মানবতাবিরোধীদের বিচার নিয়ে নতুন গুঞ্জন

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৭ | ৯ কার্তিক ১৪২৪

মানবতাবিরোধীদের বিচার নিয়ে নতুন গুঞ্জন

বাহাউদ্দিন ইমরান ৩:৪০ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০১৭

print
মানবতাবিরোধীদের বিচার নিয়ে নতুন গুঞ্জন

দীর্ঘ দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে থমকে আছে মানবতাবিরোধীদের বিচার। এ সুযোগে কিছু কুচক্রী মহল এই বিচার বানচাল করতে নানা গুঞ্জন ছড়াচ্ছে। সাক্ষীদের নিরুৎসাহিত করার চেষ্টা করছে। নানামুখী গুঞ্জনে অনেক সাক্ষী ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছে।

তবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল থেকে সাক্ষীদের এ সব গুঞ্জনে কান না দেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

চলতি বছর ১৩ জুলাই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি আনোয়ারুল হকের মৃত্যু হয়। এর পর ট্রাইব্যুনালের বিচার ব্যবস্থা একেবারেই থেমে যায়! এতে ট্রাইব্যুনালের ১৪১ জন আসামির বিরুদ্ধে চলমান ৩৩ টি মামলার বিচার কার্যক্রম ধমকে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে রায়ের জন্য অপেক্ষমান রয়েছে একটি।

মারা যাওয়ার আগে চেয়ারম্যান বিচারপতি আনোয়ারুল হক দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্সারে ভোগেন। প্রায় দেড় বছর ধরে চিকিৎসার প্রয়োজনে তাকে দেশে কিংবা বিদেশে অবস্থান করতে হয়েছে। এর ফলে অনেক মামলার অভিযোগ গঠন থেকে শুরু করে সাক্ষিদের সাক্ষ্যগ্রহণে বেশ সময়ক্ষেপণের ঘটনা ঘটে।

তবে বিচার কার্যক্রম না চললেও ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলাম ও বিচারপতি মোহাম্মদ সোহরাওয়ার্দী নিয়মিত ট্রাইব্যুনালে আসছেন। চেয়ারম্যান বিচারপতির পদ শূন্য থাকায় তারা ট্রাইব্যুনালের এজলাস কক্ষে উপস্থিত না থেকে নিজ নিজ চেম্বারে বসে মামলার তারিখ পুনরায় নির্ধারণ দিচ্ছেন।

উল্লেখ্য যে, চেয়ারম্যান বিচারপতির পদ শূন্য থাকলে সদস্য বিচারপতিরা এজলাসে বসে মামলার বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবেন না।

এদিকে দীর্ঘদিন ধরে মানবতাবিরোধীদের বিচার বন্ধ থাকায় বেশ কিছু গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। মামলার সাক্ষীদের বোঝানো হচ্ছে ‘মানবতাবিরোধীদেরবিচার আর হবে না’। ‘মানবতাবিরোধীদের মামলার বিচার ট্রাইব্যুনালে না হয়ে তা স্থানীয় আদালতে বিচারের জন্য পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে’।

এ ধরনের গুঞ্জনের কারণে সাক্ষীরাও নিরাপত্তার কথা ভেবে সাক্ষ্য দিতে নিরুৎসাহ দেখাচ্ছেন বলে জানিয়েছে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন ও তদন্ত সংস্থা।

বিচারাধীন বেশ কিছু মামলার সাক্ষীরা জানিয়েছেন, মামলাগুলো যদি স্থানীয় আদালতে চলে যায় তাহলে সাক্ষ্য দেওয়া তাদের জন্য দুঃসাধ্য হয়ে দাঁড়াবে। কেননা এলাকার প্রভাবশালী অপরাধীদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিলে তারা আর সেখানে বসবাস করতে পারবেন না। আবার যদি বিচার একেবারে বন্ধও হয়ে যায় তাহলেও অপরাধীরা তাদের স্বাভাবিক জীবনযাপনকে বাধাগ্রস্ত করতে চাইবে।

মানবতাবিরোধীদের বিচার নিয়ে এমন গুঞ্জনের বিষয়ে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, ‘ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধীদের বিচার সম্পন্ন করা নিয়ে সাক্ষীদের মাঝে বিভিন্ন গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। সাক্ষীদের সাক্ষ্য না দিতে বিভিন্ন ধরনের বানোয়াট কথা প্রচার করা হচ্ছে। প্রায়ই সাক্ষীরা ফোন করে এসব গুঞ্জন নিয়ে তাদের ভীতির কথা আমাদের জানাচ্ছেন। আমরা তাদেরকে এসব গুঞ্জনে কান না দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি’।

প্রসঙ্গত, আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন, ১৯৭৩ এর ৬ ধারার ৩ উপধারায় মানবতাবিরোধীদের বিচারের জন্য জন্য গঠিত ট্রাইব্যুনালের অবস্থান অবশ্যই ঢাকাতেই হতে হবে। সুতরাং অন্য কোনো আদালতে এই বিচার সম্ভব নয়।

এছাড়া এই আইন অনুসারে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি নিয়োগের বিষয়টিও প্রক্রিয়াধীন। তার নিয়োগ সম্পন্ন হলে ট্রাইব্যুনাল পূর্বের ন্যায় নতুন গতিতে এগিয়ে যেতে পারবে বলে মনে করেন ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন টিম।

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি নিয়োগ প্রক্রিয়াধীন। খুব শিগগির চেয়ারম্যান বিচারপতি নিয়োগ দেয়া হবে।

প্রসঙ্গত, ২০১০ সালের ২৫ মার্চ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়। ট্রাইব্যুনালে ২৮ মামলায় ৫৫ জন আসামির বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করা হয়েছে।

বাআই/এসবি

print
 

আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad