লাইলীর দুই শিশুর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত

ঢাকা, শুক্রবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৭ | ১ পৌষ ১৪২৪

লাইলীর দুই শিশুর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত

এ এইচ এম ফারুক ৯:১৩ অপরাহ্ণ, আগস্ট ০৫, ২০১৭

print
লাইলীর দুই শিশুর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত

মরিয়ম আক্তার, বয়স পাঁচ বছর। আতিকুর রহমান, বয়স তিন বছর। তারা ভাই-বোন। বাবা নজরুল ইসলাম, মা লাইলী বেগম। গৃহপরিচারিকা মা লাইলী বেগম (২৫) রাজধানীর বনশ্রীর একটি বাসায় কাজে যাওয়ার পর তার রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। এদিকে, বাবা নজরুল ইসলাম ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-র হাতে আটক হয়ে সেই দেশের কারাগারে।

.

শুক্রবার বনশ্রীতে কাজে গিয়ে মালিকের বাসায় মা লাইলী বেগমের (২৫) রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এলাকাবাসী ও লাইলীর স্বজনদের অভিযোগ লাইলীকে হত্যা করা হয়েছে। আর বাড়ির কর্তার দাবি লাইলী আত্মহত্যা করেছেন। এ নিয়ে বাড়ি ঘেরাও করে ভাঙচুর করেছে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে পুলিশের সঙ্গেও। এ নিয়ে শুক্রবার রাত পর্যন্ত এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

হত্যার অভিযোগে এবং হামলা ও সংঘর্ষের অভিযোগে পৃথক দুটি মামলাও করা হয়েছে থানায়। গ্রেফতার করে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে গৃহকর্তা মুন্সী মইন উদ্দিন ও দারোয়ান তোফাজ্জল হোসেন টিপুকে।

কিন্তু সব ছাপিয়ে এখন স্বজনদের কাছে বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে বাবা-মা ছাড়া এতিম দুই শিশু সন্তানের ভবিষ্যত কী হবে?

রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হওয়া লাইলি বেগমের গ্রামের বাড়ি বাড়ি কুড়িগ্রাম জেলা ফুলবাড়ি থানার কাশিপুর ইউনিয়নে। তিনি দুই শিশু সন্তানকে নিয়ে খিলগাঁওয়ের মেরাদিয়া বস্তি এলাকায় একটি ছোট টিনের ঘরে ভাড়া থাকতেন। গৃহপরিচারিকার কাজ করে নিজের ও সন্তানদের আহার ও বাসস্থানের ভাড়ার টাকা যোগাড় করতেন।

অবুঝ দুই শিশু এখনো বুঝে উঠতে পারছে না তাদের মা চিরদিনের মতো তাদের ছেড়ে চলে গেছেন।

মৃত লাইলির বোনের স্বামী নূর ইসলাম বলেন, লাইলী মারা গেছে সেটা এই শিশুরা এখনো বুঝতে পারেনি। তারা মায়ের জন্য অপেক্ষা করছে। কাল থেকে তেমন কিছু খায়নি আতিক ও মরিয়ম।

নুরুল ইসলাম জানান, শিশু দুটি মা ছাড়া অন্য কারো হাতে খাবার খায় না। শুক্রবার সারা বিকেল আন্দোলনকারীদের মাঝেই ছিল তারা। সন্ধ্যার পর অনেক চেষ্টা করেও তাদের খাওয়ানো যায়নি।

লাইলী হত্যা মামলার বাদী শহিদুল ইসলাম জানান, তারা এখন বেশ চিন্তিত বাবা ও মা হারা এই দুই শিশুর ভবিষ্যত নিয়ে। এদের লালন পালন এবং ভরণপোষণ কীভাবে হবে।

তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই গরিব। নিজেদের সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয়। নুন আনতে পান্তা ফুরায়। এখন এই বাচ্চাদের কী হবে।’

লাইলীকে হত্যা করা হয়েছে অভিযোগ করে গৃহকর্তা ও গৃহকর্ত্রীসহ হত্যার সঙ্গে জড়িতদের ফাঁসি দাবি করেন তিনি।

এ ঘটনায় গৃহকর্তা মুন্সী মইন উদ্দিন, গৃহকর্ত্রী শাহনাজ বেগম ও কেয়ারটেকার  তোফাজ্জলকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, প্রতিদিনের মতো শুক্রবারও সকালে বনশ্রী এলাকায় মুন্সী মইন উদ্দিনের বাসায় কাজে যান গৃহকর্মী লাইলী আক্তার। দুপুরে বাসার একটি ঘর থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

এই মৃত্যুকে ‘হত্যা’ দাবি করে বনশ্রীর বাসিন্দারা ওই বাড়িটিতে হামলা চালায় এবং ভাঙচুর চালায়। একপর্যায়ে তারা রাস্তায় নেমে এসে প্রতিবাদ ও গাড়িতে আগুন দেয়।

পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গেলে উভয়পক্ষের সংঘর্ষে বনশ্রী এলাকা পরিণত হয় রণক্ষেত্রে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, লাইলী আক্তারের গলায় ও মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

এএফ/একে/এমডি

print
 

আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad