চুক্তির আড়াই বছরে বিতরণ ৩ শতাংশ স্মার্টকার্ড!

ঢাকা, শুক্রবার, ২১ জুলাই ২০১৭ | ৬ শ্রাবণ ১৪২৪

চুক্তির আড়াই বছরে বিতরণ ৩ শতাংশ স্মার্টকার্ড!

মো. হুমায়ূন কবীর ১০:২০ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৪, ২০১৭

print
চুক্তির আড়াই বছরে বিতরণ ৩ শতাংশ স্মার্টকার্ড!

লেমিনেটেড জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) পরিবর্তে বর্তমানে নাগরিকের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে আধুনিক বিভিন্ন সুবিধা সমৃদ্ধ উন্নতমানের জাতীয় পরিচয়পত্র (স্মার্টকার্ড)। ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে প্রকল্পটি শুরু হয়। চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পটির মাধ্যমে ৯ কোটি নাগরিকের হাতে স্মার্টকার্ড তুলে দেওয়ার কথা। কিন্তু দেখা গেছে প্রকল্প শুরু হওয়ার আড়াই বছরে নাগরিকদের হাতে চুক্তির মাত্র ২ দশমিক ৮২ শতাংশ (প্রায় ৩ শতাংশ) স্মার্টকার্ড তুলে দিতে পেরেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

চুক্তি রক্ষা করতে হলে আর সাড়ে ৫ মাসের মধ্যে আরো ৯৭ শতাংশ কার্ড বিতরণ করতে হবে। আর এতো অল্প সময়ের মধ্যে বাকি স্মার্ডকার্ড বিতরণ করা অসম্ভব বলে মনে করছেন ইসি কর্মকর্তারা।

ইসি সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে ঢাকা সিটি করপোরেশন (উত্তর ও দক্ষিণ) এর জন্য প্রিন্ট করা হয়েছে ৩৯ লাখ ৬৬ হাজার ১২৪টি স্মার্টকার্ড। ২০১৬ সালের ৩ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজধানীতে স্মার্টকার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। সেই থেকে চলতি বছরের ১১ জুলাই পর্যন্ত ঢাকায় ২১ লাখ ৮৭ হাজার ৪২৫ জন নাগরিক তাদের স্মার্টকার্ড নিয়েছেন।

চলতি বছরের ১৩ মার্চ চট্টগ্রাম মহানগরীতে এ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা। চট্টগ্রামের জন্য প্রিন্ট করা হয়েছে ১৫ লাখ ৬৩ হাজার ২৫০টি স্মার্টকার্ড। এর মধ্যে ৬ জুলাই পর্যন্ত বিতরণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫১ হাজার ৩৫৫টি কার্ড।

রাজশাহীতে চলতি বছরের ২ এপ্রিল স্মার্টকার্ড বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়। রাজশাহীর জন্য প্রিন্ট করা হয়েছে ১ লাখ ১৩ হাজার ৩১৫টি স্মার্টকার্ড। ৫ জুলাই পর্যন্ত সেখানে বিতরণ করা হয়েছে ৮৯ হাজার ৩০৭টি কার্ড। চলতি বছরের ১১ জুন বরিশাল সিটিতে স্মার্টকার্ড বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়। সেখানে ২ লাখ ১৪ হাজার নাগরিকের হাতে স্মার্টকার্ড তুলে দেওয়া হবে। ৯ জুলাই পর্যন্ত এই সিটিতে স্মার্টকার্ড বিতরণ করা হয়েছে ১২ হাজার ৯১৭টি। এছাড়া কুড়িগ্রামে ছিটমহলের ৯২ হাজার ৬৮২ জন নাগরিকের হাতে স্মার্টকার্ড তুলে দেওয়া হয়েছে।

এক হিসেবে দেখা গেছে, এ পর্যন্ত মোট ২৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮৬ জন নাগরিকের হাতে স্মার্টকার্ড পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের চুক্তি অনুযায়ী চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ৯ কোটি নাগরিকের হাতে স্মার্টকার্ড তুলে দেওয়ার কথা রয়েছে। সেই চুক্তি অনুযায়ী এখন পর্যন্ত স্মার্টকার্ড অবিতরণ রয়েছে ৮ কোটি ৭৪ লাখ ৬৬ হাজার ৩১৪টি। শতকরা হিসেব করলে মাত্র ২ দশমিক ৮২ শতাংশ স্মার্টকার্ড বিতরণ করা হয়েছে।

এছাড়া খুলনা সিটি করপোরেশনে ১৮ জুলাই এবং আগামী ৬ আগস্ট থেকে রংপুর সিটিতে স্মার্টকার্ড বিতরণ করার পরিকল্পনা রয়েছে ইসির।

স্মার্টকার্ড এতো কম সংখ্যক বিতরণের কারণ হিসেবে ইসি কর্মকর্তারা বলেন, ফ্রান্সের কোম্পানি ব্লাঙ্ককার্ড সময় মতো দেয়নি। সর্বশেষ গত জুন মাসের মধ্যে ৯ কোটি ব্লাঙ্ক কার্ড দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেখানে এখন পর্যন্ত ৬ কোটি স্মার্টকার্ড হাতে এসে পৌঁছেছে। এছাড়া চোখের আইরিশের প্রতিচ্ছবি ও ১০ আঙুলের ছাপ নেওয়ার মেশিনের সংখ্যা কম হওয়ায় কার্ড প্রিন্ট হওয়া সত্ত্বেও বিতরণ করা যাচ্ছে না।

ইসি সূত্র জানায়, ১০টি মেশিন দিয়ে প্রথমে কার্ড প্রিন্ট হতো এক শিফটে। বর্তমান মহাপরিচালক যোগ দেওয়ার পর সেটি দুই শিফটে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া যেহেতু ফ্রান্সের কোম্পানি সময়মতো কার্ড দিতে পারেনি, তাই তারা নিজ খরচে আরো ৮টি মেশিন দেবে। এরই মধ্যে অবশ্য ২টি মেশিন ইসির কাছে পৌঁছে গেছে। বাকি ৬টি তাড়াতাড়ি পৌঁছে যাবে। এরপর ১৮টি মেশিন দিয়ে তিন শিফটে প্রিন্টে গেলে খুব দ্রুত সবার হাতে স্মার্টকার্ড তুলে দেওয়া সম্ভব হবে।  

এ বিষয়ে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সাইদুল ইসলাম পরিবর্তন ডটকমকে জানান, ফ্রান্সের অবার্থু কোম্পানি, যাদের সাথে আমরা চুক্তিবদ্ধ ছিলাম, তারা সময়মতো আমাদেরকে কার্ড দিতে পারেনি। তাদের সঙ্গে আমাদের সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রয়েছে। আমরা দিনরাত কাজ করে যাচ্ছি যাতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব নাগরিকের হাতে স্মার্টকার্ড তুলে দিতে পারি। পরে এ বিষয়ে আপনাদেরকে বিস্তারিত জানানো হবে।’

ইসি সূত্র জানায়, বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় দেশের সকল নাগরিকের হাতে স্মার্টকার্ড তুলে দেওয়ার জন্য ২০১১ সালে ‘আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম ফর এনহ্যান্সিং এক্সেস টু সার্ভিস’ (আইডিইএ) প্রকল্প হাতে নেয় সাংবিধানিক এ প্রতিষ্ঠানটি। ২০১৫ সালের ১৪ জানুয়ারি ১৮ মাসের মধ্যে ৯০ মিলিয়ন (৯ কোটি) স্মার্টকার্ড তৈরি করে দেওয়ার জন্য ফ্রান্সের ‘অবার্থু টেকনোলজিস’ নামের একটি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করে ইসি। চুক্তি অনুযায়ী ২০১৬ সালের জুনের মধ্যে নাগরিকের হাতে স্মার্টকার্ড দেওয়ার কথা ছিল ইসির। কিন্তু সময় মতো না দিতে পারার আশঙ্কায় ইসি মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ব্যয় না বাড়ানোর শর্তে এ প্রকল্পের  মেয়াদ আরো ১৮ মাস বাড়িয়ে ২০১৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় নেয়।

ইসির তথ্য অনুযায়ী, দেশে ১০ কোটি ১৮ লাখের মতো ভোটার রয়েছে। প্রথম থেকে এনআইডি সংশোধন বা হারানো সেবা বিনামূল্যে দেওয়া হলেও ২০১৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে ফি নেওয়া শুরু করে কমিশন।

এইচকে/এসবি/এমডি

print
 

আলোচিত সংবাদ