অন্ধকারে লিটন হত্যার রহস্য

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ নভেম্বর ২০১৭ | ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৪

অন্ধকারে লিটন হত্যার রহস্য

গাইবান্ধা প্রতিনিধি ১০:১২ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ০৫, ২০১৭

print
অন্ধকারে লিটন হত্যার রহস্য

এখনও অন্ধকারে রয়েছে সুন্দরগঞ্জের আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন হত্যার রহস্য। ঘটনার ৫ দিন পেরিয়ে গেলেও হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদঘাটন বা কিলিং মিশনের প্রকৃত খুনিদের গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। জানা যায়নি, হত্যার উদ্দেশ্য।বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহভাজন ৩৯ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এদিকে পুলিশ তদন্ত বাধাগ্রস্ত হতে পারে কারণ দেখিয়ে চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে কোনো তথ্যই দিচ্ছে না।

.

গাইবান্ধার পুলিশ সুপার (এসপি) আশরাফুল ইসলাম বুধবার ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জিজ্ঞাসাবাদে জানান, সদর থানা পুলিশ, র‌্যাব, গোয়েন্দা বিভাগ, পুলিশের বিশেষায়িত তদন্ত দল এই খুনের প্রকৃত রহস্য উদঘাটনসহ খুনিদের গ্রেফতারে ব্যাপক তৎপরতা শুরু করেছে। গাইবান্ধার পুলিশ আশাবাদী অতিসত্বর খুনের প্রকৃত তথ্য জানা যাবে এবং দোষী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে। 

পুলিশের একটি সূত্র জানায়, শুরু থেকেই এই হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নব্য জেএমবি, জঙ্গি, জামায়াত-শিবির, পারিবারিক শত্রুতা, রাজনৈতিক কোন্দল এবং জেলা পরিষদের নির্বাচনসহ যে ৫টি বিষয়ের উপর গুরুত্ব দেয়া হলেও এখন জামায়াত-শিবির চক্র, পারিবারিক শত্রুতা এবং জেএমবি জঙ্গি এই ৩টি বিষয়ের উপর সর্বাধিক গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে। 

এমপি লিটনের ভাই-বোন ও নিকট আত্মীয়দের পক্ষ থেকে পারিবারিক কোন্দলের বিষয়টি উত্থাপিত হওয়াসহ বোন ফাহমিদা বুলবুল কাকলীর থানায় দায়ের করা মামলার সূত্র ধরে বুধবার বিকেলে লিটন হত্যাকাণ্ডের প্রত্যক্ষদর্শী পরিবারের লোকজনসহ কেয়ার টেকারদের জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। 

গাইবান্ধার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্যাহ আল ফারুক, সুন্দরগঞ্জ থানার ওসি আতিয়ার রহমানসহ পুলিশের একটি তদন্ত দল সম্প্রতি লিটনের বাড়িতে যান। এ সময় তারা মামলার বাদী ফাহমিদা বুলবুল কাকলী, এমপি লিটনের স্ত্রী খুরশিদ জাহান স্মৃতি, লিটনের শ্যালক বেদারুল আহসান বেতার, লিটনের ছেলে সাকিব সাদমান রাতিন, এমপির গাড়িচালক ফোরকান আকন্দ, বাড়ির কেয়ারটেকার ইসমাইল, ইউসুফ, সৌমিত্র, মাজেদুল ইসলাম, এমপির ভাগনি মারুফা সুলতানা শিমু, এমপির চাচী শামীম আরাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। 

একপর্যায়ে তারা এরমধ্যে থেকে বেদারুল আহসান বেতারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে যায়। এই জিজ্ঞাসাবাদের কারণ সম্পর্কে পুলিশ সুপারের কাছে জানতে চাইলে তিনি এ ব্যাপারে তদন্তের স্বার্থে কোনো কিছু বলতে রাজী হননি। 

তবে বুধবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও কনফারেন্স থেকে ফেরার সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বি মিয়া বলেন, লিটন হত্যার তদন্তের বিষয়টি যদিও পুলিশের উপরই নির্ভর করছে। তবুও তিনি এ ব্যাপারে জেলার পুলিশ সুপারের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন এবং অগ্রগতি পর্যালোচনা করছেন। পুলিশ সুপার আশরাফুল ইসলাম তাকে জানিয়েছেন হত্যা মামলা তদন্তের অগ্রগতি হচ্ছে। খুব শিগগিরই খুনিরা ধরা পড়বে এবং খুনের প্রকৃত কারণও জানা যাবে। 

ঘটনার সাথে পারিবারিক কোন্দল জড়িত থাকার বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে ডেপুটি স্পিকার বলেন, এটা দুর্বৃত্তদের একটি অপপ্রচার এবং খুনের ঘটনাকে অন্যখাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা ছাড়া আর কিছুই নয়। তিনি এমন প্রচারণার নিন্দা জানান। 

সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের সাহাবাজ গ্রামের নিজ বাড়িতে ঢুকে শনিবার সন্ধ্যা পৌনে ৬টায় এমপি লিটনকে গুলি করে দুর্বৃত্তরা। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। 

এএইচএ/এসএফ/কেআরএস

print
 

আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad