লংগদুর অগ্নিদুর্গতরা ঘর পাবে কবে?

ঢাকা, শনিবার, ২৬ মে ২০১৮ | ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫

লংগদুর অগ্নিদুর্গতরা ঘর পাবে কবে?

প্রান্ত রনি, রাঙ্গামাটি প্রতিবেদক ৬:৫১ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১০, ২০১৮

print
লংগদুর অগ্নিদুর্গতরা ঘর পাবে কবে?

রাঙ্গামাটির লংগদু উপজেলায় পাহাড়িদের ঘরবাড়িতে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের মাধ্যমে ১৭৬টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে বসতঘর করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয় সরকার। কিন্তু প্রথমবার দরপত্র আহবান করা হলেও কোন দরপত্র জমা না পড়ায় পরবর্তীতে আবারও দরপত্র আহবান করা হয়। কিন্তু গত ৪ ফেব্রুয়ারি দরপত্র জমা কেনার শেষ দিন চলে যায়। পরদিন ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কোন দরপত্র জমা পড়েনি।

তবে দরপত্র জমা না পড়ায় আবারো আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পে চিঠি দিয়েছেন বলে পরিবর্তন ডটকমকে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোসাদ্দেক মেহ্দী ইমাম। তিনি জানান, দরপত্র আহবানের দ্বিতীয়বারেও কোন দরপত্র জমা পড়েনি। দরপত্র জমা না পড়ার বিষয়টি আমরা প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পে ৫ তারিখ বিকেলে চিঠি পাঠিয়ে দিয়েছি। এখন পরবর্তী নির্দেশনা পেলে আমরা ব্যবস্থা নিব।

এদিকে, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো যেমনি বর্ষা কাটিয়েছে আশ্রয়কেন্দ্রে। এখন ছেলে-মেয়ে পরিবার নিয়ে দিন কাটাচ্ছে ভাড়া কিংবা আত্নীয় স্বজনের ঘরে। কেউ কেউ এখনো আছেন লংগদু বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের আশ্রয়কেন্দ্রে। সরকারের দেয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ঘরবাড়ি পাবে কিনা এই নিয়ে উদ্বেগ-উৎকন্ঠায় ভূগছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো।

অগ্নিদুর্গতদের অভিযোগ, দু'তিন বার করে দরপত্র আহবান না করে সরকার টাকা দিয়ে দিলে এত দিন আমাদের ভাড়া বাসায় ছেলে-মেয়ে নিয়ে থাকতে হতো না।

২৪ নং মাইনি মৌজার হেডম্যান ও ক্ষতিগ্রস্ত মানিক কুমার চাকমা পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, মূলত বর্তমান বাজারের সাথে দরপত্রের বাজেটের মিল নেই। সব ঠিকাদারই লাভের আশায় দরপত্র কিনেন। এখানে লাভ না হওয়ার আশঙ্কায় কেউই সিডিউল কিনছেন না। দীঘিনালা থেকে এখানে ইট আনতে লাগে দশ টাকা (প্রতি পিস), কিন্তু দরপত্রে তা ধরা হয়েছে সাড়ে আট টাকা। আর লংগদুতে ৬০০ টাকা ফুট দরে কোন গাছ পাওয়া যায় না।

তিনি আরও বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ক্ষোভ জমে গেছে। শীত যাচ্ছে আবার বর্ষা আসবে, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো কী করবে কিছুই জানিনা। তারপরও আমরা সবাইকে বলছি যেহেতু একটা দুর্ঘটনা ঘটে গেছে সেহেতু আরো কিছুদিন ধৈর্য ধরতে। 

লংগদু উপজেলা জনসংহতি সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও ক্ষতিগ্রস্ত মনি শংকর চাকমা পরিবর্তন ডটকমকে জানান, দিন দিন পাহাড়ি পরিবারগুলোর মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হচ্ছে। এভাবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো শঙ্কার মধ্যে আর কত কাটাবে? কেবল ইউএনও স্যারের আন্তরিকতায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো সহ্য করে আছে। এভাবে দিন যেতে লাগলে তারা আন্দোলনে যেতে পারে।

কেন দরপত্র জমা পড়ছে না এমন প্রশ্নে মনি শংকর বলেন, দরপত্রের সাথে বাজার মূল্যের মিল না হওয়াতে, লোকশানের দিক ভেবে হয়তবা কেউ দরপত্র জমা করছেন না। তবে প্রথমবারে দরপত্রে রার্নিং বিল না থাকলেও দ্বিতীয়বারে তা ছিলো, কিন্তু তারপরও দরপত্র জমা পড়েনি।

রাঙ্গামাটির জেলা প্রশাসক মানজারুল মান্নান পরিবর্তন ডটকমকে জানিয়েছেন, আসলে বিষয়টি অনেক মানবেতর। দ্বিতীয়বার দরপত্র আহবানেও কোন দরপত্রই জমা পড়েনি। এ বিষয়ে ইউএনও চিঠি পাটিয়েছেন। আমরা পরবর্তী সিদ্ধান্ত পেলে আবারো দরপত্র আহবান করবো।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সদস্য বাঞ্ছিতা চাকমা পরিবর্তন ডটকমকে জানিয়েছেন, রাষ্ট্রের কোন নাগরিকের ক্ষয়ক্ষতি হলে রাষ্ট্রকেই তার দায়িত্ব নিতে হয়। আমি রাষ্ট্রের কাছে আহবান করছি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো যেন তাদের ঘরবাড়ি ফিরে পায়।

স্থানীয় সংসদ সদস্য উষাতন তালুকদার পরিবর্তন ডটকমকে জানিয়েছেন, এই বিষয়টা অনেক বিলম্ব হয়ে গেছে। আর ঠিকাদাররা যেহেতু লাভের আশাকে কেন্দ্রে করে দরপত্র কিনছেন না, তাতে আমি মনে করি ক্ষতিগ্রস্তদের সাথে আলাপ করে ইউএনও স্যারের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ঘরবাড়ি করার জন্য টাকা দিয়ে দিলেই ভালো হবে।

উল্লেখ্য, খাগড়াছড়ি-দীঘিনালা সড়কের চার মাইল এলাকা থেকে গত ১ জুন (২০১৭) তারিখে লংগদু সদর ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়নের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরদিন ২ জুন সকাল নয়নের জানাজা থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলের মধ্য থেকে স্থানীয় বাঙালিরা উপজলার তিনটি পাহাড়ি গ্রামে অগ্নিসংযোগ করে। এতে প্রায় দু'শতাশিক পাহাড়ি পরিবারের বসতঘর পুড়ে যায়।

পিআর/আরজি

 
.

Best Electronics Products



আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad