অন্যান্য উপায়ে এই দেশে এসেছিলেন এবং স্বপ্ন দেখছিলেন একদিন তাদের আত্মীয়-স্বজনেরা আসবেন। সুখী পরিবারের রেশ পাবেন, তাদের জীবন-যাপন উন্নত হবে। এমন হাজার হাজার মানুষের স্বপ্ন ভঙ্গ হয়ে যাবে হয়তো।

তবে এর বাইরে সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে এতদিন যারা সাইডলাইনে বসে ছিলেন তাদের জন্য। ওই যে ২ শতাংশ বেড়ে ২০ শতাংশ হতে পারে।

২ শতাংশ অর্থাৎ যারা আইটি অথবা অন্য খাতে দক্ষ হিসেবে আছেন, কিন্তু আমেরিকায় পাড়ি দিতে গিয়ে নানা রকম জটিলতা আর ভোগান্তি ছিল তাদের ক্ষেত্রে সুদিন আসতে পারে।

কেননা, ডোনাল্ড ট্রাম্প আগেই ঘোষণা দিয়েছেন যে, অভিজ্ঞ এবং দক্ষদের নেয়ার ক্ষেত্রে কানাডা এবং অস্ট্রেলিয়ার মতো পয়েন্ট সিস্টেম চালু করবেন।

তবে, কানাডা আর অস্ট্রেলিয়ার থেকে বহুগুণে বেশি মানুষ এখানে ওই প্রকল্পে আসতে পারবেন। কেননা, এই দেশটি অর্থনীতি টিকিয়ে রাখার জন্য এবং ক্রমবর্ধমান অর্থনীতিকে এগিয়ে নেয়ার জন্য অভিবাসন লাগবেই। নতুন মানুষ লাগবেই এদেশে। সেটাই বড় বাস্তবতা। সুতরাং চাইলেই অভিবাসন বন্ধ হয়ে যাবে না, তবে আকায়েদ আর সাইফুল্লাহ সাইফ যিনি ডিভি লটারিতে এসেছিলেন- এই দুজনের কারণে ডিভি লটারি আর পারিবারিক অভিবাসন দুটিতেই ছেদ বসাতে চান ট্রাম্প।

তাতে যেই সঙ্কট তৈরি হবে সেটা হয়তো পুষিয়ে নিতে পারবেন না যারা তাদের স্বজনদেরকে আনার জন্য আবেদন করে রেখেছেন।

তবে দুয়ার খুলতে পারে অন্যদিকে, সেটাই হোক সম্ভাবনা। সেটার প্রস্তুতিই নিক সকল বাংলাদেশি।

এসএ/বিএইচ/আরপি

 
.




আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad