হিলারি প্রেসিডেন্ট হলে কি হবে!

পরিবর্তন ডেস্ক / ১০:৩৭ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ০৮,২০১৬

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন রিপাবলিকান দলীয় ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ডেমোক্রেট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন। আগাম জনমত জরিপে সামান্য ব্যবধানে হলেও হিলারি এগিয়ে রয়েছেন। মার্কিন প্রশাসন সম্পর্কে পূর্ব অভিজ্ঞতা থাকায় যোগ্যতার দিক থেকে ট্রাম্পের তুলনায় হিলারিকেই এগিয়ে রেখেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।

যদি সত্যিই হিলারি দেশটির ক্ষমতায় আসেন তবে কি হবে যুক্তরাষ্ট্রের ভাগ্যে! দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যম ভয়েজ অব আমেরিকা এ বিষয়ে বিশ্লেষণ করেছে। স্বামী বিল ক্লিনটন ১৯৯৩ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতায় থাকেন। সে সময় ফার্স্ট লেডি হিসেবে দেশে ও দেশের বাইরে স্বামীর সহচর হিসেবে ভালো অভিজ্ঞতা লাভ করেছিলেন হিলারি। এরপর ২০০১ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত তিনি দেশটির সিনেটের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

স্বামীর পথ অনুসরণ করে হিলারি দেশটির ৪৪ তম প্রেসিডেন্ট হতে ডেমোক্রেট দলের প্রার্থীতার প্রতিযোগিতাতেও নামেন। তবে বারাক ওবামার কাছে হেরে গেলে সেবার আর তার এই পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা হয়ে ওঠেনি। প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচনে না জায়গা পেলেও অভিজ্ঞতার জন্য বারাক ওবামা ২০০৯ সালে ক্ষমতায় এসে হিলারিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োগ দেন। ওবামার প্রথম মেয়াদের পুরোটা সময় হিলারি দক্ষতার সঙ্গে সেই দায়িত্ব পালন করেন।

দ্বিতীয় মেয়াদে ওবামা হিলারিকে এই দায়িত্ব দিতে আগ্রহী হলেও তাতে রাজি হননি হিলারি। সে সময় থেকেই ধারণা করা হচ্ছিল সম্ভবত পরবর্তী নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে দেখা যাবে তাকে। তবে যতোই দেশটির গুরুত্বপূর্ণ পদে তাকে দেখা যাক না কেনো হিলারি ক্লিনটনকে এখনো অনেকে দেশটির ফার্স্ট লেডি হিসেবেই মনে জায়গা দিয়েছেন। আর তাই ওয়াশিংটনের ব্রুকিং ইনস্টিটিউশন নামের পাবলিক পলিসি গ্রুপের গবেষক জন হুডাক বলছেন, ‘যদি তিনি প্রেসিডেন্টও হন তবুও তার মধ্যে ফার্স্ট লেডির ছায়াটা সরে যাবে না। আর একারণে তার দায়িত্ব পালনেও বেশ সমস্যাবোধ করতে হতে পারে।’

তবে জন এটাও বলছেন, ‘হিলারি সিনেটর হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে যেমনটা ছিলেন, যদি তেমনভাবে চলেন তবে আরো বেশি সাফল্য তার আসবে।’

বলা হয়ে থাকে, মার্কিন ইতিহাসে ফার্স্ট লেডি হিসেবে সবচেয়ে প্রভাবশালী ভূমিকায় ছিলেন হিলারি ক্লিনটন। তার প্রেরণাতেই বিল ক্লিনটন স্বাস্থ্যসেবা খাতে পরিবর্তন আনার সাহস পান। যেখানে ১৯৯৩ সালে কংগ্রেস স্বাস্থ্যসেবা বিলটি বাতিল করে দেয়। অবশ্য সে সময় মার্কিন প্রেসিডেন্টের স্ত্রী হিসেবে তার জনসমর্থন ২০ শতাংশ নেমে যায়।

তবে ১৯৯৮ সালের দিকে হিলারির জনসমর্থনের হার বাড়তে থাকে। যখন স্বামীর ভুল সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তিনি স্বোচ্চার হন। বিল ক্লিনটন হোয়াইট হাইজের এক স্বেচ্ছাসেবীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়ানোয় হিলারি আরও প্রতিবাদী হন।

সেসময় বিল ক্লিনটনের নারী কেলেঙ্কারির প্রতিবেদন করেছিলেন সাংবাদিক মাইকেল ইসিকফ। সে সময় হিলারিকেও খুব ভালোভাবে বোঝার সুযোগ তার হয়েছিল। এই প্রসঙ্গে ইসিকফ বলেন, ‘হিলারি মিডিয়াকে খুব একটা বিশ্বস্ততার চোখে দেখতেন না। ফলে কখনো কখনো সংবাদমাধ্যমকে তিনি এড়িয়ে চলতেন, কখনো আবার আক্রমণাত্মক ভূমিকায় থাকতেন। অবশ্য যদি তার স্বামী সামনে থাকতেন তবেই।’

এ বিষয়ে ইসিকফ বলেন, ‘এখনো তিনি সতর্কতার সাথেই সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন।’ এই সাংবাদিক আরো বলেন, ‘যখন তিনি টেলিভিশনকে সাক্ষাৎকার দেন তখন এমনভাবে তা দেন যেন কোনো সাংবাদিক হঠাৎ করে কোনো প্রশ্ন করতে না পারে। তিনি এই বিষয়ে সতর্ক থাকেন যেন কোনো সাংবাদিক এমন প্রশ্ন করতে না পারে যার উত্তর দিতে অনেক সময় ব্যয় হবে।’

ইসিকফের মতে, কোনো রাজনীতিবিদের জন্য এটি দুর্বলতার লক্ষণ। যদি তাই হয় তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে হিলারি দুর্বল প্রার্থী। তবে পলিটিকো গ্রন্থের রচয়িতা ইন্দ্রিরা লক্ষণের মতে, সরকার পরিচালনা আর সরকারের মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এক বিষয় নয়।

তার মতে, ‘সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে বেশ দক্ষতার সঙ্গেই হিলারি দায়িত্ব পালন করেছেন। তার চলাফেরা, আচার ব্যবহার, বক্তব্যগুলো খেয়াল করলেই তা স্পস্ট হয়। এমনকি সংবাদমাধ্যমের সামনেও তিনি অনেকের চাইতে বেশি সাবলীল।’ ইন্দ্রিরার মতে, গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের সময় হিলারি সবচেয়ে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে থাকেন।

ইন্দ্রিরা আরো বলেন, ‘আমরা তাকে কঠিন মনোভাবের অধিকারী বলেই জানি। কিন্তু খেয়াল করে দেখুন স্বাস্থ্যসেবার মতো অভ্যন্তরীণ ইস্যুতে তার অবস্থান কি ছিল?.. কিংবা পররাষ্ট্রনীতিতেও তার মানবিকতার ছোঁয়া ঠিকই লক্ষ্য করা গেছে।’ ইন্দ্রিরা জানান, আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখার ব্যপারেও ওবামা ও তার পন্থা ভিন্ন ছিল।

ইন্দ্রিরা এটাও বলেন, 'হিলারি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকাকালে বিশ্বের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বেশ উন্নত ও কার্যকর ছিল। বর্তমানের সঙ্গে মিলালে পার্থক্যটি ভালোভাবেই চোখে পড়বে। সে সময় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।'

তবে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকাকালে হিলারি সফল ছিলেন না বলেই মত সাংবাদিক রন ফরনিয়া’র। ন্যাশনাল জার্নালের এই রাজনৈতিক প্রতিবেদকের মতে, তার আমলের অনেক সিদ্ধান্তই ভুল বলে প্রমাণিত হয়েছে। হিলারি কঠিন পন্থা অবলম্বনের পক্ষে থাকলেও তার স্বামী কিন্তু শান্তিকেই প্রাধান্য দিতেন।

কেবিএ/এইচজে

প্রধান সম্পাদক : মোঃ আহসান হাবীব
নির্বাহী সম্পাদক : মাহবুব মোর্শেদ

Poriborton
Bashati Horizon, Apartment # 9-A, House # 21, Road # 17,Banani, Dhaka 1213 BD
Phone: +88 029821191, +88 01779284699
Website: http://www.poriborton.com
Email: report@poriborton.com
            editor@poriborton.com