বড় পরিবর্তন আসছে আ’লীগের কমিটিতে

ঢাকা, শনিবার, ২৫ জানুয়ারি ২০২০ | ১২ মাঘ ১৪২৬

বড় পরিবর্তন আসছে আ’লীগের কমিটিতে

সালাহ উদ্দিন জসিম ১০:৫৭ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৫, ২০১৯

বড় পরিবর্তন আসছে আ’লীগের কমিটিতে

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত ‘শুদ্ধি অভিযান’ সারাদেশে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। দলমত নির্বিশেষে জনসাধারণ এ অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছে। দেশের ইমেজ বাড়াতে ও সামাজিক অসঙ্গতিগুলো দূর করতে শেখ হাসিনা নিজ ঘর থেকেই শুরু করেছেন এ অভিযান। সহযোগী সংগঠনগুলো ছাপিয়ে এটি এখন চলছে তৃণমূল আওয়ামী লীগেও। আসন্ন সম্মেলনে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের কমিটি গঠনেও থাকবে এই অভিযানের প্রভাব।

আসছে ২০-২১ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় সম্মেলন। ইতিমধ্যে দাওয়াত কার্ড, পোস্টার, কাউন্সিলর ও ডেলিগেট কার্ড তৈরি, গঠনতন্ত্র ও ঘোষণাপত্র প্রণয়ন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পাল তোলা নৌকায় সভামঞ্চ তৈরিসহ সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। চার কোটি টাকা ব্যয়ে করা সম্মেলনের আয়োজনটি এবার সাদামাটা হলেও কমিটি গঠনে থাকবে মূল চমক। এখানেই হবে ভাঙা-গড়ার খেলা। কপাল কারো পুড়বে, কারো খুলবে।

সূত্র বলছে, দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা চান আগামীর সরকার ও দলে পথচলা মসৃণ করতে এবং দলকে জনগণের কাছে আরও গ্রহণযোগ্য করে তুলতে স্বচ্ছ ও পরিচ্ছন্ন ইমেজের নেতৃত্ব। যাদের হাত ধরে আওয়ামী লীগের রূপকল্প ২০২১ এর মতো ২০৪১ বাস্তবায়ন হবে। এ জন্য তুলনামূলক তরুণদের থাকবে প্রধান্য।

সর্বশেষ জাতীয় কমিটির সভায় জেলা নেতারা স্বচ্ছ ও পরিচ্ছন্ন নেতৃত্বের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন। তারা চান শেখ হাসিনা যেন থাকেন দলটির নেতৃত্বে, আর তার সঙ্গে সৎ, দুর্নীতিমুক্ত আদর্শিক নেতৃত্ব যেন কেন্দ্রীয় কমিটিতে স্থান পায়।

২০০৮ সালে ক্ষমতায় আসার পর ২০০৯ এর সম্মেলনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে বেশ পরিবর্তন চোখে পড়ে। এর পর ২০১২-তে রদলবদল ছাড়া তেমন পরিবর্তন হয়নি। সাধারণ সম্পাদক, একজন যুগ্ম-সম্পাদক, একজন সাংগঠনিক সম্পাদক, কয়েকজন সম্পাদক ও সদস্য পদে নতুন করে পদায়ন ছাড়া তেমন পরিবর্তন হয়নি ২০১৬ সালের সম্মেলনেও। যেহেতু আওয়ামী লীগ ভিশনারি একটি দল, সুদূরপ্রসারী ভিশন বাস্তবায়নে এবার তারা হয়তো নেতৃত্বে আমূল পরিবর্তন আনবে, এমনটিই ধারণা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।

আওয়ামী লীগ নেতারাও বলছেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার ও সরকারের বাইরে ভালো করার অন্যতম কারণ হচ্ছে, এটি তারুণ্যনির্ভর দল। ৭০ বছরে এসেও আওয়ামী লীগ তার তারুণ্য ধরে রেখেছে। আগামীর নেতৃত্বও তারুণ্যনির্ভর হবে।’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের নেতৃত্ব নির্বাচনের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগে একমাত্র অপরিহার্য শেখ হাসিনা। তিনি আমাদের সভাপতি। সভাপতি ছাড়া যেকোনো পদে পরিবর্তন আসতে পারে। তবে সব সম্মেলনে কমিটিতে নবীন-প্রবীণের সমন্বয় করা হয়, এবারও তাই হবে।’

তিনি বলেন, পারফরম্যান্স বিবেচনায় এবার পদায়ন করা হবে। নিষ্ক্রিয় ও তুলনামূলক কম পারফরম্যান্সকারীরা বাদ যাবে।

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, আওয়ামী লীগের সম্মেলনে নতুন মেসেজ জাতি জানতে চায়। আমাদের গত তিন বছরের কাজের হিসাব এবং আগামী তিন বছরের পরিকল্পনার সমন্বয়ে ঘোষণাপত্র প্রস্তত হয়েছে। এটিই বড় মেসেজ। আর আওয়ামী লীগে তো স্থায়ী নেতৃত্ব। আওয়ামী লীগ সব সময় তার তারুণ্য ধরে রেখেছে। যার কারণে সরকার ও সরকারের বাইরে ভালো করে আসছে। ভবিষ্যতেও তারুণ্যনির্ভর হবে আওয়ামী লীগ।’  

যেসব পদে আসছে পরিবর্তন

দলীয় সূত্র বলছে, আওয়ামী লীগের বর্তমান কমিটির ১৭ জন প্রেসিডিয়ামের পরিবর্তে আছেন ১৪ জন। এদের মধ্যে অনেকে নিষ্ক্রিয়। এবার অন্তত ৫ জন বাদ যাবেন। তাদের জায়গায় যুগ্ম-সম্পাদক ও উপদেষ্টা পরিষদ, সম্পাদক ও সদস্য পদের বেশ কয়েকজন নতুন মুখ আসতে পারে। উপদেষ্টা পরিষদে আছেন ৪৪ জন। এদের সঙ্গে বয়সের ভারে নূব্জ কয়েকজনকে নতুন করে প্রেসিডিয়াম সদস্য করা হবে।

এদিকে, সাধারণ সম্পাদক পদে ওবায়দুল কাদেরের থাকার সম্ভাবনাই বেশি। ওই পদে তিনি না থাকলে তাকে ফের প্রেসিডিয়ামে নেয়া হতে পারে। যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক পদে আসছে বেশ পরিবর্তন। ওই পদে তিনজনই গত তিন মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেছেন। দুইজনের প্রমোশন ও একজনের ডিমোশন হতে পারে এবার। এ ছাড়াও ১৯ সম্পাদকের মধ্যে অন্তত ৭/৮ জন নতুন মুখ দেখা যেতে পারে।

সাংগঠনিক সম্পাদক পদেও ৮ জনের ৭ জনই গত তিন মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাদের দুই থেকে তিনজন প্রমোশন পাবেন, দুইজনকে সদস্য পদে ডিমোশন দেয়া হবে, বাকিদের কেউ স্বপদে থাকবেন এবং কেউ বাদ পড়বেন।

২৬ সদস্যের অনেকে নিষ্ক্রিয়তার কারণে বাদ পড়বেন, কারো জায়গা হবে প্রেসিডিয়ামে বা উপদেষ্টা পরিষদে। দুই-একজন সক্রিয় সদস্য সাংগঠনিক ও সম্পাদকীয় পদ পাবেন।

দলীয় সূত্র বলছে, সব মিলিয়ে এবারের সম্মেলনে বেশ পরিবর্তন আসবে নেতৃত্বে। নির্বাচন কমিশনের বেধে দেয়া নিয়ম অনুযায়ী ৩০ শতাংশ নারী নেতৃত্ব এবং সুদূরপ্রসারী রাজনীতির পরিকল্পনায় তারুণ্যের প্রধান্য থাকবে। গত এক দশকে দলের নানা কাজে সক্রিয় কিছু চেনামুখকেও দেখা যাবে নতুন কমিটিতে। এদের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী ও পেশাজীবীকেও দেখা যেতে পারে।

গণভবন সূত্র বলছে, সব নেতার ফাইল ইতিমধ্যে সভাপতির হাতে। তিনি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তাদের ফাইল দেখছেন, অতীত ও বর্তমান মিলিয়ে নিচ্ছেন। হিসাব কষছেন ভবিষ্যত নেতৃত্বের। কোনো দুর্নীতিবাজ ও তাদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখে- এমন কাউকে এবার নেতৃত্বে দেখা যাবে না।

এসইউজে/আরপি

 

পরিবর্তন বিশেষ: আরও পড়ুন

আরও