পাবনায় জিঙ্ক সমৃদ্ধ ব্রি ৭২ ধানের সফল উৎপাদন

ঢাকা, রবিবার, ২৫ জুন ২০১৭ | ১১ আষাঢ় ১৪২৪

পাবনায় জিঙ্ক সমৃদ্ধ ব্রি ৭২ ধানের সফল উৎপাদন

পাবনা প্রতিনিধি ৯:২০ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ০৮, ২০১৬

print
পাবনায় জিঙ্ক সমৃদ্ধ ব্রি ৭২ ধানের সফল উৎপাদন

পাবনায় জিঙ্ক সমৃদ্ধ ব্রি-৭২ ধানের সফল উৎপাদন হয়েছে। উচ্চ ফলনশীল ও পুষ্টিগুণ সম্পন্ন এ ধান আবাদে কৃষক ফলন ভালো পাওয়ায় আগামীতে এ ধানের চাষ আরো বাড়বে বলে মত সংশ্লিষ্টদের।

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত জিঙ্ক সমৃদ্ধ আমন ধানের জাত ব্রি-৭২। জেলা কৃষি বিভাগ হারভেস্ট প্লাস বাংলাদেশের সহযোগিতায় পাবনায় ৬০ বিঘা জমিতে এ ধানের পরীক্ষামূলক আবাদ করে। ফলন ভালো হওয়ায় তাই দারুন খুশি কৃষকরা। সফল উৎপাদনে এ ধান আবাদে আগ্রহী হচ্ছেন অন্যরাও।

পাবনার জহিরপুর গ্রামের কৃষক খোরশেদ আলম জানান, কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে আমি হারভেস্ট প্লাসের দেওয়া ব্রি-৭২ ধান এক বিঘা জমিতে আবাদ করি। আশা করি ২০-২৫ মণ ধান পাব।

একই গ্রামের কৃষক আব্দুল আওয়াল বলেন, ব্রি-৭২ ধানের ফলনে আমরা সন্তুষ্ট। মাত্র ১৩১ দিনে এ ধান উৎপাদিত হয়েছে। স্বল্প শ্রমে,স্বল্প ব্যয়ে পুষ্টিকর এ ধান আগামীতে আরও বেশি পরিমাণে আবাদ করব।

টেবুনিয়া গ্রামের কৃষক আবু তালেব মন্ডল জানান, ব্রি-৭২ ধান রোগব্যাধি মুক্ত, আবাদে খরচও কম।

কৃষি কর্মকর্তারা জানান, উচ্চ ফলনশীলতার পাশাপাশি স্বল্প সময়ে চাষযোগ্য এ ধানের প্রতি কেজিতে রয়েছে ২২.৮ মিলিগ্রাম জিঙ্ক। ব্যাপক পরিসরে এ ধানের আবাদ সম্প্রসারিত হলে দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জিঙ্কের ঘাটতি পূরণ অনেকটাই সম্ভব হবে বলে মত সংশ্লিষ্টদের।

এ বিষয়ে হার্ভেস্ট প্লাস বাংলাদেশের কুষ্টিয়া কৃষি উন্নয়ন ও গবেষণা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের দেশের গ্রামাঞ্চলের মানুষ জিঙ্কের অভাবজনিত নানা রোগে ভোগে। গর্ভবতী নারী ও শিশুদের জন্য এ উপাদানটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

‘দামী খাবার ও ফলমূলে এ উপাদান থাকায় তা ব্যয়বহুল। বর্তমানে ব্রি-৭২ ধানে এ উপাদান থাকায় মানুষ এখন খুব সহজেই এ চালের ভাত থেকে উপাদানটি গ্রহণ করতে পারবে।’

ব্রি ৭২ ধান থেকে প্রাপ্ত জিঙ্ক সমৃদ্ধ খড় পুষ্টিকর গো খাদ্যের সংকট মোকাবেলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে জানালেন বিশেষজ্ঞরা।

এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর, খামারবাড়ী,পাবনার উপ-পরিচালক বিভূতিভুষণ সরকার বলেন, জিঙ্ক সমৃদ্ধ ব্রি ৭২ ধানে প্রচুর খড় উৎপাদান হয়। এই খড়েও জিঙ্ক থাকায় তা গবাদি পশুর জন্যও স্বাস্থ্যকর। এছাড়া ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকদের মধ্যেও আগ্রহ বাড়ছে।

চলতি বছর জেলায় বিঘাপ্রতি গড়ে ২০ মণ ব্রি ৭২ ধান উৎপাদন হয়েছে।

আরজে/টিটি/ডব্লিউএন

print
 

আলোচিত সংবাদ