প্রধানমন্ত্রীর উপহারের টাকা তুলে রাখবেন টিপু, প্রত্যাশা একটা চাকরির

ঢাকা, শুক্রবার, ২৮ জুলাই ২০১৭ | ১৩ শ্রাবণ ১৪২৪

প্রধানমন্ত্রীর উপহারের টাকা তুলে রাখবেন টিপু, প্রত্যাশা একটা চাকরির

আতিক রহমান পূর্ণিয়া ৮:৪৫ অপরাহ্ণ, মে ১৯, ২০১৭

print
প্রধানমন্ত্রীর উপহারের টাকা তুলে রাখবেন টিপু, প্রত্যাশা একটা চাকরির

নেত্রকোনা সদরের দক্ষিণ বিশিউরা গ্রামের যুবক টিপু সুলতান এখন সারাদেশে একরকম ‘হিরো’। বৃহস্পতিবার নেত্রকোনার খালিয়াজুড়ি উপজেলায় বন্যাদুর্গত হাওরবাসীকে দেখতে যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় তিনি কয়েক মিনিটের জন্য রিকশায় চাপেন। আর প্রধানমন্ত্রীকে রিকশায় চাপিয়ে ঘুরে দেখান টিপু সুলতান। প্রধানমন্ত্রী তাকে তিন হাজার টাকা উপহারও দেন।

১০ ভাই-বোন আর বৃদ্ধ বাবা-মা নিয়ে অভাবের সংসার টিপু সুলতানদের। টিপু এখন একটি চাকরির আশায় দিন গুনছেন। তার এই আশার কথা সংবাদ মাধ্যম ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বলেছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর কানে যেনো তার প্রত্যাশার কথা তারা পৌঁছে দেন।

শুক্রবার দুপুরে টেলিফোনে এই প্রতিবেদকের কথা হয় টিপু সুলতান ও তার পরিবারের সাথে। কথা বলে জানা যায়, অভাবের সংসারের রাশ টানতে দু’বছর আগে টিপু রাজধানী ঢাকায় গার্মেন্টসে চাকরি নেন। কিন্তু ব্যয়বহুল ঢাকায় ঠিকমতো চলতে না পেরে বাড়িতে ফিরে যান টিপু। শুরু করেন জেলা সদরে রিকশা চালানো।

বৃহস্পতিবার বন্যাদুর্গত হাওরবাসীদের দুঃখ-দুর্দশা দেখতে যান প্রধানমন্ত্রী। ওইদিন তার রিকশায় চাপেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীকে রিকশায় নিয়ে ঘুরে বেড়ানোর অভিজ্ঞতা এবং তার নিজের প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন টিপু সুলতান।

টিপুর ভাষ্যমতে, ‘সোমবার রাতে প্রথম ফোন দিছিল ডিসি অফিস থ্যাইকা নেত্রকোনার খোকন সাইকেল স্টোরে। সেখানে ফোন দিয়া তিনজন রিকশাওয়ালা চায়। খোকন সাইকেল স্টোর থেকে আমারে ফোন দেয়। এরপর নিয়ে যায় খালিয়াজুড়ি।’

টিপু বলেন, ‘এটাতো আর কল্পনা করতে পারছি না। মোট তিনটা রিকশা ছিলো। তখনও কিছু জানতাম না। বুঝতেও পারি নাই। প্রথমে অন্য একজনকে বললো যে ওর রিকশায় উঠবে প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু সৌভাগ্য যে উনি আমার গাড়িতে এসে উঠেছেন।’ 

প্রধানমন্ত্রীর সাথে কি কথা হয়েছে জানতে চাইলে টিপু বলেন, ‘উনি আমার নাম জিজ্ঞেস করছেন। আর কিছু না।’

এখন কেমন আছেন জানতে চাইলে টিপু বলেন, ‘এরপরতো অনেক লোকে ফোন করে, দেখতে আসে। সাংবাদিকরা ফোন করে, সৌভাগ্য আমার। আমার খুব ভাল লাগতেছে।’

টিপু বলেন, ‘অনেক কষ্ট করছি। এখন একটা চাকরি চাই। যদি প্রধানমন্ত্রী একটা চাকরি দেন তাইলে অনেক উপকার হয়। সংসারে বাবা-মা ৬ ভাই, চার বোন। গরীব মানুষ, কষ্টে দিন যাচ্ছে।’

টিপুর মোবাইল ফোনে তার বাবা মকবুল হোসেন মৃদু হেসে বলেন, কল্পনাও করি নাই। ওর মাতো ওরে ৩ মাসের রেখে মারা গেছে। দ্বিতীয় সংসার নিলাম। দ্বিতীয় মা নিলেও সৎ মা বইলাও প্রমাণ নাই। তার (সৎ মা) আর আমার দ্বারাই বড় হইছে। অভাবের সংসার। গেছে গার্মেন্টসে, এরপর নেত্রকোনা রিকশা চালায়। একটা চাকরি হইলে বাঁইচা যাই।

টিপু সুলতানের মা (সৎ মা) রাবিয়া খাতুন বলেন, এর মা তিন মাসের রাইখা মারা গেলেও অনেক কষ্ট কইরা বড় করছি। অভাবে লেখাপড়া করাইতে পারি নাই। অহন আপনেরা সবাই মিলা একটা চাকরি দেন ওরে- আর কিছু চাই না।

বাবা-মায়ের সাথে কথা বলার ফাঁকে টিপু আরও জানান, প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া তিন হাজার টাকা তিনি খরচ করবেন না। এই টাকা দিয়ে কিছু একটা কিনে নিজের কাছে রেখে দেবেন যা সারা জীবন স্মৃতি হয়ে থাকবে।

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ২৮ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গোপালগঞ্জের টুঙ্গীপাড়ায় যান রাষ্ট্রীয় সফরে। ওইদিন বঙ্গবন্ধুর সমাধি কমপ্লেক্স এলাকার ১ নম্বর গেট থেকে প্রধানমন্ত্রী ভ্যানে চেপে গ্রামে বের হন।

প্রধানমন্ত্রী ও তার পরিবারের সদস্যদের ভ্যানে চেপে টুঙ্গীপাড়ায় ঘুরানো সেই ভ্যানচালক ইমাম শেখের ভাগ্যের দুয়ার খুলে গেছে। তার চাকরি হয়েছে বিমানবাহিনীতে। যশোর বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান বিমান ঘাঁটির ফ্যালকন বেকারিতে সরবরাহকারী হিসেবে যোগ দিয়েছেন তিনি।

ইমাম শেখের মতো একটি চাকরি আশায় বুক বেধে আছে রিকশাচালক টিপু সুলতানও।

(প্রতিবেদন তৈরিতে সহযোগিতা করেছেন নেত্রকোনা প্রতিনিধি দেবল চন্দ্র সাহা)

এআরপি/এসবি/এমডি

print
 

আলোচিত সংবাদ