খালেদার অনুপস্থিতিতে কেমন চলছে বিএনপি?

ঢাকা, শুক্রবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ৯ ফাল্গুন ১৪২৬

খালেদার অনুপস্থিতিতে কেমন চলছে বিএনপি?

মাহমুদুল হাসান ৮:৩২ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ০৭, ২০২০

খালেদার অনুপস্থিতিতে কেমন চলছে বিএনপি?

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারাবন্দির দুই বছর পূর্ণ হচ্ছে শনিবার। গত দুই বছরে খালেদাবিহীন বিএনপি কেমন আছে? রাজনৈতিক ও দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে তার অনুপস্থিতিতে কোন শূন্যতা তৈরি হয়েছে কি? এটা নিয়ে এখন আর কোন উত্তর খুঁজতে চান না দলটির তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।

বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সদ্য সমাপ্ত ঢাকা সিটি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপির আন্দোলনের হাঁকডাক, নির্বাচনের আগের রাতেই ফিকে হয়ে যায়। ভোটের দিন ঢাকা মহানগরীর দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের মাঠে পাওয়া যায়নি। এছাড়া অনেকেই আবার নিজের ভোট দিতে কেন্দ্রেও যাননি।

ভোটের কেন্দ্র পাহারা দেয়ার ঘোষণা থাকলেও দুই সিটিতে বিএনপির মনোনিত দুই মেয়র প্রার্থী ছাড়া কাউকে ভোট কেন্দ্রের আশপাশে দেখা যায়নি। যার প্রভাব পড়ে নির্বাচনের পর ডাকা হরতালের কর্মসূচিতেও। নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সিনিয়র নেতাদের বিক্ষোভ ছাড়া এদিন নগরীতে কোনো সক্রিয় ভূমিকা দেখা যায়নি।

বিএনপির এই সংকটের শুরু একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে চরম পরাজয় বরণের মধ্য দিয়ে। এছাড়া বিভিন্ন সময় হুঙ্কার দিয়েও খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিএনপি জোরালো কোনো আন্দোলন গড়ে তুলতে পারেনি। শুধু তাই নয়, নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলেও তা নিয়ে রাজপথ উত্তপ্ত করতে পারেনি। সিটি নির্বাচনের ফলাফল বাতিল করে নতুন নির্বাচনের দাবি জানালেও সরকারকে চাপে রাখতে পারেনি। বিএনপি এখন কি করবে এমন প্রশ্ন এখন দলের নেতাকর্মীদেরও।

শনিবার খালেদা জিয়ার কারাবাসের দুই বছর পূর্ণ হচ্ছে। বিগত দুই বছরে তার মুক্তির দাবিতে কার্যকর কোন আন্দোলন গড়ে তুলতে পারেনি দলটি। এ নিয়ে দলের নেতাকর্মীদের মাঝে চলছে নানা সমালোচনা। বর্তমানে খালেদা জিয়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

গত ২৫ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল (বিএসএমএমইউ) বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে তার সঙ্গে সাক্ষাত শেষে খালেদা জিয়ার বোন সেলিমা ইসলাম জানিয়েছেন, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে কবে নাগাদ খালেদা জিয়া মুক্তি পেতে পারেন সে বিষয়ে বিএনপির নেতারা স্পষ্ট করে কিছু বলতে পারছেন না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, আদালতের ওপর ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের সরাসরি হস্তক্ষেপের কারণে আইনি প্রক্রিয়ায় নেত্রীকে মুক্ত করা সম্ভব হয়নি। তাছাড়া আন্দোলনের মাধ্যমে নেত্রীকে মুক্ত করার জন্য যে আন্দোলন গড়ে তোলার দরকার ছিল তা আমরা পারিনি বলে মানুষ মনে করছে। তবে এটা ঠিক না। কারণ একটা ফ্যাসিস্ট সরকার যখন ক্ষমতায় থাকে তখন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের পক্ষে কার্যকর গণআন্দোলন গড়ে তোলা সম্ভব হয় না।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের নির্যাতন-দমন নীতির কারণে সারাদেশে দলের নেতাকর্মীরা নির্যাতিত। তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত সব পর্যায়ের নেতাদের বিরুদ্ধে লক্ষ লক্ষ মামলা। এর বাইরে দেশে এখন বাক স্বাধীনতা নেই, কোথাও সভা-সমাবেশ করার মত স্বাধীনতা নেই। এ অবস্থা মোকাবেলা করে আন্দোলন গড়ে তোলা অসম্ভব। তবে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাবো।

