দুই তৃতীয়াংশেরও বেশি রোহিঙ্গা সাহায্য সংস্থার ত্রাণ বঞ্চিত

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৭ | ৯ কার্তিক ১৪২৪

দুই তৃতীয়াংশেরও বেশি রোহিঙ্গা সাহায্য সংস্থার ত্রাণ বঞ্চিত

সালেহ নোমান, কক্সাজার থেকে ৩:২৭ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২১, ২০১৭

print
দুই তৃতীয়াংশেরও বেশি রোহিঙ্গা সাহায্য সংস্থার ত্রাণ বঞ্চিত

সদ্য আসা রোহিঙ্গাদের মধ্যে মাত্র এক তৃতীয়াংশেরও কম আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থাগুলোর খাদ্য আওতায় এসেছে। এছাড়া অন্যান্য সহায়তার আওতায় এসেছে আরো কম সংখ্যক রোহিঙ্গা। কোনো ধরনের ত্রাণের আওতায় বাইরে রয়ে গেছে দুই তৃতীয়াংশ রোহিঙ্গা।

বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গাদের মধ্যে ত্রাণের জন্য হাহাকার চলছে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর ত্রাণ খুব কম সংখ্যক রোহিঙ্গার হাতে পৌঁছেছে।

ত্রাণের আশায় টেকনাফ উখিয়ার রাস্তায় রাস্তায় অবস্থান করছে ভুভুক্ষ রোহিঙ্গারা। স্থানীয়ভাবে দেয়া ত্রাণ এবং প্রশাসনের সহায়তায়ই এখনো বেশিরভাগ রোহিঙ্গার ভরসা।

সরকারি হিসেবে মতে গতকাল বুধবার পর্যন্ত সীমান্ত পেরিয়ে ৪ লাখ ২৪ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসেছে। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থাগুলোর ত্রাণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে ৩ লাখ রোহিঙ্গা।

বিশ্ব খাদ্য সংস্থা ডব্লিউএফপি জানিয়েছে এখন পর্যন্ত তারা এক লাখ ২০ হাজার রোহিঙ্গাকে জরুরি খাদ্য সহায়তা দিয়েছে।

অন্যদিকে জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে তারা এক ২০ বিশ হাজার রোহিঙ্গাদের মধ্যে গৃহস্থলি সামগ্রী বিতরণ করবে।

জাতিসংঘের পাঁচটি সংস্থার সমন্বয়ে গঠিত আন্ত:সংস্থা ক্রাইসিস গ্রুপের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এখন পর্যন্ত তারা প্রায় ছয় হাজার রোহিঙ্গা পরিবারে মধ্যে জরুরি আশ্রয় সরঞ্জাম দিতে পেরেছে।

সরকারি হিসেবে মতে গতকাল সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে ৪ লাখ ২৪ হাজার রোহিঙ্গা এসেছে।

ডাব্লিউএফপির ঢাকা অফিসের মিডিয়া কর্মকর্তা মাহরিন আহমদ প্রেরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে তারা এখন এক লাখ ২৬ হাজার রোহিঙ্গাকে পরিবার প্রতি মাসে ৫০ কেজি করে চাল দেয়া শুরু করেছে।

সংস্থাটি এখন সংশ্লিষ্ট রোহিঙ্গা পরিবারকে প্রতি ১৫ দিনের জন্য ২৫ কেজি করে চাল দিচ্ছে।

মাহরিন আহমদ জানান, ডাব্লিউএফপি চাল ছাড়াও এক লাখ ৯৭ হাজার রোহিঙ্গাকে তাৎক্ষণিক সহায়তা হিসেবে উচ্চ শক্তি সম্পন্ন বিস্কট দিয়েছে, এছাড়াও ২ লাখ ১৩ হাজারকে খিচুড়ী খাওয়ানো হয়েছে।

বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গাদের সংখ্যা পাঁচ লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে যাদেরকে ছয় মাসের খাওয়ার সরবরাহ করতে কমপক্ষে ২০ মিলিয়ন ডলার প্রয়োজন, উল্লেখ করেন তিনি।

এদিকে জরুরি গৃহস্থলি সামগ্রী হিসেবে এক লাখ ২০ হাজার রোহিঙ্গাকে ত্রাণ সহায়তা দিবে ইউএনএইচসিআর।

সংস্থাটির ঢাকা অফিসের মুখপাত্র জোসেফ ত্রিপুরা জানিয়েছেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও জেনেভা থেকে বিমান যোগে এসব পণ্য সামগ্রী আসা শুরু হয়েছে, ইতোমধ্যে পাঁচ হাজারের বেশি পরিবারের কাছে জরুরি আশ্রয় সামগ্রী পৌঁছানো হয়েছে।

৩৮ হাজার জনের জন্য গৃহস্থলি সামগ্রী নিয়ে দুইট কার্গো বিমান বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম এসে পৌঁছেছে, কক্সবাজার পৌঁছা মাত্র তা রোহিঙ্গাদের মধ্যে বণ্টন করা হবে, উল্লেখ করেন তিনি।

জোসেফ ত্রিপুরা আরো বলেন, সদ্য আসা রোহিঙ্গাদের মধ্যে ত্রাণ কার্যক্রম চালানোর জন্য শুধুমাত্র ইউএনএইচসিআর’র প্রয়োজন ৩০ মিলিয়ন ডলার, এই বিষয়টি সদর দপ্তরে জানানো হয়েছে।

সরকারিভাবে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন আটটি স্থানে লঙ্গর খানা খুলে রোহিঙ্গাদের জন্য দৈনিক একবেলা করে খাবার সরবরাহ করে যাচ্ছে। এছাড়াও রেডক্রিসেন্ট এবং অন্যান্য স্থানীয় সংস্থা মিলে দৈনিক ৬৪ মিলিয়ন লিটার বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করছে।

গত ২৫ আগস্ট থেকে বুধবার পর্যন্ত চার লাখ ২২ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।

এসবি

print
 

আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad