এইচওয়ানবি ভিসা কঠোরতায় আমেরিকান ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৭ এপ্রিল ২০১৭ | ১৪ বৈশাখ ১৪২৪

এইচওয়ানবি ভিসা কঠোরতায় আমেরিকান ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ

সাহেদ আলম, নিউইয়র্ক ১২:৫৯ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২১, ২০১৭

print
এইচওয়ানবি ভিসা কঠোরতায় আমেরিকান ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ

ট্রাম্পের অভিবাসন-বিরোধী নীতির প্রভাব পড়েছে এইচওয়ানবি ভিসা প্রত্যাশীদের ক্ষেত্রে। কমে আসছে প্রশিক্ষিত কর্মীদের ভিসা আবেদন। এর মধ্যে গত সপ্তাহে এইচওয়ানবি ভিসায় কম দেওয়ার নীতি অনুসরণ করে দেওয়া ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ নিয়ে চলছে আলোচনা সমালোচনা।

সিলিকন ভ্যালি-সহ শীর্ষ উদ্যোক্তরা বলছেন, সব দিক দিয়েই আমেরিকার ক্ষতি হবে এর ফলে। তবে অনেক বিশ্লেষক বলছেন, এর ফলে আমেরিকানদের কাজের বাজার আবার সম্প্রসারিত হবে।

মূলত নির্বাচনী প্রচারণার সময়েই বিদেশ থেকে প্রশিক্ষিত শ্রমিক নিয়োগে ব্যবহৃত ভিসা, এইচওয়ানবি-র বিরুদ্ধে বলা চলে যুদ্ধই ঘোষণা করেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে ক্ষমতা গ্রহণের পর কোম্পানিগুলোর বাস্তবতা দেখে, কিছুটা উদার নীতিতে চলে এসেছেন ট্রাম্প।

১৯৯২ সালে প্রেসিডেন্ট বুশের আমলে প্রবর্তণ করা এই এইচওয়ানবি ভিসার কল্যাণে আমেরিকার টেকনোলজি কোম্পানিগুলো যেমন লক্ষ লক্ষ প্রশিক্ষিত কর্মী এনেছে বিদেশ থেকে, তেমনি তারা লাভবানও হয়েছে। তবে বিতর্কও হয়েছে এই ভিসার অপব্যবহার নিয়ে। এইচওয়ানবি ভিসায় আগত উচ্চ প্রশিক্ষিত কর্মীদের মূলত জিম্মি হয়েই কাটাতে হয় মালিকের দ্বারা। কম পারিশ্রমিক দিলেও তারা প্রতিবাদ করতে পারেন না চাকরি হারানোর ভয়ে। একবার চাকরি হারালে এই দেশে বসবাসের সুবিধা বা গ্রিনকার্ড এর কার্যকারিতা হারানোর ভয় তো আছেই। কিন্তু এর চেয়ে বড় বিষয় হলো এই ভিসার সুবিধা নিতে শুধু প্রয়োজনীয় লোকবল নিয়োগ নয়, বরং অনেক ক্ষেত্রে এটা ম্যানপাওয়ার বা জনশক্তি আমদানির ব্যবসায় পরিণত করেছে অনেক কোম্পানি। অভিযোগের তীর ভারতীয় কোম্পানিগুলোর দিকেই বেশি। আবার অনেক ক্ষেত্রে এটির ব্যবহার করা হয়েছে অপ্রয়োজনীয় ক্ষেত্রেই। যেমন, মডেল হিসেবে গত বছরই যুক্তরাষ্ট্রে এইচওয়ানবি ভিসা পেয়েছেন প্রায় ২০০ জন বিদেশি। সবচে বড় আলোচনা ছিল বর্তমানের ফাস্ট লেডি মেলেনিয়া ট্রাম্পকে ঘিরে। তিনি এসেছিলেন এই দেশে এইচওয়ানবি ভিসা নিয়ে, মডেলিং ক্যাটাগরিতে আবেদন করে। এজন্যই ট্রাম্প বার বার বলে আসছেন, ‘আমার চেয়ে এইচওয়ানবি ভিসার দুর্বলতা আর কেউ জানেন না’।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত সপ্তাহে উইসকনসিনে একটি ফাক্টারি ঘুরে দেখার পর এইচওয়ানবি ভিসা সংস্কারে একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন যার মূল কথা হলো, গড় পর্তায় না দিয়ে সর্বাধিক দক্ষ আর প্রশিক্ষিত মানুষকেই কেবল এইচওয়ানবি ভিসা দিতে হবে। যাকে এই ভিসা দেওয়া হবে তাকে হতে হবে সব দিক দিয়ে আমেরিকায় দুর্লভ এক কর্মী। এবং যেই কোম্পারি তাকে স্পন্সর করবে তাদের প্রমাণ করতে হবে যে নিয়োগকৃত ব্যক্তির যোগ্যতার সমমানের কাউকেই পাচ্ছে না কোম্পারি। এর ব্যতয় হলে, যারা এই ভিসার অপব্যবহার করে তাদের খুঁজে বের করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শ্রম বিভাগ, বিচার বিভাগ, স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র বিভাগকে ডাকা হবে। তেমন কথাই বলা হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের  বর্তমান নির্বাহী আদেশের নির্দেশনায়।

ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রস্তাবিত এইচওয়ানবি ভিসা সংষ্কার করে যে যুক্তি দেখিয়েছেন সেটি হলো, কোম্পানিগুলোকে আগে তাদের যেসব কর্ম খালি আছে সেটার জন্য অভ্যন্তরীণ আমেরিকানদের আগে প্রাধান্য দিতে হবে। অযাথা বিদেশ থেকে শ্রমিক আনা যাবে না।

‘আমেরিকান দের গড় পড়তা চাকরির ক্ষেত্র সংকুচিত করে বিদেশ থেকে নানা অযুহাতে শ্রমিক নিয়োগ বন্ধ করতে হবে। এই নির্দেশনার অপব্যবহারকারীরা কঠোর শাস্তি পাবেন। আমাদের নীতি হলো ’হায়ার আমেরিকান ফাস্ট’। বলছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

মূলত এর পর থেকেই হাজার হাজার মানুষ যারা উচ্চ রকমের ফিস আর এজেন্ট বা দালালদেরকে পয়সা দিয়ে রেখেছেন এইচওয়ানবি ভিসা পাওয়ার জন্য, তাদের কপালে দুশ্চিন্তার রেখা ফুটে উঠেছে। সেই সাথে দুশ্চিন্ত রোধে আমেরিকান শীর্ষ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যেও, যারা স্বল্প বেতনে বিদেশি কর্মক্ষক তরুণদেরকে নিয়োগ দিতে তাদের ব্যবসায়িক কাজে।

কর্নওয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর স্টিফেন ইয়েল লোয়ার পিসিএস নিউজ আ্ওয়ার নামের একটি টিভি শোতে বলছিলেন, ‘সিলিকন ভ্যালির যত বিশ্ব নেতৃত্বের ব্যবসা আছে তার অর্ধেকের বেশি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে অভিবাসীদের বা বিদেশি শ্রমিক যারা এই দেশে এসেছিল কাজের ভিসা নিয়ে, তাদের দ্বারাই। এটা ভুলে গেলে চলবে না আমেরিকাকে। এ কারণে বিদেশি দক্ষ কর্মী নিয়োগ বন্ধ করা মানেই হলো আমেরিকার অভিনবত্বেও দুয়ার রুদ্ধ করা।’

আর ক্যালিফোনিয়ার ধনকুবের মার্ক কিউবান বলছেন, ‘ট্রাম্পের এই নীতির কারণে, আমেরিকার শ্রম দক্ষতা বিনষ্ট হবে। কেননা, এতদিন আমেরিকার শ্রম বাজারের নীতি ছিল যে বেশি দক্ষ সেই পাবে চাকরি। এখন, চাকরি-প্রাপ্তির ক্ষেত্রে শুধু আমেরিকান হলেই যদি তার যোগ্যতা নিরুপিত হয়ে যায়, তাহলে ওই মানুষটি তার নিজেকে উন্নত করতে চাইবে না কখনই। এভাবে আমেরিকার উৎপাদনশীলতা নষ্ট হয়ে য্ওায়ার আশঙ্কা তৈরি হবে’।

এসব বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই যে আমেরিকার এগিয়ে যাওয়ার জন্যেই দরকার এইচওয়ানবি ভিসার। এটা বন্ধ করলে উন্নতিই বন্ধ হবে।

উল্লেখ্য, ট্রাম্পের অভিবাসন নীতির কারণে এ বছর এইচওয়ানবি ভিসার আবেদন কম জমা পড়েছে। এ বছর এক লাখ ৯৯ হাজার আবেদন জমা পড়েছে। গত বছর এই সংখ্যা ছিল দুই লাখ ৩৬ হাজার।

এসএ/এসবি

print
 

আলোচিত সংবাদ