আশ্রয়-ত্রাণের আশায় ক্যাম্পে ছুটছেন রোহিঙ্গারা

ঢাকা, শুক্রবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৭ | ১ পৌষ ১৪২৪

আশ্রয়-ত্রাণের আশায় ক্যাম্পে ছুটছেন রোহিঙ্গারা

সালেহ নোমান, টেকনাফ থেকে ১০:০৬ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৭

print
আশ্রয়-ত্রাণের আশায় ক্যাম্পে ছুটছেন রোহিঙ্গারা

আশ্রয়ের আশায় ক্যাম্প থেকে ক্যাম্পে ছুটছেন প্রাণ ভয়ে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা। কারণ ক্যাম্পে আশ্রয় নিতে পারলেই মিলবে সাহায্য সংস্থার ত্রাণ। পুরানো সবগুলো ক্যাম্পে আর তিল ধরনের ঠাঁই নেই।

.

আবার ক্যাম্পে প্রবেশ করতে না পারলে রাস্তায় হয়রানির পাশাপাশি দুর্বৃত্তদের কবলে পড়ার ভয় আছে। পাশাপাশি সরকারি ও দাতা সংস্থার সংস্থার ত্রাণ থেকেও বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি ডাব্লিউএফপি আগামীকাল সোমবার পাঁচটি ক্যাম্পে ২৫ আগস্টের পর যেসব রোহিঙ্গারা এসেছে তাদের খাদ্য সহায়তা দেয়া শুরু করবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটির ঢাকা অফিসের একজন কর্মকর্তা।

জাতিসংঘরে শরণার্থী বিষয়ক হাই কমিশন ইউএনএইচসিআরের তথ্য মতে রোববার পর্যন্ত বাংলাদেশে আসা শরণার্থীর সংখ্যা দুই লাখ ৯০ হাজারে পৌঁছেছে। এদের মধ্যে শুরুর দিকে আসা রোহিঙ্গারা এসে উঠেছে দুটি নিবন্ধিত শরণার্থী শিবির ও তিনটি অস্থায়ী শিবিরে। এই তিনটি শিবিরে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গার সংখ্যা প্রায় দেড় লাখের মত।

এই কয়দিনে যেসব রোহিঙ্গা এসেছে তারা বলছেন, কোনো ক্যাম্পে আর জায়গা নেই।

রাখাইনের মংডুর মেরুল্যা থেকে দশ সদস্যের পরিবার নিয়ে আসা মৌলভী হাশেম উল্যা রোববার বলেন, নৌকাযোগে শামলাপুর দিয়ে বাংলাদেশে উঠেছি। প্রথমে টেকনাফের লেদা অনিবন্ধিত ক্যাম্পে নিকট আত্মীয়ের ঘরে উঠেছিলাম, কিন্তু সেখানে আরো দুই পরিবার আগে থেকে এসে উঠেছে।

তিনি বলেন, রাতে লেদা ক্যাম্পের মসজিদে ছিলাম, সেখান থেকে হোয়াইক্যাং ইউনিয়নের উনচিপ্রাং পাহাড়ের ভেতরে সদ্য গড়ে উঠা ক্যাম্পে আশ্রয় নেওয়ার জন্য এসেছিলাম; কিন্তু এখানেও অনেক পরিবার এসে উঠেছে। এখন অন্য কোথাও গিয়ে দেখতে হবে।

হোয়াইক্যাং ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে একটি বেসরকারি সংস্থার ত্রাণ নিতে আসা রোহিঙ্গা এনাম উল্যা বলেন, আমরা রিলিফ খাওয়ার জন্য এখানে আসিনি। সকাল থেকে অনেকক্ষণ বসিয়ে রেখেছে।

‘একবার এই ক্যাম্পে আবার ওই ক্যাম্পে পাঠানো হচ্ছে, কোথাও গেলে বসতে পারিনা, উল্লেখ করেন তিনি।

টেকনাফ উপজেলো নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম বলেন, রাস্তায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা রোহিঙ্গাদের বিভিন্ন ক্যাম্পে পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে। তারা সেসব ক্যাম্পে আপাতত অস্থায়ীভাবে থাকবে, পরে নিবন্ধন সম্পন্ন করে তাদেরকে বালুখালিতে নতুন ক্যাম্পে পাঠিয়ে দেয়া হবে।

এদিকে ক্যাম্পে অবস্থান নেয়া এক লাখ ৪৩ হাজার রোহিঙ্গাকে আগামীকাল সোমবার থেকে খাদ্য বিতরণ শুরু করবে বিশ্ব খাদ্য সংস্থা।

সংস্থার ঢাকা অফিসের যোগাযোগ কর্মকর্তা মাহরিন আহমদ পরিবর্তন ডটকমকে জানান, ক্যাম্পের ভেতরে থাকা সদ্য আসা রোহিঙ্গাদেরকে আগামী ১৬ আগস্ট পর্যন্ত ত্রাণ দেয়া হবে।

পরবর্তীতে আবার নতুন আসা রোহিঙ্গাদের একই ধরনের সহায়তা দেয়া হবে। তারা ত্রাণ পাবে আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত, উল্লেখ করেন তিনি।

মেহরিন আহমদ বলেন, ক্যাম্পের বাইরে থাকা রোহিঙ্গাদের খাদ্য সহায়তা দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা আপাতত নেই।

উখিয়ার বালুখালিতে সরকারি পর্যায়ে স্থাপিত অস্থায়ী শরণার্থী শিবিরের নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। সেখানে প্রথম পর্যায়ে ২০০ শেড নির্মাণ করা হবে যেখানে প্রতি শেডে দশটি পরিবার বসবাস করতে পারবে।

এর পাশাপাশি আগামীকাল সোমবার থেকে রোহিঙ্গাদের বায়োমেট্রিক নিবন্ধন শুরু হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসন।

এসএন/এসবি

print
 

আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad