আম পাড়া থেকে বিক্রি সবই করতে হয় তাদের

ঢাকা, সোমবার, ২৬ জুন ২০১৭ | ১২ আষাঢ় ১৪২৪

আম পাড়া থেকে বিক্রি সবই করতে হয় তাদের

আবদুর রব নাহিদ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ২:৪১ পূর্বাহ্ণ, জুন ২০, ২০১৭

print
আম পাড়া থেকে বিক্রি সবই করতে হয় তাদের

আমের রাজধানী চাঁপাইনবাবগঞ্জ, আর আম কেনাবেচার সব চেয়ে বড় বাজার এ জেলার কানসাটে। বিদ্যুৎ আন্দোলনের জন্য পরিচিতি পাওয়া সীমান্তবর্তী শিবগঞ্জ উপজেলার কানসাট ইউনিয়নের আরো এক বড় পরিচয এখানেই দেশের কিংবা অনেকাংশেই বিশ্বের বৃহৎ আমের বাজার। আমাদের চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি আব্দুর রব নাহিদ সরজমিন ঘুরে কানসাট বাজারের এবারের চিত্র তুলে এনেছেন, আজ থাকছে ২য় পর্ব।

আমের ভরা মৌসুম, আমের জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জে বাগানে বাগানে আম নিয়ে কর্মব্যস্ততা। চাঁপাইনবাবগঞ্জের সবচেয়ে বেশি আম বাগান আছে শিবগঞ্জ উপজেলায়। রয়েছে আম কেনাবেচার সবচেয়ে বড় বাজার কানসাট আম বাজার। শুক্রবার খুব সকালে কানসাটের সেই আম বাজারের উদ্দেশেই যাত্রা করেছিলাম। চাঁপাইনবাবগঞ্জ - সোনামসজিদ মহাসড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় শিবগঞ্জ উপজেলায় প্রবেশ করতেই চোখে পড়ল রাস্তা দিয়ে সাইকেলে করে বড়বড় ঝুড়িতে আম পরিবহনের দৃশ্য। কানসাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সামনের সড়কে কথা হয় সাইকেলে ঠেলে আম নিয়ে যাওয়া দূলভপুর ইউনিয়নের ঘুঘুডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা শরিফ আলীর সাথে।

জানালেন, সাইকেলে করে আম পরিবহনের এই চল কানসাট এলাকায় দীর্ঘদিন থেকেই। এজন্য একজন সাইকেল চালক আম শ্রমিককে এ কাজ করার জন্য তার সাইকেলকে বিশেষ ভাবে প্রস্তুত করতে হয়। সাধারণ সাইকেলের চেনের ওপরে একটি কাঠের পাটাতন বসাতে হয়, ওই পাটাতনের উপর ২টি বড় ঝুড়ি বাঁধা থাকে বিশেষ ভাবে। এ বড় দুটি ঝুড়ি সাইকেল চালককে নিজেই কিনতে হয়। এই হলো একজন সাইকেল চালকের নিজের খরচ।

শরিফ আলীর জানান, সাধারণত কোন বাগান মালিকের সাথে চুক্তি হওয়ায় পর আমরা ( সাইকেল চালক আম শ্রমিক) আগের দিন বিকাল থেকে সন্ধ্যার মধ্যে আম পাড়ি। সাধারনত সাইকেলে ৪-৫ মন আম দুই ঝুড়িতে পরিবহন করা যায়। সেই অনুয়ায়ী আম পাড়ার পর ঝুড়িতে রেখে দেয়া হয়। পরদিন ভোর রাতে সেই আম কানসাট বাজারে নিয়ে আসার জন্য রওনা দেয়। এরপর পায়ে হেঁটে কানসাট বাজারে নিয়ে যায়, আম বিক্রি করতে পারলেই আমাদের ছুটি মেলে বলে জানান সাইকেল চালক আম শ্রমিক শরিফ আলী।

আম পাড়া, পরিবহন ও বিক্রি সবই করতে হয় সাইকেল চালক আম শ্রমিকদের, বিক্রির পর নির্ধারিত আমের আড়ৎয়ে তা পৌচ্ছেও দিতে হয় তাদের। সব কাজ শেষে একজন সাইকেল চালক আম শ্রমিক পান ৫০০ টাকা। সেই সাথে বাগান মালিক দুপুরের খাওয়া খরচ বাবদ আরো ২০০ টাকা দেন। গাছ থেকে পাড়ার পর বিক্রি পর্যন্ত সব কাজ একসাথে একজনের মাধ্যমে হওয়ায় বাগান মালিকরাও সাইকেলে আম পরিবহন করে আসছে।

কানসাট বাজারে সাইকেলে করে আম বিক্রি করতে আসা ইসমাইল হোসেনের সাথে কথা হয় শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে। তিনি জানালেন, কানসাটের পাশ্ববর্তী ভোলাহাট উপজেলার বড়গাছি থেকে এসেছেন, সকাল ৬টার দিকে কানসাট বাজারে পৌঁছেছেন। তিনি জানান, ভোর রাত ৪টার দিকে আম নিয়ে রওনা হয়েছিলেন। এমনি সময় কৃষি কাজ করলেও কানসাটে আম বাজার শুরু হলে গত চার বছর থেকে প্রতিবছরই এ বাজারে আম সাইকেলে করে পরিবহনের কাজ করেন। ২৫ বছর বয়সী এ যুবক জানালেন, তিন মাস মত এ কাজ থাকে, এতে মৌসুমে তার ৩০-৪০ হাজার টাকা আয় হয়।

ইসমাইল হোসেনের কাছে জানতে চেয়েছিলাম, তার মত এ কাজ করে কতজন। প্রশ্ন শুনে তিনি জানালেন, অন্তত ৫’শর বেশি হবে। পাশে থাকা রাকিব নামে শ্যামপুরের এক ব্যাপারী বলেন হাজার খানেক হবে। তবে সংখ্যায় যাই হোক কানসাট আম বাজারের একটি অংশ হয়ে আছে সাইকেলে আম পরিবহন।

এআরএন/এএস

print
 

আলোচিত সংবাদ