তৎপর রাজনীতির ‘অতিথি পাখিরা’ (পর্ব ১)

ঢাকা, শুক্রবার, ২৫ মে ২০১৮ | ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫

তৎপর রাজনীতির ‘অতিথি পাখিরা’ (পর্ব ১)

মাহমুদুল হাসান ৯:২১ অপরাহ্ণ, মে ১৬, ২০১৮

print
তৎপর রাজনীতির ‘অতিথি পাখিরা’ (পর্ব ১)

নির্বাচন এলেই কিছু নামধারী রাজনৈতিক ব্যক্তির তৎপরতা বেড়ে যায়। সে জাতীয় নির্বাচন হোক কিংবা স্থানীয় নির্বাচন- যেনতেনভাবে ক্ষমতার ভাগিদার হওয়াই তাদের লক্ষ্য। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সেই সব ‘সুযোগ সন্ধানী’ ব্যক্তিদের তোড়জোড় শুরু হয়ে গেছে রাজনৈতিক অঙ্গনে। ইতোমধ্যে দু-একটি নতুন জোটেরও আত্মপ্রকাশ হয়েছে!

রাজনৈতিক মাঠে কেউ কেউ আবার প্রস্তাবিত প্রতীক নিয়ে প্রচারণাও চালাচ্ছেন। এসব নাম সর্বস্ব দল কিংবা জোটের লক্ষ্য, বড় রাজনৈতিক দল বা জোটের সঙ্গে জোট বেঁধে নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়া কিংবা ক্ষমতার কাছাকাছি থাকা।

নির্বাচন কমিশন থেকে নিবন্ধনের জন্য চলতি বছরের শুরুতে আবেদন জমা পড়েছে। এর মধ্যে নাগরিক ঐক্যও রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধনের আবেদন করেছে।

এছাড়া বাংলাদেশ লেবার পার্টি, বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টি, বাংলাদেশ গণআজাদী লীগ, জাতীয় গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এমডিএম), বাংলাদেশ ডেমোক্রেটিক মুভমেন্ট, বাংলাদেশ মঙ্গল পার্টি, আম জনতা খেলাফত পার্টি (এজেকেপি) এবং বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা জোট, বাংলাদেশ ইউনাইটেড ইসলামী পার্টি, বাংলাদেশ জনতা পার্টি, গণতান্ত্রিক ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি উল্লেখযোগ্য।

এসব দলের অধিকাংশেরই নিজস্ব অফিস নেই। সাইন বোর্ড ও নাম সর্বস্ব এসব দল। এ দলগুলোর জনগণের দায়বদ্ধতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই।

এ বিষয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নতুন নতুন দলের আবির্ভাব শুভ লক্ষণ নয়। আবেদন করা অনেক দলই নাম সর্বস্ব ও আদর্শহীন বলেই মনে হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন এসব দল নিবন্ধনের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকবে বলে আশা করি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজনীতিক কর্মীদের হাতে রাজনীতি না থাকলে সমাজ কুলষিত হয়। যাতে দেশ ও জনগণের কল্যাণ সাধিত হয় না। হুট করে রাজনীতিতে আসলে সহজে কেনাবেচা হয়।

বিশিষ্ট নাগরিক গণস্বাস্থ্যের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, রাজনীতিক কর্মীদের হাতে রাজনীতি না দেয়ার কারণে রাজনৈতিক শূন্যতা তৈরি হচ্ছে। এই ভাড়া করা লোক রাজনীতিতে সুযোগ পাওয়ার কারণে আজকে রাজনীতি কুলষিত হচ্ছে।

তিনি বলেন, যাকে-তাকে রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন দেয়া আমার মনে হয় ঠিক হবে না। তাতে সমাজের ক্ষতি ছাড়া কোনো লাভ হবে না।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক সাবেক তথ্যমন্ত্রী ড. মিজানুর রহমান শেলী পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, এটা বহুকাল ধরে চলছে। অনেক রাজনৈতিক দল আছে যারা নাম সর্বস্ব, প্যাড সর্বস্ব। ৭০ দশকে অনেক রাজনৈতিক দল নাম ফাইলবন্দি করেছিল। তারাই আবার চাঙ্গা হয়ে উঠছে।

তিনি বলেন, নির্বাচনী বছরে এসব দল বা জোট চাঙ্গা হয়ে উঠে। বড় বড় জোটে যাওয়ার জন্য- সুবিধা আদায় করার জন্য।

রহমান শেলী বলেন, ছোট ছোট দলের নেতারা বড় দলের প্রতীক নিয়ে পাস করে মন্ত্রীও হয়েছেন। সুতরাং এই সুযোগটা যেখানে রয়েছে সেটা করবেন না কেন? যখন সংগঠিত রাজনীতি না থাকে দেশে তখনই এমনটা হয়।

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, আমার মূল লক্ষ্য হচ্ছে একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠন করা। বড় দুই দলের বাইরে তৃতীয় একটা শক্তি গড়ে তোলার জন্য কাজ করছি।

নতুন নতুন দলের নিবন্ধন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মন্ত্রী-এমপি হতে হলে কোনো নিবন্ধন লাগবে না। এখানে ছোট বড় দল বলে কোনো কথা নয়, আমার যতটুকু শক্তি আছে তা নিয়ে রাজনীতির গুণগত পরিবর্তনের জন্য কাজ করছি- এটাই আমরা লক্ষ্য। নতুন নতুন দল গঠন করলেই সব কিছু হয়ে যাবে না। লক্ষ্যটা পরিষ্কার থাকতে হবে।

এমএইচ/এসবি/এমএসআই

 
.

Best Electronics Products



আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad