ঘুরে দাঁড়াতে চায় চট্টগ্রাম বিএনপি

ঢাকা, সোমবার, ২২ জানুয়ারি ২০১৮ | ৯ মাঘ ১৪২৪

ঘুরে দাঁড়াতে চায় চট্টগ্রাম বিএনপি

খোরশেদুল আলম শামীম, চট্টগ্রাম ১:২৮ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৪, ২০১৮

print
ঘুরে দাঁড়াতে চায় চট্টগ্রাম বিএনপি

প্রায় ২০ বছর পর গেল বছরের মাঝামাঝি সময়ে ২৭৫ সদস্য বিশিষ্ট চট্টগ্রাম নগর বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠিত হয়। এরপর থেকে মামলা-হামলায় জর্জরিত নেতাকর্মীদের নিয়ে রাজনৈতিক মাঠে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি।

সম্প্রতি বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে বিপুল পরিমাণ নেতাকর্মীর উপস্থিতি ও কেন্দ্রীয় নেতাদের চট্টগ্রামে বারবার আগমনে এখন অনেকটা উজ্জীবিত নেতাকর্মীরা।

অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে পেছনে ফেলে আগামী দিনে আন্দোলন ও নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে দলটির নেতাকর্মীরা। নগর বিএনপির একাধিক নেতার সাথে কথা বলে এমনটি জানা গেছে।

নেতারা বলেন, প্রায় ২০ বছর পর নগর বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়েছে। সেই সাথে বেশির ভাগ থানা ও ওয়ার্ড কমিটিও ঘোষণা করা হয়েছে। সব মিলিয়ে আগের চেয়ে দ্বিগুণ উৎসাহ উদ্দীপনা নিয়ে কাজ করতে প্রস্তুত তারা। আগামী দিনে যেকোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়নে প্রস্তুত চট্টগ্রাম নগর বিএনপি।

কমিটি গঠনের পর বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্যতা আসলেও কিছু থানা ও ওয়ার্ড কমিটি গঠনে কারো কারো অসন্তোষ রয়েছে বলে অভিযোগ আছে।

ওয়ার্ড ও থানা পর্যায়ের একাধিক নেতার সাথে কথা বলে জানা গেছে, কমিটি গঠনে তারা খুশি। কিন্তু কেন্দ্রের নির্দেশনায় সম্মেলন করে নির্বাচনের মাধ্যমে কমিটি গঠন করার কথা থাকলেও সব ক্ষেত্রে সেটি হয়নি। বরং সংসদীয় এলাকার সংশ্লিষ্ট এমপি প্রার্থীদের পছন্দের লোক দিয়েই কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে কিছু নিষ্ক্রিয় ব্যক্তিও ওয়ার্ড সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদ পেয়েছেন।

দলীয় সূত্র জানায়, নগরীর ১৫টি থানার মধ্যে ৯টি থানা কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে। এছাড়া ৪৩টি সাংগঠনিক ওয়ার্ডের মধ্যে কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে ২৭টির। বাকি ওয়ার্ডগুলোতে দ্রুতই কমিটি দেয়া হবে বলে সূত্র জানিয়েছে। তবে বিগত দিনে নির্যাতন, হামলা, মামলা ও রাজনৈতিক মাঠে সক্রিয়দের যাতে মূল্যায়ন করা হয়- সে দাবি দলীয় কর্মীদের।

সেই সাথে যত দ্রুত সম্ভব ‘বিএনপির ভ্যানগার্ড’ হিসেবে পরিচিত ছাত্রদল ও যুবদলের নগর কমিটি ঘোষণার দাবি তুলেছেন অঙ্গ সংগঠন দুটির স্থানীয় নেতাকর্মীরা। সেই সাথে ওয়ার্ড ও থানা কমিটিও করতে হবে।