আইনি প্রক্রিয়ায় খালেদা জিয়ার মুক্তি সম্ভব কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন বলেন, আমরা যেহেতু আইনজীবী সেহেতু আমরা আইনি প্রক্রিয়ায় চেয়ারপারসনের মুক্তির জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাবো। এর বিকল্প কিছু দেখছি না। 

খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য মানবিক বিবেচনায় জামিন চেয়েছিলেন তার আইনজীবীরা। এ বিষয়ে গত বছরের ১২ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে শুনানি হয়। শুনানি শেষে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন খারিজ করে দেয়া হয়।

জামিন আবেদন খারিজ করলেও সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ পর্যবেক্ষণে বলেন, যদি আবেদনকারী (খালেদা জিয়া) প্রয়োজনীয় সম্মতি দেন, তাহলে মেডিকেল বোর্ড দ্রুত তার অ্যাডভান্স ট্রিটমেন্টের (বায়োলজিক এজেন্ট) জন্য পদক্ষেপ নেবে, যা বোর্ড সুপারিশ করেছে।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি নিন্ম আদালত খালেদা জিয়াকে ৫ বছরের সাজা দেন। ওই দিনই তাকে পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়া হয়। গত বছরের ১ এপ্রিল খালেদা জিয়াকে বিএসএমএমইউতে আনা হয়। এখন পর্যন্ত তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

খালেদা জিয়াকে কারাগারে নেওয়ার পর থেকে বিএনপি কিছুদিন লাগাতার অনশন, সভা-সমাবেশ, মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সক্রিয় আন্দোলন থেকে সরে আসে বিএনপি। ঘরোয়া সভা সমাবেশে খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করে আসছে নেতারা।

গত ২৫ জানুয়ারি খালেদা জিয়ার সঙ্গে বিএসএমএমইউতে সাক্ষাত করেন তার পরিবারের সদস্যরা। সাক্ষাত শেষে খালেদা জিয়ার বোন সেলিমা ইসলাম উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়েছে। আমরা ভাবছি তার উন্নত চিকিৎসার জন্য সরকারের কাছে আবেদন করবো।

খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজনে কবে নাগাদ সরকারের কাছে আবেদন করা হবে-এমন এক প্রশ্নের জবাবে সেলিমা ইসলাম বলেন, কবে নাগাদ আবেদন করবো, তা এখনও ঠিক করিনি। কারণ, এভাবে বেশি দিন চললে খালেদা জিয়াকে জীবিত অবস্থায় বাসায় নিয়ে যেতে পারবো না। যেকোনও সময় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে।

কর্মসূচি: খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে তার কারাবাসের দুই বছর পূর্তিতে সমাবেশ করবে বিএনপি। শনিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশের অনুমতি দিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।

বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী সাংবাদিকদের বলেন, সমাবেশ করার অনুমতির জন্য ডিএমপি কমিশনার মো. শফিকুল ইসলামকে আমরা চিঠি দিয়েছিলাম। আজকে তাদের পক্ষে থেকে সমাবেশ করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। আগামীকাল শনিবার দুপুর ২টা থেকে সমাবেশ শুরু হবে।

এছাড়া ‘রাজনৈতিক এবং ষড়যন্ত্রমূলক’ মামলায় খালেদা জিয়ার দুই বছর কারাবাস ও তার মুক্তির দাবিতে প্রতিবাদ সভা করবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। শনিবার বেলা ১১ টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির নসরুল হামিদ মিলনায়তনে  এ সভা  অনুষ্ঠিত হবে।

প্রতিবাদ সভায় সভাপতিত্ব করবেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ও গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন। বক্তব্যে  দেবেন, জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, বিকল্প ধারা বাংলাদেশ (একাংশ) এ সভাপতি অধ্যাপক ড. নুরুল আমিন বেপারী।

এমএইচ/পিএসএস

 

রাজনীতি: আরও পড়ুন

আরও