সূত্র বলছে, রাজনৈতিক মামলা-হামলায় জর্জরিত হয়ে সাম্প্রতিক সময়গুলোতে বিভিন্ন গ্রুপ উপগ্রুপে বিভক্ত হয়ে পড়েছে ছাত্রদল ও যুবদলের কর্মীরা। অনেকে রাজনৈতিক কর্মসূচি থেকেও নিজেদের গুটিয়ে নিয়েছেন। তবে এর বাইরে অনেকে নিজেদের ওয়ার্ড, থানা ও মহানগর নেতা হিসেবে পরিচয় দিয়ে ব্যানার ফেস্টুন টানাচ্ছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদত হোসেন বলেন, নেত্রীর নির্দেশে আমরা নির্বাচন ও আন্দোলন দুটোরই প্রস্তুতি নিচ্ছি। আমরা এখন নির্বাচনমুখী। বর্তমান সরকার গণতন্ত্রের পথ সুগম করতে ব্যর্থ হয়েছে। গণতন্ত্রের পথ সুগম করতে হলে সরকারকে প্রথমেই ভোটের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। ভাতের অধিকার, ভোটের অধিকার, মানবাধিকার, বাকস্বাধীনতা, আইনের শাসন- সব কিছুই নিয়েই গণতন্ত্র। এই গণতন্ত্র রক্ষার জন্যই আমাদের আন্দোলন।

থানা ও ওয়ার্ড কমিটি নিয়ে অনেকের ক্ষোভ রয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি আসলে চেষ্টা করেছি কাউন্সিল ও সম্মেলন করে কমিটি গঠন করার জন্য। কিছু সীমাবদ্ধতা ছিল। তবে আগামী দিনে সুযোগ পেলে অবশ্যই কাউন্সিল ও সম্মেলনের মাধ্যমেই সব কমিটি গঠন করা হবে।

ছাত্রদল ও যুবদলের কমিটি গঠনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যুবদল ও ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতারাই কমিটি দিতে দেরি করছে। এতে বিএনপি নেতাদের কোনো হস্তক্ষেপ নেই।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর বলেন, পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের পর নগর বিএনপির কর্মীদের মধ্যে এক ধরনের কর্ম তৎপরতা সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে আমাদের ছোট বড় প্রতিটি অনুষ্ঠানে কর্মীদের উপস্থিতি অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। চট্টগ্রাম বিএনপি এখন আন্দোলন ও নির্বাচন দুটোর জন্যই প্রস্তুত।

তিনি বলেন, আমাদের অনুষ্ঠানগুলোতে কেন্দ্রীয় নেতারাও থাকছেন। অনেক কেন্দ্রীয় নেতা দলের সিদ্ধান্তে আসছেন আবার অনেক নেতাকে আমরা দাওয়াত দিয়ে আনছি। প্রতিটি অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় নেতাদের পেয়ে কর্মীরাও খুশি।

ছাত্রদল ও যুবদলের কমিটি গঠনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ছাত্রদল ও যুবদলের কমিটি গঠন করবে তাদের কেন্দ্রীয় সংগঠন। এখানে বিএনপি নেতাদের হস্তক্ষেপ করার প্রশ্নই আসে না। কাকে দায়িত্ব দিবে না দিবে এটা তাদের একান্ত বিষয়। তবে আমি মনে করি দ্রুত ছাত্রদল ও যুবদলের কমিটি ঘোষণা করা দরকার। এতে করে দল আরো শক্তিশালী ও সুসংগঠিত হবে।

নগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি ও নগর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আবু সুফিয়ান বলেন, নগর বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভেদ নেই। সাম্প্রতিক অনুষ্ঠানগুলোতে নেতাকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতিই প্রমাণ করে অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে চট্টগ্রাম বিএনপি এখন অনেক শক্তিশালী। তবে দ্রুততম সময়ের মধ্যে নগর ছাত্রদল ও যুবদলের কমিটি গঠন করা দরকার বলে তিনি মনে করেন।

কেএএস/এসবি

print
 
.

আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad